টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিনে বয়ান শুনছেন মুসল্লিরা  :নয়া দিগন্ত
টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিনে বয়ান শুনছেন মুসল্লিরা :নয়া দিগন্ত
ইজতেমায় অংশ না নিয়েই ফিরে গেলেন মাওলানা সাদ

আখেরি মুনাজাত আজ

আখেরি মুনাজাতের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের সমাপ্তি হবে আজ রোববার। বেলা ১১টায় মুনাজাত করা হবে। ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভিকে ছাড়াই এবারের বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হলো। তাকে নিয়ে বিতর্ক ওঠার পর মাওলানা সাদ বাংলাদেশে এলেও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় অংশ না নিয়েই শনিবার দেশে ফিরে গেছেন। কয়েক বছর ধরে মাওলানা সাদ ইজতেমায় আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করলেও এবার তার পরিবর্তে কাকরাইল মসজিদের ইমাম হজরত মাওলানা যোবায়ের হাসান বাংলা ভাষায় আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করবেন বলে ইজতেমা সূত্রে জানা গেছে। এ দিকে ইজতেমায় অংশ না নিয়ে ফিরে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না তার অনুসারীরা। তাই অর্ধশতাধিক বিদেশী মুসল্লি ইজতেমার প্রথম পর্ব সম্পন্ন হওয়ার আগেই ময়দান থেকে চলে গেছেন। আগামী বছর বিশ্ব ইজতেমা শুরু হবে ১১ জানুয়ারি থেকে।
দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লির পদচারণায় টঙ্গীর তুরাগ পাড়ের বিশ^ ইজতেমাস্থল এখন মুখরিত। শিল্পনগরী টঙ্গী এখন যেন ধর্মীয় নগরীতে পরিণত হয়েছে। এবারের ইজতেমার প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিন শনিবার আল্লাহ প্রদত্ত বিধিবিধান ও রাসূল সা: প্রদর্শিত তরিকা অনুযায়ী জীবন গড়ার আহ্বান জানিয়ে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি জিকির আসকার, ইবাদত বন্দেগি ও পবিত্র কুরআনের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ বয়ানের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছেন। আজ আখেরি মুনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ইজতেমার প্রথম পর্ব। বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে আখেরি মুনাজাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর চার দিন বিরতি দিয়ে আগামী শুক্রবার শুরু হবে তিন দিনের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। আখেরি মুনাজাতে মুসল্লিদের আসা ও যাওয়া নিরাপদ করতে শনিবার রাত থেকে মুনাজাত অনুষ্ঠান পর্যন্ত ইজতেমা ময়দানগামী সড়কে যানবাহন চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে পুলিশ। এ দিকে এবার বিশ্ব ইজতেমার অন্যতম আকর্ষণ যৌতুকবিহীন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়নি।
মহান আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের ব্যাকুলতায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দলে দলে ছুটে আসছেন টঙ্গীর তুরাগ তীর ইজতেমা ময়দানে। শনিবারও টঙ্গী অভিমুখী বাস, ট্রাক, ট্রেন, লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবাহনে ছিল মানুষের ভিড়। রোববার আখেরি মুনাজাতের আগ পর্যন্ত মানুষের এ ঢল অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে ইজতেমা ময়দান পূর্ণ হয়ে গেছে। মূল প্যান্ডেলে স্থান না পেয়ে অনেক মুসল্লি প্যান্ডেলের বাইরে পলিথিন সিট ও কাপড়ের সামিয়ানা টানিয়ে অবস্থান নিয়েছেন।
