আনন্দবাজার পত্রিকার রিপোর্ট

ভারতে প্রধান বিচারপতিকে চার বিচারপতির চ্যালেঞ্জ

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটালেন সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ চার বিচারপতি। দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন ডেকে প্রকাশ্যে আঙুল তুললেন দেশের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের বিরুদ্ধে। শীর্ষ আদালতে মামলা বণ্টন, বিচারপতিদের নিয়োগ থেকে শুরু করে আরো নানা বিষয়ে গরমিলের অভিযোগ তুললেন তারা। মুখ খুললেন ‘বিচার বিভাগের ভেতরে দুর্নীতি’ নিয়েও। তারা প্রধান বিচারপতির কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, যেভাবে তিনি আদালত চালাচ্ছেন, তা ভারতের গণতন্ত্রকেই হুমকির মুখে ফেলে দেবে।
সাম্প্রতিক কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সি এস কারনানের ঘটনা শোরগোল ফেলে দিয়েছিল গোটা দেশে। বিচারপতিদের দুর্নীতি নিয়ে মুখ খুলে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে, জেল পর্যন্ত খাটতে হয়েছে কারনানকে। এ দিনের ঘটনা ধারে এবং ভারে তাকেও ছাপিয়ে গেল।
গতকাল শুক্রবার দিল্লিতে বিচারপতি জে চেলামেশ্বরের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন হয়। ওই বৈঠকে চেলামেশ্বর ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি কুরিয়েন জোসেফ, বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এবং বিচারপতি মদন লোকুর। এই চারজনই প্রবীণ বিচারপতি। উল্লেখ্য, প্রধান বিচারপতির নিজের যে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ, এই চারজনই তার সদস্য।
বিচার বিভাগে দুর্নীতি এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে অনেক দিন ধরেই একটা চাপা অসন্তোষ চলছিল। এবার সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ওই চার বিচারপতি।
দেশের শীর্ষ আদালতের প্রশাসনিক েেত্র একটা গড়বড় চলছে, এ কথা জানিয়ে প্রধান বিচারপতিকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে দাবি করেন বিচারপতিরা। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ‘ব্যর্থ’ হয়।
বিচারপতি চেলামেশ্বর বলেন, ‘আদালতের প্রশাসনিক বিষয়টি জানাতে প্রধান বিচারপতির সাথে দেখা করেছিলাম। তাকে জানানো হয়েছিল কোনো কিছুই ঠিকঠাক চলছে না। কোনো রকম নিয়ম না মেনেই গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল মামলাগুলো জুনিয়র বিচারপতিদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে। এর একটা বিহিত দরকার। কিন্তু দুর্ভাগ্য এটাই যে, আমাদের সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।’ চার বিচারপতি বলেন, বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে ধরা ছাড়া অন্য কোনো পথ ছিল না। কারণ যদি বিচার বিভাগে নিরপেক্ষতা না থাকে তাহলে গণতন্ত্রেরই অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।
গণতন্ত্রের অস্তিত্ব সঙ্কটের আশঙ্কা প্রকাশ করে বিচারপতি জে চেলামেশ্বরের মন্তব্য, এখন দেশ ঠিক করুক প্রধান বিচারপতিকে ইমপিচ করা উচিত কি না।
বিচার বিভাগকে নিয়ে এই অভূতপূর্ব সঙ্কটের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদের সাথে জরুরি বৈঠকে বসেন বলে জানা গেছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.