বামনায় ইউএনওর ক্লার্কের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা

গোলাম কিবরিয়া,বরগুনা

বরগুনার বামনা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ক্লার্ক মাহাবুব আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হয়েছে দুদকে। তিনি এ ক্লার্ক চাকুরী করে কিভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদ করেন এ অভিযোগে জনস্বার্থে এ মামলা করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. মো: রফিকুল ইসলাম। তার সম্পদ দেখে কোথায় পেলেন এত টাকা? এই সকল প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে বেরিয়ে আসে ক্লার্ক মাহাবুবের দুর্নীতির নানা তথ্য।
মামলা সুত্রে জানা যায়, বগুনার বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়া গ্রামের মৃত্যু মোহাব্বত আলী মল্লিকের পুত্র মাহাবুব। কর্মজীবনে তার প্রথম চাকুরি শুরু হয় সেনাবাহীনির সৈনিক পদে। এর কিছু দিন পরে সে সেনাবাহিনীর চাকুরী থেকে সে পালিয়ে আসে । এর কিছু দিন পর আবার ঢাকার রাইফেলস পাবলিক স্কুলের ক্লার্ক পদে চাকুরী নেয় নেন । কিছু দিন যেতে না যেতেই এই চাকুরীটিও ছেড়ে দেয় সে। পরে তিনি আবার সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ক্লার্কের পদে চাকুরীতে যোগদান করে। কিছুদিন না যেতেই আবার রহস্য জনক কারনে এই চাকুরীটিও ছাড়েন মাহাবুব। এর কিছু দিন পরে মাহাবুব নুতন করে ক্লার্ক হিসাবে বরগুনা ডিসি অফিসে । এ চাকুরীটি পাওয়া যেন ( গ্রাম্য ভাষায়) আলাউদ্দিনের আর্শ্চার্য প্রদীপ পেলেন। প্রথমে বরগুনা ডিসি অফিসের রেকর্ড রুমে থাকাকালে এই মাহাবুব ঘুষের টাকার জন্য অনেক গ্রাম-গঞ্জের গরীব অসহায় মানুষকে লাঞ্চিত করেছেন। এভাবে এর মাঝে মাহাবুব বরগুনা শহরের লাকুর তলায় জমি ক্রয় করে সেমি পাকা বাড়ি করেন। পরক্ষনে মাহাবুবের বদলী হয় পাথরঘাটা ইউএনও অফিসে সেখানেও সে গড়ে তোলেন দুর্নীতির আখরা। এর পরে তার বদলী হয় বামনা উপজেলায়। নিজ এলাকায় বদলী হয়ে মাহাবুব শুরু করেন ঘুষ খাওয়া । আরও শুরু হয় তার বেপরোয়া রীতি-নীতি। ইউএন ওর দপ্তরের সকল কাজেই তাকে ঘুষ দিতে হবে নইলে কাজ হবেনা, এই ঘুষের টাকার ভাগ নাকি ইউএনও সাাহেব কে দিতে হয় । মাহাবুব কে ঘুষ না দেওয়ায় শিক্ষক সহ অনেক পেশার মানুষকে অপমানিত হতে হয়েছে। সে এই ঘুষের টাকায় সম্পদের পাহাড় গড়েছেন । তার রয়েছে বরিশালে জমি, বরগুনায় বাড়ি, কুয়াকাটায় জমি, বরগুনার তালতলীতে জমি কিনেছেন প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের। বরগুনার মাদ্রসা সড়কে পোল্টি ফিডের দোকান, (শ্যালকের মাধ্যমে চালায়) ঢাকায় ফ্লাট, স্ত্রীর নামে ব্যাংকে টাকা, মানুষের প্রশ্ন মাহাবুব কত টাকা বেতন পান? সেই টাকা দিয়া দুই মেয়ে কে পড়াশুনা করানোর পরে কি করে মালিক হয় এই সম্পদের? বড় মেয়ে কে পড়িয়েছেন প্রাইভেটে ডেন্টাল ডাক্তারী। এখানেও তাকে ব্যায় করতে হয়েছে মোটা অংকের টাকা। এখন সাধারন মানুষের প্রশ্ন কোথায় পেলেন এই ক্লাক মাহাবুব এত টাকা? একজন ইউএন অফিসের ক্লার্ক ঘুষ, দুর্নীতি না করে কি করে এই বিশাল বিত্তর মালিক হন? মামলার পরে দুদকের অডিট টিম তার গ্রামের বুকাবুনিয়ার বাড়িতে গিয়ে চমকে যান। কেননা তার গ্রামে যে বাড়ীটি রয়েছেন বিদেশী ডিজাইনের। দেখলে মনে হয় এটি বাড়ি নয় যেন অট্রালিকার প্রসাদ। এই মাহাবুব বাড়ি সংলগ্ন আঙ্গিনায় করেছেন বাংলোবাড়ি, ডাক্তার মেয়ের জন্য আলাদা চেম্বার।
এবিষয়ে অভিযুক্ত ক্লার্ক মাহাবুব আলম বলেন, মামলায় উঠে আসা সম্পাদের সততা স্বীকার করেন। তিনি আরো বলেন আমি চাকুরীর টাকা থেকেই এ সম্পদ বানিয়েছি,দুর্নীতি করে নয়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.