এ দিকে এবারো তাবলিগের শীর্ষ মুরব্বিরা রেডিও-টিভিতে আখেরি মুনাজাত সরাসরি সম্প্রচারের অনুমতি দেননি। ক্যামেরায় মুরব্বিদের ছবি তোলাও বারণ করে দিয়েছে ইজতেমা কর্তৃপক্ষ। তারপরও কিছু কিছু বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইজতেমা কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতে আখেরি মুনাজাত সম্প্রচার করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
শনিবার যারা বয়ান করলেন
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিন শনিবার মুসল্লিদের উদ্দেশে বাদ ফজর বয়ান করেন কুয়েতের মুরব্বি ইব্রাহিম রেফা। তার বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা নুরুর রহমান। এর পর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে জোহরের আগ পর্যন্ত বয়ান করেন বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের মাওলানা হাফেজ জোবায়ের। বাদ জোহর সুদানের মাওলানা ড. জাহাদ, বাদ আসর বাংলাদেশের নূরুর রহমান ও বাদ মাগরিব মাওলানা ফারুক হোসেন বয়ান করেন।
যা বয়ান করলেন
তাবলিগ জামাতের মুরব্বিরা তাবলিগের ছয় উসুল যথাÑ কালিমা, নামাজ, ইলম ও জিকির, ইকরামুল মুসলিমিন, তাসহিয়ে নিয়ত এবং তাবলিগ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করেন। বয়ানে তারা বলেন, যতদিন দ্বীন থাকবে, তত দিন দুনিয়া থাকবে। আর দ্বীন টিকে থাকবে দাওয়াতের মাধ্যমে। যুগে যুগে নবী-রাসূলগণ দ্বীনের দাওয়াতের কাজ করে গেছেন। ফেরাউনের কাছেও দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে আল্লাহ্ হজরত মুসা আ:কে পাঠিয়েছিলেন। আল্লাহ নবী-রাসূলদের তাদের নিজের পরিবার ও বিভিন্ন গোত্রের মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার জন্য পাঠিয়েছেন। আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা সা:কে সারা দুনিয়ায় দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন। আজ তিনি নেই। এ কাজের জিম্মাদারি এখন তার উম্মতের ওপর।
বয়ানের তাৎক্ষণিক অনুবাদ
বিশ্ব ইজতেমায় বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের তাবলিগ মারকাজের ১৫-২০ জন শূরা সদস্য ও বুজর্গ বয়ান করেন। মূল বয়ান উর্দুতে হলেও বাংলা, ইংরেজি, আরবি, তামিল, মালয়, তুর্কি ও ফরাসি ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ হচ্ছে। বিভিন্ন ভাষাভাষী মুসল্লিরা আলাদা আলাদা বসেন এবং তাদের মধ্যে একজন করে মুরব্বি মূল বয়ানকে তাৎক্ষণিক অনুবাদ করে শোনান। মূল বক্তা বয়ানের একটি নির্দিষ্ট অংশ শেষ করার পর অনুবাদের জন্য বিরতি দেন। অনুবাদ শেষ হলে তিনি আবার বয়ান শুরু করেন। এভাবেই ইজতেমা ময়দানে তাবলিগ জামাতের মুরব্বিদের বয়ান চলে।
তাশকিলের কামরায় চিল্লাভুক্ত মুসল্লিই
ইজতেমার প্যান্ডেলের উত্তর-পশ্চিমে তাশকিলের কামরা স্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন খিত্তা থেকে বিভিন্ন মেয়াদে চিল্লায় অংশ গ্রহনে ইচ্ছুক মুসল্লিদের এ কামরায় এনে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। পরে কাকরাইলের মসজিদের তাবলিগি মুরব্বিদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এলাকা ভাগ করে তাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাবলিগী কাজে পাঠানো হবে।
আখেরি মুনাজাতের প্রস্তুতি
আজ ইজতেমা মাঠের বিদেশী নিবাসের পূর্বপাশে বিশেষ মুনাজাত মঞ্চ থেকে রোববার সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে আখেরি মুনাজাত শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বিশ^ ইজতেমার মুরব্বি মাওলানা গিয়াস উদ্দীন। এর আগে হবে হেদায়তি বয়ান। আখেরি মুনাজাতের আগ পর্যন্ত মুসল্লিদের ঢল অব্যাহত থাকবে। আখেরি মুনাজাতে শরিক হতে বিপুলসংখ্যক মহিলা টঙ্গীর আশপাশে এসে অবস্থান নিয়েছেন। অনেকে তাদের আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে উঠেছেন।
