৪০ ভাগে বিভক্ত না থেকে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান তুরস্কের
৪০ ভাগে বিভক্ত না থেকে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান তুরস্কের

৪০ ভাগে বিভক্ত না থেকে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান তুরস্কের

নয়া দিগন্ত অনলাইন

বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী এরবাস। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ‘আমেরিকান মুসলিম কমিউনিটি’র সঙ্গে দায়ানাত সেন্টারে এক সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

এ সময় তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ১০০ বছর আগে মুসলমানরা এক ছাতার নিচে ঐক্যবদ্ধ ছিল। পরে মুসলমানরা ৪০ ভাগে বিভক্ত হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। আমাদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়া দরকার।

আলী এরবাস বলেন, মুসলমানরা আজ একে অপরের বিরুদ্ধে উসকানি দিচ্ছে। জাতিগত বিভেদ সৃষ্টি করছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মুসলমানরা একে অপরের বিরুদ্ধে নয়।

জাতিগত আলাদা পরিচয়কে জাতিগত বিভেদ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভিন্ন ভিন্ন জাতি বা গোষ্ঠীর সম্মিলনীর মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলমানরা সমৃদ্ধ হয়েছে। পবিত্র কুরআনেও ভিন্ন ভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এর মানে বিভেদ নয়।

তুরস্কের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক সরকারি সফরে আলী এরবাস যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

আরো শক্তিশালী হচ্ছে তুরস্কের সেনাবাহিনী : নতুন কিছু করার ইঙ্গিত এরদোগানের

২০১৮ সালে ৪৩ হাজার সেনা সদস্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তুরস্ক। দেশটির সেনাবাহিনীর ইতিহাসে এক সাথে এত বড় নিয়োগ প্রক্রিয়া এই প্রথম। এই বিশাল সংখ্য সেনার মধ্যে প্রায় ৪ হাজার কমিশনড অফিসার থাকবেন। এছাড়া নন-কমিশনড অফিসার নিয়োগ পাবেন ৫ হাজারের বেশি।

স্পেশাল সার্জেন্ট পদে নিয়োগ দেয়া হবে ১৩ হাজার এবং চুক্তিভিত্তিক অফিসার নিয়োগ পাবেন ২০ হাজারের বেশি। সর্বশেষ ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে কয়েক হাজার সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়। অনেকে এখন বিচারের মুখোমুখি। তবে বরখাস্ত অফিসারের সংখ্যার চেয়ে নতুন নিয়োগ দেয়া সংখ্যাটি অনেক বেশি। এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে আরো শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দিলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান।

বর্তমানে তুরস্কের সেনারা দেশের বাইরেও অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়া কাতার, সোমালিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় নতুন নতুন ঘাঁটি করছে তুরস্ক। ফলে সেনাবাহিনীতে আরো বেশি লোকবল দরকার। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে আরো সাহসী ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে তুরস্ক- এমন ঘোষণা দিয়েছে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। এরদোগান বলেন, এখন থেকে যত ঝুঁকিই থাকুক না কেন- তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতি আরো সাহসী এবং আরো সক্রিয় হবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব কমতে শুরু করেছে। নানা সময়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণে কমছে মার্কিন মিত্র সৌদি আরবের প্রভাবও। উল্টো দিকে তুরস্ক তার প্রভাব বাড়িয়ে চলেছে। ইরান ও রাশিয়ার সাথে যৌথভাবে সিরিয়া সংকটের সমাধানে অগ্রগামী ভূমিকায় আছে আংকারা। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে বাণিজ্যিক, কূটনৈতিক এমনকি সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে। এরদোগানের এই ঘোষণায় আরো বড় কিছু ইঙ্গিত রয়েছে। বিশেষ করে সুদানের সুয়াকিন দ্বীপ নিজেদের হাতে নেয়ার মাধ্যমে গত বছর শেষ করায় অনেকের ঔৎসুক্য তৈরি হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.