ত্রিদেশীয় সিরিজ : হিথ স্ট্রিকের মূলমন্ত্র
ত্রিদেশীয় সিরিজ : হিথ স্ট্রিকের মূলমন্ত্র

ত্রিদেশীয় সিরিজ : হিথ স্ট্রিকের মূলমন্ত্র

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ঢাকার মাঠে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে অনুষ্ঠেয় ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে নিজ দলকে আন্ডারডগ হিসেবে মানছেন জিম্বাবুয়ে কোচ হিথ স্ট্রিক। আন্তর্জাতিক ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে সবার নিচে থেকেই সিরিজ শুরু করছে আফ্রিকার দলটি। ৫২ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে র‌্যাংকিংয়ের দশম স্থানে আছে জিম্বাবুয়ে। পক্ষান্তরে ৮৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে র‌্যাংকিংয়ের অষ্টম স্থানে শ্রীলঙ্কা ও ৯২ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে আছে স্বাগতিক টাইগাররা।

তবে গত জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে৩-২ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জয় আশা যোগাচ্ছে স্ট্রিককে। যদিও তার পর থেকে কোন ওয়ানডে খেলেনি দলটি।
আজ এক সংবাদ সম্মেলনে স্ট্রিক বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের এখনো অনেক দূর যেতে হবে। এই সিরিজে আমরা আন্ডারডগ। তবে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য মানসম্মত খেলোয়াড় আমার দলে আছে বলেও আমি মনে করি। দেশের বাইরে যে কোন দলের বিপক্ষে লড়াই করার সক্ষমতা আমরা গতবছর শ্রীলঙ্কায় দেখিয়েছি। সফরটা বেশ ভালো কেটেছে। তবে দল হিসেবে আমাদের অনেক দূর যেতে হবে।

‘আসন্ন সিরিজে আমাদের বিশ্বাস যোগাবে শ্রীলঙ্কা সফর। গত বেশকিছু দিন যাবত আমরা খুব বেশি ওয়ানডে ক্রিকেট খেলিনি। আমরা বরং টেস্ট বেশি খেলেছি। আমাদের বিপক্ষে সিরিজ খেলার পর শ্রীলঙ্কা ১৩টি ওয়ানডে খেলেছে। আমরা একটিও খেলিনি। আমাদের প্রস্তুতি ভালো হয়েছে এবং শুরুতেই সিরিজে ভালো কিছু করার আশা করছি। শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়ার মতো দক্ষ খেলোয়াড় আমাদের আছে- এমনটাই আমি মনে করছি। আমি জানি আমাদের দল জিততে পারে।’
২০১৪-২০১৬ সালে বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করা স্ট্রিক বলেন, সাবেক শিষ্য ও স্টাফদের কাছ থেকে চ্যালেঞ্জর অপেক্ষায় আছেন তিনি।

স্ট্রিক বলেন, ‘আজকের দিনে একটা দলে অনেক কয়েকজন কোচ থাকে এবং একসময় একে অপরের প্রতিপক্ষে পরিণত হয়। সাবেক কোচ চন্ড্রিকা হাথুরুসিংহে ও টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনের সঙ্গে আমার খুবই ভালে সম্পর্ক ছিলো। আমি মনে করছি সিরিজটা সকলের জন্যই বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে।’
‘আমরা কন্ডিশন ও খেলোয়াড়দের সম্পর্কে জানি, চন্ডিকাও জানেন। এ ছাড়া জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলংকার অনেক খেলোয়াড়ের বিপিএল খেলার অভিজ্ঞতা আছে। কোনো দলেই গোপনীয় খুব বেশি নেই। বিষয়টা কেবলমাত্র ভালো পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামা ও সেটা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা।’

আগামী ১৫ জানুয়ারি সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ দলের মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে।


আত্মবিশ্বাসী ক্রেমার

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজে ভালো করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল। আজ সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানালেন দলটির অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমার। বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে আগামী ১৫ জানুয়ারি থেকে মাঠে গড়াচ্ছে ত্রিদেশীয় সিরিজ।

বাংলাদেশের কন্ডিশনের সম্পর্কে অন্যান্য দলের ক্রিকেটারদের থেকে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটারদের বেশি জানা। ঢাকার ঘরোয়া লিগগুলোতে একাধিক খেলোয়াড়ের অংশগ্রহনে জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞ করে তুলেছে।

শুক্রবার বাংলাদেশে এসে আজ মিরপুরের একাডেমিতে অনুশীলন করে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল। অনুশীলনে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক অধিনায়ক ক্রেমার বলেন, ‘আমরা ঢাকায় অনেক খেলেছি। কন্ডিশন আগের মতোই, বড় কোনো পার্থক্য থাকবে না। মূল মঞ্চে মাঠে নামার আগে আমরা দু-দিন অনুশীলনের সুযোগ পাচ্ছি। কৃত্রিম আলোয় ফিল্ডিংও করব। আমাদের যারা তরুণ ক্রিকেটার আছে তাদের জন্য এটা নতুন অভিজ্ঞতা। প্রস্তুতি ম্যাচ কোনো ইস্যু হতে পারে না।’

বিপিএলে কিছুদিন আগেই খেলেছেন ক্রেমার। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বিপিএলে বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার বেশকিছু খেলোয়াড় সম্পর্কে জেনেছি। এটা আমাদের অনেক সাহায্য করবে। আমার, রাজার (সিকান্দার রাজা) ও ম্যালকমের (ম্যালকম ওয়ালার) অভিজ্ঞতা ত্রিদেশীয় সিরিজে অনেক কাজে দেবে।’

ত্রিদেশীয় সিরিজে কাকে কঠিন প্রতিপক্ষ মনে হচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে ক্রেমার বলেন, ‘এ মুহূর্তে এটা বলা কঠিন। ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রত্যকের নিজেদের পরিকল্পনা থাকে। প্রত্যেক দলেই ভালোমানের স্পিনার রয়েছে। পার্থক্য গড়ে দিতে পারে ফিল্ডিং। ফিল্ডিংয়ে সেরা দলের সম্ভাবনা থাকবে। নিজেদের দিনে যেকোনো দল জিততে পারে। খুব ভালো ত্রিদেশীয় সিরিজ হবে।’

বাংলাদেশে-জিম্বাবুয়ের ওয়ানডে রেকর্ড নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অধিনায়ক ক্রেমার বলেন, ‘এখানে রেকর্ড ভালো হলেও অনেক সময় বাংলাদেশে সফর করা বেশ কঠিন। ঘরের মাঠে বাংলাদেশ দুর্দান্ত। আমি মনে করি আমাদের দলটি অভিজ্ঞ এবং তারুণ্যের মিশেলে গড়া একটি দল। অনেকেই এখানে দীর্ঘদিন খেলেছে। আমরা বাংলাদেশের সামর্থ্য সম্পর্কে অবগত। শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজ থেকে আমাদের আত্মবিশ্বাস নিতে হবে।’

১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে। বাংলাদশের বিপক্ষে ৩৬ ম্যাচে তাদের জয় ১১টিতে। হেরেছে ২৫টিতে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.