বিদেশীসহ আরো দুই মুসল্লির মৃত্যু
বিশ^ ইজতেমা ময়দানে শুক্রবার রাতে এক বিদেশীসহ আরো দুই মুসল্লি মারা গেছেন। গত শুক্রবার রাতে বিদেশী কামরায় মালেশিয়ার নাগরিক নূরহান বিন আব্দুর রহমান (৫৪) ওজু করতে গিয়ে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ৯টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়াও রাত সাড়ে ১১টায় লক্ষ্মীপুর জেলা সদরের রূহিতা গ্রামের শামসুল হকের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৫৪) নিজ খিত্তায় অসুস্থ হয়ে মারা যান। এ নিয়ে গত দুই দিনে ইজতেমা ময়দানে এ পর্যন্ত তিনজন মুসল্লি মারা গেলেন।
এবারো যৌতুকবিহীন বিয়ে হয়নি
বিশ^ ইজতেমার দ্বিতীয় দিন বাদ আসর ইজতেমা ময়দানে কনের অনুপস্থিতিতে যৌতুকবিহীন বিয়ের আয়োজন করা হতো। গত বছরের মতো এ বছরও ওই বিয়ের আয়োজন থাকছে না বলে জানিয়েছেন ইজতেমার আয়োজক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মো: গিয়াস উদ্দিন। তিনি জানান, ইজতেমা ময়দানে যৌতুকবিহীন বিয়ে হলে তা কেবল এই ময়দানে আসা তাবলিগী সদস্যরা ও মুসল্লিরা জানতে পারেন। এলাকার লোকজন এমনকি অনেক স্বজনরাও তা জানতে পারেন না। ফলে ওই বিয়ের আকর্ষণ কমে যায়। এ জন্য গত বছর থেকে ইজতেমা ময়দানে যৌতুকবিহীন বিয়ের জন্য তালিকাভুক্ত হলেও তাদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ওই বিয়ের আয়োজন করতে বলা হয়েছে।
এবার প্রায় ৬ হাজার জামাত বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে
তাবলিগ জামাতের একজন মুরব্বি বলেন, তাবলিগের একমাত্র কাজই আল্লাহর পথে মানুষকে ডাকা। রাসূল সা:-এর বিদায় হজের ভাষণের মূল বাণী হিসেবে আমরা আল্লাহর পথে ডেকে থাকি। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই এর একমাত্র লক্ষ্য। একমাত্র আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের একক আনুকূল্যে এই ইজতেমা হয়ে থাকে। টঙ্গীর এই ইজতেমা থেকেই বিশ্বের অন্তত ১৫০টি দেশে দাওয়াতের এই কাজ করা হয়। প্রতি বছর টঙ্গী ইজতেমা থেকেই পাঁচ থেকে ছয় হাজার জামাত বিশ্বব্যাপী পাঠানো হয়। আগত বছরের বিশাল কর্মযজ্ঞের পরিকল্পনা টঙ্গী থেকেই হয়। তিনি বলেন, এবারো প্রায় ছয় হাজার জামাত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাবলিগের কাজে বেরিয়ে যাবে।
চিকিৎসাসেবা
গাজীপুর সিভিল সার্জন সৈয়দ মঞ্জুরুল হক জানান, গত কয়েক দিনের তুলনায় ইজতেমায় আগত রোগীর সংখ্যা শনিবার বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিভিল সার্জনের নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্য ক্যাম্পগুলোতে পাঁচ হাজারের বেশি মুসল্লিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। প্রচণ্ড শীতের কারণে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন মেডিক্যাল ক্যাম্পের প্রতিটিতেই রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এর মধ্যে সকাল পর্যন্ত ২৩ জনকে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি এবং ১৭ মুসল্লিকে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। ইজতেমার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকেরা জানান, এসব মুসল্লির অধিকাংশই হৃদরোগ, অ্যাজমা, পেটেরপীড়া ও ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হন। এ ছাড়া ইজতেমাস্থলের আশপাশের বিনামূল্যে বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতেও কয়েক হাজার মুসল্লি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ফ্রি-মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিৎসা
