কিশোর মুসা রবিনের অভিযান

রকিব হাসান

পঞ্চাশ.

হঠাৎ এক ধরনের অসুস্থতাবোধ গ্রাস করল যেন আমাকে। মাথার মধ্যে যেন বোমা বিস্ফোরিত হলো।
রান্নাঘরের কোণে যে জিনিসটা পড়ে রয়েছে তা একটা বিড়ালের মৃতদেহ। একটা বিড়ালছানা। অস্পষ্ট অন্ধকারেও ওটার পিঠের তিনটা বাদামি ফোঁটা আর থুতনির নিচের সাদা রঙের ছোপ চিনতে পারলাম।
বাদামি ফোঁটা!
শুক্রবারের ঝড়ের রাতে কিটুর দেয়া দুধ খেয়েই মারা গেছে ছানাটা। নিশ্চয়ই দুধে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিল। এটাকেও স্টাফ করার ইচ্ছে ছিল কিটুর। কিন্তু সময় পায়নি। ভাগ্যিস গ্লাসের পুরোটা শরবত খাওয়া হয়নি আমার। তাহলে বিড়ালটার মতোই এখন...
আর ভাবতে পারলাম না। এই অপয়া বাড়িতে আর একটা সেকেন্ডও থাকতে চাই না। চরকির মতো পাক খেয়ে ঘুরে বেরোতে যাবো, থেমে গেলাম কুকুরের ডাক শুনে।
ফিরে তাকালাম রান্নাঘরের পেছনের দরজাটার দিকে। যেটা দিয়ে বদ্ধ বারান্দায় যেতে হয়। পায়ে পায়ে এগিয়ে গিয়ে, দরজাটা খুলে বারান্দায় উঁকি দিলাম। আমাকে দেখেই চেঁচানো শুরু করল খাঁচায় আটকানো প্রাণীগুলো। হয় তাড়াহুড়োয় এগুলোকে নিতে পারেনি কিটুর বাবা-মা কিংবা অকারণ ঝামেলা ভেবে ইচ্ছে করেই ফেলে রেখে গেছে।
এতক্ষণে হাসি ফুটল আমার মুখে। যাক, শুধু নিজেকেই নয়, অসহায় এই প্রাণীগুলোকেও বাঁচাতে পেরেছি আমি।
তারের জালের সেই ফোকরটাও দেখতে পেলাম। ওটার ভেতর দিয়ে মুখ বাড়িয়ে চিৎকার করে ডাকতে লাগলাম মুসার নাম ধরে।
(শেষ)

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.