ব্যাট করছেন সাব্বির রহমান (ফাইল ফটো)
ব্যাট করছেন সাব্বির রহমান (ফাইল ফটো)

'যদি উইকেটে থাকি, ম্যাচ শেষ করে আসব ইনশা আল্লাহ'

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ওয়ানডে, টেস্ট কিংবা টি-২০। সব ফরম্যাটেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে চান সাব্বির রহমান। ইতোমধ্যে আগ্রাসনের প্রমাণ দিয়েছেন সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বেশ কিছু মারকুটে ইনিংস খেলে। কিন্তু পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। আগ্রাসী হতে গিয়ে উইকেটে থিতু হয়েও বিলিয়ে দিয়েছেন উইকেট। ইনিংস বড় করতে না পারার মূল অন্তরায় আগ্রাসী ভূমিকা হলেও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংটাই তার শক্তির জায়গা বলে উল্লেখ করলেন সাব্বির।

আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে পৌঁছেছে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কা। ১৫ জানুয়ারি উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ। মাঠে নামার আগে সাব্বির জানালেন নিজের ভাবনা। আবারও মনে করিয়ে দিলেন সব সময়ের মতো আক্রমণাত্মকই থাকতে চান তিনি। গতকাল শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে সাব্বির বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি ভালোভাবেই প্রস্তুত। যদিও গত কয়েকটা ম্যাচ আমার খারাপ গেছে। এই ক’দিনে আমি দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করেছি। সামনে ম্যাচ আসছে। ভালো করার চেষ্টা করব ইনশা আল্লাহ। সাব্বির আগ্রাসীই থাকবে সবসময়।’

শেষ ১০ ওয়ানডেতে সাব্বিরের ব্যাট থেকে এসেছে ২৩৫ রান। স্বাভাবিকভাবেই সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন উঠেছে সেট হওয়ার পর তার আউট হওয়া নিয়ে। এ নিয়ে সাব্বিরের সহজ স্বীকারোক্তি, ‘এটা টেম্পারামেন্টের ব্যাপার না। আমার খেলাই আসলে এমন। আগে যখন তিন নম্বরে খেলতাম, তখন ব্যাপারটা অন্য রকম ছিল। এখন ছয়-সাত বা পাঁচ-ছয়ে খেলব। এটা টিম ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার। আমি যখন যেখানে খেলার সুযোগ পাব, চেষ্টা করব পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার। এখন আমি চিন্তা করছি, কখন, কিভাবে খেলা উচিত তা নিয়ে। যদি উইকেটে থাকি, ম্যাচ শেষ করে আসব- ইনশা আল্লাহ।’

নিজের দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করেছেন সাব্বির। ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে প্রস্তুত হয়েই খেলতে চান তিনি, ‘স্পিন, ফ্রন্টফুট নিয়ে কাজ করেছি। নেটে একাই এ ব্যাপারগুলো নিয়ে সময় দিয়েছি। ম্যাচে রান পাওয়া আসলে কপালের ব্যাপার। রান না পেলে ব্যাটিং টেকনিক ভালো না, আর রান পেলেই ব্যাটিং টেকনিক ভালো। ব্যাপারটা মোটেও তেমন না।’

২০১৪ সালে ওয়ানডেতে অভিষেকের পর ৪৫টি ম্যাচ খেলেছেন সাব্বির। ৪১ ইনিংসে ব্যাট করে ৫ হাফ সেঞ্চুরিতে ২৬.৬২ গড়ে রান করেছেন ৯৮৫। মারকুটে ব্যাটিং করলেও সেঞ্চুরির দেখা এখনো পাননি। ওয়ানডেতে এক ইনিংসে তার সর্বোচ্চ সংগ্রহ ৬৫। এটা নিয়ে সাব্বির নিজেও হতাশ। ‘আমি আসলে এটা নিয়েই হতাশ। চেষ্টা করছি সেঞ্চুরি করার। চেষ্টা করছি, যাতে আগ্রাসী রূপ নিয়ে নিজের খেলাটা খেলতে পারি।’

 

ডিপিএলের আইকন তালিকা থেকে বাদ সাব্বির

ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম আকর্ষণ ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) আইকন তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন সাব্বির রহমান। তালিকায় যুক্ত হয়েছেন এনামুল হক বিজয়।

