আরব বসন্তের পর আরব বিশ্বের পরিস্থিতি আরো খারাপ
আরব বসন্তের পর আরব বিশ্বের পরিস্থিতি আরো খারাপ

আরব বসন্তের দেশে যা হচ্ছে

গার্ডিয়ান

আরব বসন্তের সূচনা হয়েছিল তিউনিসিয়া থেকে। সাত বছর আগে সেখানে বিপ্লবের যে স্বপ্ন দেখা হয়েছিল তার সাথে প্রাপ্ত ফলাফলে মিল কতটুকু? তিউনিসিয়া ও অন্য আরব দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ থেকে যে ফলাফল পাওয়া গেছে তা বরং আগের চেয়ে অনেক ভঙ্গুর।

যেসব ইস্যুকে কেন্দ্র করে তিউনিসিয়ার পর পর্যায়ক্রমে মিসর, লিবিয়া, বাহরাইন, ইয়েমেন ও সিরিয়ায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আগের মতো রয়ে গেছে। বিক্ষোভের পর বিক্ষোভে আরব দেশগুলোর স্বেচ্ছাচারী রাষ্ট্র কাঠামোয় যে পরিবর্তন এসেছিল, তা স্থায়ী হয়নি বরং যে নিরাপত্তাবাহিনী তাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম রক্ষা করে এসেছে তারাই অবতীর্ণ হয়েছে শাসক হিসেবে।

তিউনিসিয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবেদিন বিন আলির দেশ ত্যাগের সপ্তম বার্ষিকীতে দেশটিতে এখন যে অবস্থা চলছে, তাতে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে যেসব কারণে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হয়েছে তা এখনো চলছে দেশটিতে।

যুবকদের বড় একটি অংশ এখনো বেকারত্বের অন্ধকারে, অর্থনীতি এখনো আন্তর্জাতিক মুদ্রাতহবিলের ওপর নির্ভরশীল। আইএমএফ তিউনিসিয়ার ওপর কঠোর বিধিনিষেধও আরোপ করেছে এবং যার প্রতিবাদে নতুন করে বিক্ষোভ হয়েছে দেশটিতে। এ ছাড়া বিন আলি সরকারের অনেক নেতাই আবার নতুন করে রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন।

তিউনিসিয়ার রাজনীতি বিষয়ে অভিজ্ঞ ও অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ম্যাগদালেন কলেজের ফেলো ররি ম্যাককার্থি বলেছেন, ‘২০১১ সালের বিপ্লবী চেতনাকে শেষ করার একটা জোর চেষ্টা রয়েছে রাজনৈতিক এলিটদের মধ্যে। সেখানে রাজনৈতিক সংস্কার হয়েছে, অনেক দল রয়েছে, অবাধ নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার হয়েছে খুবই কম, বরং শাসনের পুরনো পদ্ধতিগুলো নতুন করে প্রয়োগের অনেক প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে’।

মুক্তি পাচ্ছেন মিসরের কুখ্যাত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আলজাজিরা

মুক্তি পেতে যাচ্ছেন দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত মিসরের সাবেক ‘কুখ্যাত’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাবিব আল-আদলি। ১১ কোটি ডলার আত্মসাতের অভিযোগে সাত বছরের সাজা দেয়া হয়েছিল তার। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর নিখোঁজ হয়ে যান হাবিব। আদালত তখন তাকে ‘পলাতক আসামি’ ঘোষণা করে। পরে গত বছর ডিসেম্বরে আত্মসমর্পণ করেন হাবিব। এরপর মিসরের সর্বোচ্চ আদালত হাবিবের বিরুদ্ধে রায় বাতিল করে দেন।

আগের বিচারকাজে ত্রুটি ছিল উল্লেখ করে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী হাবিব ও তার মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তাকে ১১ কোটি ডলার ফেরত দেয়া ও সমপরিমাণ জরিমানা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের শাসনামলে হাবিব আদলি তার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ছিলেন।

২০১১ সালে আরব বসন্তের মাধ্যমে তার পতন হয়। হোসনি মোবারকের মতো হাবিবের বিরুদ্ধেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছেন। হাবিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি আরব বসন্তের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.