নির্বাচনকালীন সরকার সংলাপ চাই : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকারের কোনো বিধান না থাকায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ‘নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে’ রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপের উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।
সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই আহ্বান জানান।
গুলশান কার্যালয়ে বিকেলে এই সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো বিধান নেই। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী যদি সংসদ বহাল রেখে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে সেই নির্বাচন কখনো সুষ্ঠু হবে না। কারণ সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় নির্বাচনকালীন সরকারও হবে বিদ্যমান সরকারেরই অনুরূপ।
তিনি বলেন, সংবিধান ও গণতন্ত্র সব সময় সমার্থক বা সমান্তরাল হয় না। তাই যদি হতো তাহলে হিটলার ও মুসোলিনির শাসনকেও গণতান্ত্রিক বলা যেত। কারণ তাদের শাসনও সংবিধান অনুযায়ীই ছিল।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আত্মম্ভরিতা বাদ দিয়ে বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে জনগণের শান্তি ও স্বস্তির জন্য সব বিরোধী দলের সাথে আলোচনা করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এটাই একমাত্র পথ। আসুন আমরা সবাই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিই।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি আন্তরিকভাবে নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে নতুন কিছু ভেবে থাকেন তাহলে তার উচিত হবে এ নিয়ে সব স্টেকহোল্ডারের সাথে সংলাপের উদ্যোগ নেয়া। আমরা মনে করি, আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে ২০১৮ সালের নির্বাচন সম্পর্কে অর্থবহ সমাধানে আসা সম্ভব। দীর্ঘকাল ধরে সব বিরোধী দল ও সুশীলসমাজ সব দলের অংশগ্রহণের জন্য আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পদ্ধতি নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছে।
নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হতে পারে তা নিয়ে বিএনপির একটি রূপরেখা ‘যথা সময়ে’ উপস্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।
বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেটে ক্ষমতায় বসেনি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন আবার সেই নির্বাচন ব্যবস্থাতেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা জনগণের আশা-আকাক্সক্ষাকে পদদলিত করা ছাড়া আর কিছু নয়। সমগ্র জাতি সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে অংশ নিতে চায়।
জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বিদ্যমান সঙ্কট উত্তরণে কোনো স্পষ্ট রূপরেখা নেই উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগামী নির্বাচন সম্পর্কে তিনি যা বলেছেন, তা খুবই অস্পষ্ট, ধোঁয়াশাপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর। তার ভাষণ জাতিকে হতাশ, বিস্ময়-বিমূঢ় ও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সঙ্কট আরো ঘনীভূত হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, পাকিস্তানের স্বৈর সামরিক শাসক ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান তার শাসনামলের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাঁকজমকপূর্ণভাবে উন্নয়ন দশক পালন করেছিলেন। গণতন্ত্রহীন তথাকথিত উন্নয়ন জনগণ গ্রহণ করেনি। পরিণতিতে তার মতো লৌহমানবকে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে বিদায় নিতে হয়েছে। বর্তমান সরকারও উন্নয়ন মেলা করছে। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস পাকিস্তানি আমলের স্বৈশাসকেরা ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার জন্য যে ধরনের চমকের আশ্রয় নিয়েছিল, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারও সেই একই পথে হঁাঁটছে।
জিডিপির প্রবৃদ্ধি হার নিয়ে সরকারের দাবির সাথে বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থনীতিবিদের মতভিন্নতা তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।
বেকারত্ব, কর্মসংস্থান সৃষ্টির শ্লথ গতি, মূল্যস্ফীতি, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, আর্থিক খাতে লুটপাট ও দুর্নীতি, মেগা প্রকল্পে ব্যয়ভার বৃদ্ধি, খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি, আয় বৈষম্য, খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি, দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি, দারিদ্র্য হার, বিনিয়োগ পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যেসব পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন সে সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এসব চোখ ধাঁধানো বয়ানের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.