এবার ডিপিএলে আইকন ক্রিকেটারের সংখ্যা বাড়ছে।

১২টি ক্লাবের জন্য মোট ১২ জন আইকন ক্রিকেটার রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। পরিকল্পনা বাস্তাবায়নের লক্ষ্যে খসড়া তালিকাও তৈরি করে ফেলেছে তারা। প্রতিযোগিতার গত আসরে আইকন ক্রিকেটারের তালিকায় থাকা জাতীয় দলের সদস্য সাব্বির রহমান বাদ পড়েছেন। আর বদলি হিসেবে তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন এনামুল হক বিজয়।

আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ডিপিএলের এবারের আসর।

সিসিডিএমের খসড়া তালিকায় থাকা আইকন ক্রিকেটাররা হচ্ছেন মাশরাফি মর্তুজা, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, ইমরুল কায়েস, মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসির হোসেন, লিটন কুমার দাস, এনামুল হক বিজয় ও রুবেল হোসেন। (১১ জানুয়ারি প্রকাশিত সংবাদ)

 

সাব্বিরের শাস্তি থেকে কী শিক্ষা পাবেন অন্য ক্রিকেটাররা?

সম্প্রতি খেলার মাঠেই এক দর্শককে মারধরের দায়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাব্বির রহমানকে কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি।

২০ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে, সাথে ছয় মাসের জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে পারবেন না সাব্বির।

সাব্বির রহমানকে অনেকে বাংলাদেশের এক নম্বর টি২০ খেলোয়াড় হিসেবে বর্ণনা করে থাকেন।

কিন্তু এর আগেও ক্রিকেট বহির্ভূত নানা কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে বিতর্কিত হয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের শাহাদাত হোসেন, মোহাম্মদ শহীদের মতো ক্রিকেটাররা।

এরকম ঘটনা রুখতে আসলে কী ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ?

বিসিবি হাই পারফরম্যান্সের কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিম জানান, ক্রিকেটারদের কাউন্সেলিং নিয়মিতই হচ্ছে।

জাতীয় দলে ঢোকার আগেই তাদের একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় যেখানে নৈতিকতা, আচার-আচরণ নিয়ে ক্লাস হয়।

'এই সময়টা আরো গুরুত্বপূর্ণ, ক্রিকেটাররা অনেক সময় নিজের অজান্তেও এমন কিছু করে ফেলে যার ফলাফল নিয়ে সে অবগত নয়। এখন দৃঢ় ব্যবস্থা না নিলে এমন ঘটনা আরো ঘটতে পারে।'

'আসলে ক্রিকেটারদের জন্য নীতিমালা মানে কোড অব কন্ডাক্ট রয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, কার সাথে কেমন ব্যবহার করা উচিৎ, মাঠের বাইরে কেমন থাকতে হবে।'

তবে নাজমুল আবেদীন বলছেন, শুধু জাতীয় দলের জন্য না, ক্রিকেটারের উঠে আসার সময় থেকেই এই ব্যাপারটা সচেতনভাবে নিয়ে আসা উচিৎ।

'ক্রিকেটাররা আইকন হিসেবে উঠে আসে দেশের প্রচুর তরুণের কাছে, তাই শুধু ভালো ক্রিকেটার না, ভালো মানুষ হওয়াটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।'

বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসের কাছে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে বলেন, "সবচেয়ে বড় শাস্তিটাই আমরা দিয়েছি। ক্রিকেট বোর্ড থেকে বারবার বলা হচ্ছে ক্রিকেটারদের কী করণীয়, কী শাস্তি হতে পারে, সাকিব-সাব্বির সবাই শাস্তি পাচ্ছে, এরপরও আটকানো না গেলে বলা মুশকিল।"

এর আগে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সাব্বির রহমানের শাস্তি ঘোষণা করেন।

"আমাদের শৃঙ্খলা কমিটি আছে, সেখানে সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে সাব্বিরকে কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেয়া, সাথে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেও তাকে ছয় মাসের অব্যাহতি দেয়া হবে।"

"এটাই তার শেষ সুযোগ। এরপর এমন কোনো ঘটনা থাকলে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধও করা হতে পারে তাকে।"

পাপন বলেন, বিসিবির সিদ্ধান্তে শক্ত বার্তা রয়েছে, যাতে সবাই সাবধান হবেন।

"বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন এতো জনপ্রিয় যে ক্রিকেটারদের মাঠের বাইরে ভুল ক্ষমা করা কঠিন।"

"প্রত্যেক ক্রিকেটারই আদর্শ, তাই ভুল কাউকে যাতে নতুন প্রজন্ম অনুসরণ না করে সে ব্যবস্থা নিচ্ছে ক্রিকেট বোর্ড।" (২ জানুয়ারি প্রকাশিত সংবাদ)

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.