হাড়কাঁপুনি শীত সারা দেশে শৈত্যপ্রবাহ পাঁচ বিভাগে আরো ১০ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

হাড়কাঁপুনি শীত এখনো সারা দেশে। তাপমাত্রা উঠছে ওপরের দিকে কিন্তু তা খুবই ধীরগতিতে। সাইবেরিয়া থেকে যে শীতল বায়ু বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল এর গতিও কমে এসেছে। এ শীতল বায়ুপ্রবাহ বর্তমানে বাংলাদেশের সীমা থেকে কিছুটা ওপরের দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি ঠাণ্ডা পড়ার আশঙ্কা নেই। হিমশীতল বায়ুপ্রবাহ ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে আরো উন্নতি হবে।
প্রচণ্ড শীতে দরিদ্র মানুষের কষ্টের সীমা নেই। দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতির এ সময়ে খাবার জোগাড় করাই অনেকের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাদের পক্ষে শীত নিবারণের জন্য নতুন করে গরম কাপড় অথবা কম্বল কেনা সম্ভব নয়। রাতে শীত দূর করার জন্য আগুনই তাদের ভরসা। তবে সারা রাতই না ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিতে হয় তাদের। শীতের তীব্রতায় গতকাল সাতক্ষীরা, আত্রাই, রংপুর ও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এ প্রসঙ্গে হাওয়াই বিশ^বিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি এবং জয়েন্ট ইনস্টিটিউট ফর মেরিন অ্যান্ড অ্যাটমসফেরিক রিসার্চের প্যাসিফিক ইনএনএসও অ্যাপ্লিকেশন ক্লাইমেট সেন্টারের প্রধান গবেষণা বিজ্ঞানী ড. রাশেদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ এল-নিনো বা লা-নিনার দ্বারা যথেষ্ট প্রভাবিত। লা-নিনা সাধারণত এপ্রিল, মে অথবা জুন মাসে গঠিত হয় ও আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর অথবা নভেম্বর মাসে সর্বোচ্চপর্যায়ে পৌঁছে। কিন্তু এবারের লা-নিনা শীতকালীন এবং এটা গঠিতই হয়েছে অক্টোবর মাসে। অক্টোবর মাসে লা-নিনা গঠন হলে শীতকালে সাধারণত স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঠাণ্ডা পড়ে। বাংলাদেশে এবারের শীতে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা হওয়ার এটাই কারণ বলে আমি মনে করি। বিজ্ঞানী রাশেদ চৌধুরী বর্তমান শীত প্রসঙ্গে আরো বলেন, লা-নিনার সাথে বিজ্ঞানীরা আর্কটিক সার্কোলেশন (মেরু অঞ্চলের শীতল বায়ুর আন্দোলন) বাংলাদেশের জলবায়ু অথবা আবহাওয়াকে প্রভাবিত করে থাকতে পারে।
গতকাল রাজশাহী বিভাগের বদলগাছিতে ছিল দেশের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গায় ৬.৮ ডিগ্রি ও লালমনিরহাটে ৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। দেশের অন্যান্য স্থানে তাপমাত্রা সাড়ে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল। এটা নি¤œ তাপমাত্রার উন্নতি। গত বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে নি¤œ তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। নি¤œতাপমাত্রার দিক থেকে গতকাল সিলেটে ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শ্রীমঙ্গলে এতদিন শৈত্যপ্রবাহের আওতায় থাকলেও গতকাল ছিল অনেকটা উষ্ণ। সেখানে নি¤œ তাপমাত্রা ছিল ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এ দিকে রাজধানী ঢাকায় সামান্য করে হলেও গতকাল তাপমাত্রা আগের দিন বৃহস্পতিবারের চেয়ে কমেছে। এর কারণ হিসেবে আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, ঢাকার পাশেই ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর জেলাগুলোতে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এটা আজ শনিবারও চলবে। এরই প্রভাব পড়েছে রাজধানীতে। তবে সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রার আরো উন্নতি হবে।
আজ শনিবার রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে এবং রাঙ্গামাটি, সিতাকুণ্ড, চাঁদপুর, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও হাতিয়ায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়বে এবং দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আরো দুই দিন তাপমাত্রা উন্নতির দিকে যাবে। সারা দেশে মাঝারি ধরনের কুয়াশা শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত পড়তে পারে। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ঘন কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত থাকতে পারে।