শনিবার সকাল থেকে ইজতেমা ময়দান সংলগ্ন ফ্রি-মেডিক্যাল ক্যাম্পগুলোতে চিকিৎসা নিতে মুসল্লিদের ভিড় দেখা গেছে। ময়দানের আশপাশে ও মুন্নুনগর এলাকায় বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি পরিষদ, র্যাবের ফ্রি-মেডিক্যাল ক্যাম্প, গাজীপুর সিভিল সার্জন অফিস, হামদর্দ ওয়াকফ, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস, টঙ্গী ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, রওশন জাহান ইস্টার্ন মেডিক্যাল কলেজ, ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক কলেজ, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক পরিষদ, জাতীয় ইমাম সমিতি, ইসলামি ফাউন্ডেশনের ইসলামি মিশন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন ফ্রি-মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিৎসকেরা সেবা দিচ্ছেন। অ্যালোপ্যাথি ছাড়াও মুসল্লিরা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিতে তাদের ক্যাম্পে ভিড় করেছেন। অসুস্থদের অধিকাংশই ঠাণ্ডা, সর্দি, কাশি, আমাশয়, শ্বাসকষ্টের রোগী।
হকার ও পকেটমার আটক
বিশ্ব ইজতেমা ও আশপাশের এলাকা থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত হকার ও পকেটমারকে আটক করেছে পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা।
মুনাজাতের দিন চলবে শাটল বাস
গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জানান, শনিবার রাত ১২টা থেকে রোববার আখেরি মুনাজাতের সময় পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া বাইপাস মোড় থেকে কুড়িল বিশ্বরোড, আব্দুল্লাহপুর-কালিয়াকৈর সড়কে সাভারের বাইপাইল থেকে আব্দুল্লাহপুর ও টঙ্গীর স্টেশন রোড থেকে মীরের বাজার পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের গাড়ি ছাড়া সাধারণ যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে আখেরি মুনাজাতের দিন রোববার সকাল থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোগড়া বাইপাস মোড় এলাকা থেকে ইজতেমাস্থল পর্যন্ত মুসল্লিদের সুবিধার্থে প্রায় অর্ধশত বিআরটিসি বাস ও ব্যক্তি মালিকানাধীন আরো প্রায় অর্ধশত (ইজতেমার স্টিকার লাগানো) শাটল বাস চলাচল করবে।
বিশেষ ট্রেন
বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মুনাজাত উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে আখাউড়া, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন রুটে প্রায় ২১টি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে। এ ছাড়া আখেরি মুনাজাতের আগে ও পরে সব ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে। টঙ্গী রেলওয়ে জংশন সূত্রে জানা গেছে, আজ আখেরি মুনাজাতের দিন জামালপুর-টঙ্গী একটি, আখাউড়া-টঙ্গী ও টঙ্গী-ময়মনসিংহ, লাকসাম-টঙ্গী রুটে বিশেষ ট্রেন যাতায়াত করবে। এ ছাড়াও আখেরি মুনাজাতের আগে-পরে সব ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে বলে জানিয়েছেন টঙ্গীর রেলওয়ে স্টেশনের কর্মকর্তা। ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মো: গাউস আল মুনির জানান, ইজতেমা চালানো বিশেষ ট্রেনগুলো টঙ্গী রেলওয়ে জংশনে দুই মিনিট করে যাত্রা বিরতি করবে।
বিশ্ব ইজতেমায় বিদেশী মুসল্লি
গাজীপুর পুলিশের বিশেষ শাখার ইন্সপেক্টর মোমিনুল ইসলাম জানান, শনিবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বের অন্তত ৮৮টি দেশের ৪ হাজার ৫৩১ জন বিদেশী মুসল্লি বিশ্ব এজতেমায় অংশ নিয়েছেন। এদের মধ্যে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ৫৮ জন মুসল্লি ইজতেমা ময়দান থেকে ফিরে গেছেন। আরো বিদেশী মেহমান টঙ্গীর পথে রয়েছেন। বিভিন্ন ভাষাভাষী ও মহাদেশ অনুসারে ইজতেমা ময়দানে বিদেশী মেহমানদের জন্য পৃথক বিদেশী নিবাস নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পুলিশের প্রেস ব্রিফিং
গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশিদ গতকাল শনিবার দুপুরে ইজতেমা ময়দানের মিডিয়া সেলের সামনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জানান, আখেরি মুনাজাত উপলক্ষে গাজীপুর পুলিশ প্রশাসন বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। ইজতেমা ময়দানে যাতে কোনো ধরনের নাশকতা কেউ করতে না পারে সে জন্য এবারের ইজতেমা ময়দানে আরো বেশি সতর্ক অবস্থা নেয়া হয়েছে। নাশকতার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে এবার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মুনাজাতের দিন অন্যান্য দিনের চেয়ে দ্বিগুণ ফোর্স (দুই শিফটের ফোর্স এক শিফটে) মোতায়েন করা হচ্ছে। গত শুক্রবার লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটেছে। মুসল্লিরা রাস্তায় নামাজ আদায় করেছেন। আশা করছি, আখেরি মুনাজাতের দিনও বিপুল লোকসমাগম হবে। সে কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তিনি জানান, শনিবার রাত ১২টা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে টঙ্গী ব্রিজ থেকে ভোগড়া বাইপাস মোড়, টঙ্গী-কালিগঞ্জ সড়কে টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে নিমতলী অর্থাৎ মীরেরবাজার পর্যন্ত এবং কামারপাড়া সড়কে যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে।

যেসব এলাকায় গাড়ি পার্কিং করা যাবে না
আখেরি মুনাজাত উপলক্ষে মুসল্লিদের সুবিধার্থে শনিবার বিকেল থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মহাখালী ক্রসিং থেকে টঙ্গী হয়ে গাজীপুর চৌরাস্তার পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে, টঙ্গী-কালিগঞ্জ সড়কের টঙ্গী থেকে মীরের বাজার পর্যন্ত, আব্দুল্লাহপুর থেকে বাইপাইল পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে, প্রগতি সরণির মধ্যবাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এ সড়কের দুই পাশে যানবাহন পার্কিং করা যাবে না।
ভিআইপিরা কে কোথায় মুনাজাতে অংশ নেবেন
আজকের আখেরি মুনাজাতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বয়ান মঞ্চে বসে মুনাজাতে অংশ নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া এবারো দোয়া মঞ্চের পাশে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আখেরি মুনাজাতে অংশ নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ। তবে এবারো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুসল্লিদের ভিড় এড়াতে ও নিরাপত্তার স্বার্থে টঙ্গীর বাটা সু ফাক্টরির ছাদে বসে আখেরি মুনাজাতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঢাকায় থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় এবারো ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মুনাজাতে অংশ নিতে পারেন বলে সূত্রে জানা গেছে।
একইভাবে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া হোন্ডা (এটলাস) কারখানার ছাদে বসে অংশ নেয়ার পরিবর্তে ঢাকায় অবস্থান নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় মুনাজাতে অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, মন্ত্রিপরিষদের একাধিক সদস্য, স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সরকারি বেসরকারিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিভাগের কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোলরুমসহ ময়দানের বিভিন্ন স্থানে উপস্থিত হয়ে মুনাজাতে অংশ নেবেন।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.