ইসরাইলের প্রতি স্বীকৃতি স্থগিত

ফিলিস্তিনিদের আরো দৃঢ় অবস্থান কাম্য

ইসরাইলিদের আগ্রাসী নীতি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। চুক্তি লঙ্ঘন করে পশ্চিম তীরে বসতি বাড়িয়ে তুলছে। জেরুসালেমের ওপর একাধিপত্য বজায় রাখার সম্প্রসারণমূলক নীতি বাস্তবায়ন করে চলেছে। বিনা উসকানিতে ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি ছুড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দূতাবাস জেরুসালেমে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ইসরাইলি বাড়াবাড়ি বেড়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসরাইলকে দেয়া জাতিরাষ্ট্রের স্বীকৃতি স্থগিত করেছে ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা বা পিএলও। উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল কিনটনের মধ্যস্থতায় স্বারিত অসলো চুক্তির মাধ্যমে ফিলিস্তিন ও ইসরাইল পরস্পরকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এখন পিএলও ওই চুক্তিটি পর্যালোচনারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিল কিনটন মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে শান্তি ও স্থিতি প্রত্যাশা করে স্বীকৃতির উদ্যোগ নিয়ে চুক্তির ব্যবস্থা করেছিলেন। তাই ১৯৯০-এর দশকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যস্থতায় ইসরাইল-ফিলিস্তিন অসলো চুক্তির মধ্য দিয়ে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মতাসীন দল পিএলও প্রথমবারের মতো পরস্পরকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। চুক্তিতে গাজা উপত্যকাকে পশ্চিম তীর থেকে পৃথক করার সুপারিশ করা হয়। তবে সব আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়ার পর এটি পর্যালোচনার যথার্থ সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিএলও। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা জানান, স্বীকৃতি স্থগিতের পর এবার ওই চুক্তি বাতিলের বিষয়ে আলোচনা করবে পিএলওর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল।
১৪ ও ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পিএলওর দু’দিনের বৈঠকের পর ফিলিস্তিনের সিদ্ধান্ত নির্ধারণকারী দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্তৃপ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের প থেকে একটি চূড়ান্ত বিবৃতি পড়ে শোনানো হয়। বিবৃতিতে সব েেত্র ইসরাইলের সাথে নিরাপত্তা সহযোগিতা বন্ধের চুক্তি নবায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পাশাপাশি যারা জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে সেখানে দূতাবাস সরাবে তাদের সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানানো হয় আরব রাষ্ট্রগুলোকে। এই প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট বলেন, “এখন আমরা ট্রাম্পকে ‘না’ বলব। আমরা তার পরিকল্পনা গ্রহণ করব না।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে ‘চূড়ান্ত চুক্তি’তে পৌঁছানোর যে অঙ্গীকার করেছেন তার প্রসঙ্গে আব্বাস মন্তব্য করেছেন, “আমরা যাকে ‘শতাব্দীর চুক্তি’ বলে ডাকছি সেটি আসলে শতাব্দীর চপেটাঘাত।”
বাস্তবে ১৯৯৩ সালে অসলো চুক্তি স্বারের পর ১৯৯৫ সালে ফিলিস্তিনি কর্তৃপ নামে অন্তর্বর্তীকালীন ফিলিস্তিন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অসলো চুক্তির মধ্য দিয়ে পশ্চিম তীরের ৬০ শতাংশ এলাকায় ফিলিস্তিনি অর্থনীতি, বেসামরিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ পেয়েছিল ইসরাইল। ওই চুক্তির মধ্য দিয়ে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন কর্তৃপরে মধ্যে বিতর্কিত নিরাপত্তা সহযোগিতার দুয়ার খুলেছিল। ফিলিস্তিনি কর্তৃপ জানিয়েছিল, ৭০ বছরেরও বেশি পুরনো সঙ্ঘাতের একটাই সমাধান, তা হলো পূর্ব জেরুসালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা। বাস্তবে এর কোনো সুফল মেলেনি। অসলো চুক্তি স্বারের পর থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কেবল ইসরাইলি দখলদারিত্বই জোরদার হয়েছে। কোনো সমাধানে পৌঁছানোটা ফিলিস্তিনিদের জন্য জটিল হয়ে পড়েছে। ইসরাইলি সেনাদের কড়া পাহারায় বর্তমানে ছয় থেকে সাড়ে সাত লাখ ইসরাইলি নাগরিক অধিকৃত ফিলিস্তিনি এলাকাগুলোয় বসবাস করছে।
এই পরিস্থিতিতে কার্যত যুক্তরাষ্ট্র অসলো চুক্তি থেকে সরে এসেছে। শান্তির স্বপ্ন হোঁচট খেয়েছে। তাই অসলো চুক্তি মানার আর কোনো দায় পিএলওর নেই। এখন পিএলওর উচিত জেরুসালেম প্রশ্নে বিশ্ববাসীর ইতিবাচক মতামতকে শ্রদ্ধা করে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করা। তার আগে বাস্তবে অকার্যকর অসলো চুক্তি প্রত্যাখ্যান করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা রইল না। আশা করি মুক্তিকামী বিশ্ব ও মুসলিম জাহান পিএলও’র যৌক্তিক অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানাবে। তবেই বাধ্য হবে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান পরিবর্তন করতে। কারণ বিশ্ব জনমত উপেক্ষা করে ট্রাম্পের জেরুসালেম নীতি বাস্তবায়ন কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.