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা জানান, সাতক্ষীরায় প্রচণ্ড শীতে শিশুদের শ^াসকষ্ট, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে গত কয়েক দিনে মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। এ ছাড়া ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগাক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে অন্তত ২৪৯ শিশু।
সাতক্ষীরার আশাশুনি সদর গ্রামের ইসমাইল হোসেন জানান, তার ছেলের বয়স ৬ দিন। প্রচণ্ড শীতে সে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। তাই আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জরুরি ভিত্তিতে তাকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখানে তিন দিন ধরে তার চিকিৎসা চলছে। এখন অবস্থা মোটামুটি ভালো।
সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকার আবদুল্লাহ জানান, তার ছেলের বয়স দেড় বছর। হঠাৎ গত ৭ জানুয়ারি সে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। বাড়িতে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। কিন্তু সুস্থ না হওয়ায় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নীলফামারী সংবাদদাতা জানান, নীলফামারীতে অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহ আর উত্তরের হিমেল বাতাসে জনজীবন কাহিল হয়ে পড়েছে। কনকনে ঠাণ্ডায় লোকজন ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না। সারা দিন ঘন কুয়াশায় আছন্ন থাকছে পথঘাট। গত দুই দিনে জেলার কোথাও সূর্য দেখা যায়নি। শীতবস্ত্রের অভাবে শীতার্ত মানুষ দিনভর খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছে বয়স্ক ও শিশুরা। সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের বাজার মৌজা গ্রামের খতেজা, গাছবাড়ী এলাকার লিয়াকত আলী, হারুনসহ অনেক শীতার্ত মানুষ জানালেন এখনো তারা সরকারি ও বেসরকারিভাবে কোনো শীতবস্ত্র পায়নি।
মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ঘন কুয়াশা, ঠাণ্ডা বাতাস ও হিমেল হাওয়ার কারণে মির্জাগঞ্জের শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। ঘন কুয়াশার চাদর ভেদ করে উঁকি দিতে পারছে না সূর্য। উপজেলা হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মির্জাগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আবার অনেকেই বহির্বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে যাচ্ছেন। হাড়কাঁপানো শীতের দাপটে কাহিল হয়ে পড়ছে বৃদ্ধ, নর-নারী ও শিশু-কিশোররা।
নোয়াখালী সংবাদাতা জানান, নোয়াখালী জেলার নয়টি উপজেলায় শৈত্যপ্রবাহে মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে চরমভাবে। জেলা সদর বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী, চাটখিল সেনবাগ কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলায় গত ১০ দিন প্রচণ্ড শীতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। রাতদিন ২৪ ঘণ্টা হিমেল হাওয়া বইতে থাকে। গতকাল বেলা ১১টা পর্যন্ত কুয়াশায় অন্ধকার ছিল এবং সূর্য দেখা যায়নি।
রানীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা জানান, নওগাঁর আত্রাইয়ে তীব্র শীতে নাসির উদ্দিন সরকার (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। নাসির উদ্দিন উপজেলার আহসানগঞ্জ ইউনিয়নের ঘোষপাড়া গ্রামের মৃত কায়েম উদ্দিন সরকারের ছেলে।
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, চলমান শৈত্যপ্রবাহে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় শীতজনিত রোগব্যাধির প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। আক্রান্ত রোগীদের বিলম্ব না করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
জানা যায়, ঈশ^রগঞ্জে রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৫ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ায় ২৮৮ জন, নিউমোনিয়ায় ১৫৬ ও অন্যান্য শীতজনিত ২০০ জন রোগী রয়েছেন। শুক্রবার সকাল থেকে বেলা পৌনে ১টা পর্যন্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ রোগী ভর্তি হয়।
ইসলামপুর (জামালপুর) জানান, দুই দফা বন্যা চরম দুর্ভোগের পর তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় জামালপুর ইসলামপুরের যমুনা-ব্রহ্মপুত্র পাড়ের বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। অর্থসঙ্কটে ঘরবাড়ি মেরামত করতে না পারা এসব অসহায় মানুষ প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রায় সপ্তাহকালের শৈত্যপ্রবাহ ও দিনভর ঘন কুয়াশায় ঘর থেকে বের হতে না পারায় যমুনার তীরবর্তী পাথর্শী, কুলকান্দী, বেলগাছা, চিনাডুলী, সাপধরী ও নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের সহস্রাধিক পরিবার এবং ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী গোয়ালের চর, গাইবান্ধা, চরপুটিমারী ও চর গোয়ালিনী ইউনিয়নের দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রা অচল এখন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, তীব্র শীত ও হিমেল হাওয়ায় রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রিপন (২৩), জান্নাতী (১৪), শিশু অভি ১১ মাস, নাজিরা ৯ মাস, ফুলপরী ১১ মাস, নাইম ১১ মাস ও রাতুল ১১ মাসসহ অর্ধশতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা জানান, টানা শৈত্যপ্রবাহে চরম দুর্ভোগে পড়েছে কুড়িগ্রামের মানুষ। ঘন কুয়াশা, কনকনে ঠাণ্ডা ও উত্তরীয় হিমেল হাওয়া অব্যাহত থাকায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরো জনপদ।
গতকাল জেলার সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম জেলার সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল ৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্যের দেখা না মেলায় তাপমাত্রা নি¤œগামী হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা জানান, দুই দিন ধরে কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের দেখা মিলছে না। গতকাল সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার ছিল ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল দুপুরের দিকে কিছুক্ষণের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও সারা দিন শহর ছিল কুয়াশায় ঢাকা। বইছে ৭-৮ কিলোমিটার বেগে হিমেল হাওয়া। প্রচুর মানুষ রাস্তার ধারে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, ছাতকের পল্লীতে হাওরের বোরো জমিতে ধানের চারা রোপণ করতে গিয়ে শীতের তীব্রতায় আব্দুল মনাফ (৬০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের চাউলী হাওরে বোরো ধানের চারা রোপণ করছিলেন তিনি। বিকেলে ঠাণ্ডাজনিত কারণে তার হাত-পা অবশ হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় কৈতক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়ায় প্রচণ্ড শীতে মানুষ জবুথবু হয়ে পড়ছে। কিন্তু সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে গরম কাপড় বিতরণ নেই।
বগুড়া আবহাওয়া অফিস জানায়, গতকাল সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সারা দিনই রোদের আলো দেখা যায়নি ও ঘনকুয়াশাচ্ছন্ন ছিল পরিবেশ।
সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, নীলফামারীর সৈয়দপুরে শীতের তীব্রতা আবারো বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। গতকাল সৈয়দপুরে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সারা দিন এ অবস্থায় বিরাজ করছে। সেইসাথে কনকনে ঠাণ্ডায় কাহিল হয়ে পড়ছে মানুষ। দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্যের দেখা না মেলায় এ সময়ে ঘনকুয়াশায় ঢেকে থাকছে পুরো জনপদ।
লালমনিরহাট সংবাদদাতা জানান, আট দিন ধরে দেশজুড়ে শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এর মধ্যে লালমনিরহাটে ৬৮ বছরের মধ্য দেশের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছিল।
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রচণ্ড শীতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে বারইয়ারহাট বাজার মোড়ে তিনি মারা যান। তার নাম মো: শাহজাহান (২৬)। তিনি উপজেলার দক্ষিণ মেহেদী নগর এলাকার তোতা মিয়ার ছেলে।
রংপুর অফিস জানায়, টানা হিমপ্রবাহে গতকাল একটি মুহূর্তের জন্যও সূর্যের দেখা পায়নি রংপুর বিভাগের মানুষ। অন্য দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আগুন পোহাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ আরো এক নারী মারা গেছেন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এ নিয়ে সাতজন মারা গেলেন অগ্নিদগ্ধ হয়ে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.