চট্টগ্রামে ‘স্কুল ছাত্রলীগের’ প্রথম বলি আদনান

ছাত্রলীগ আবার আলোচনায়

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নানা ধরনের আপত্তিকর কর্মকাণ্ড দেশের সবচেয়ে পুরনো এই সংগঠনটির অনেক সুনামকে নস্যাৎ করে চলেছে। ক্ষমতাসীন দলের এই অঙ্গ-ছাত্রসংগঠনটির মুরব্বি সংগঠন আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী বেপরোয়াভাবে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিপক্ষ বিতাড়নসহ অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সঙ্ঘাত এদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড এ পর্যন্ত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সীমিত থাকলেও তা এখন সম্প্রসারিত করার চেষ্টা চলছে স্কুলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝেও, ‘স্কুল ছাত্রলীগ’ গঠনের প্রয়াসের মাধ্যমে। সম্প্রতি চট্টগ্রামে ‘স্কুল ছাত্রলীগে’র প্রথম বলি হয়েছে আদনান নামের চট্টগ্রামের কলেজিয়েট স্কুলের নবম শ্রেণীর মেধাবী এক ছাত্র। দলীয়ভাবে কোনো অনুমোদন না থাকলেও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্কুলে চলছে ছাত্রলীগের রাজনীতি। স্কুলে ছাত্রলীগের রাজনীতির এক দুঃখজনক অধ্যায় রচিত হলো আদনান হত্যার মধ্য দিয়ে। গত মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রামের জামালখান আইডিয়াল স্কুলের সামনে ছাত্রলীগের অপর পক্ষের ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে খুন হয় আদনান। আদনান কলেজিয়েট স্কুলে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। দলীয় অনুমোদন না থাকায় সেখানে স্কুল ছাত্রলীগের কোনো কমিটির অস্তিত্ব নেই। এর পরও সে ছিল ওই স্কুলের এক বড় ছাত্রনেতা। বাবা আখতারুল আলম জানান, সে একজন মেধাবী ছাত্র। এবারের জেএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ পেয়েছে। সে যে ভেতরে ভেতরে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জুড়িত হয়ে পড়েছে, তা তার জানা ছিল না। আদনানকে নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।
গতকালের প্রায় সব ক’টি জাতীয় দৈনিকে ছাত্রলীগ নিয়ে একটি উদ্বেগজনক খবর প্রকাশিত হয়েছে। খবর মতেÑ ছাত্রী নিপীড়নের অভিযোগে ছাত্রলীগের সাত নেতাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবিতে গত বুধবার দিনভর আন্দোলন করেছেন শিক্ষার্থীরা। এরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানীকে প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা তার কার্যালয়ে আটকে রাখেন। প্রক্টর সমাধান দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীরা দাবি মেনে নিতে তাকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন। রাজধানীর বড় সাতটি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থেকে বাদ দেয়ার দাবিতে এক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করে আসছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। গত সোমবার উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থানের সময় ছাত্রলীগের বিভিন্ন হল শাখার নেতাকর্মীরা আন্দোলনরত ছাত্রদের হুমকিধমকি এবং ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত ও গালিগালাজ করেন। এরা উপাচার্যের কার্যালয়ে তাকে মারধর করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন তাকে থানায় সোপর্দ করে। এসবের প্রতিবাদেই গত বুধবার আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তবে ২৮ ঘণ্টা আটক থাকার পর গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে শাহবাগ থানা থেকে মুক্তি পান মশিউর রহমান।
শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবিতে এখনো অনড়। অভিযোগ আছেÑ ছাত্রলীগের এ ধরনের নানা কাজে সরকারি দল ও প্রশাসন মদদ জোগায়। ফলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে বারবার নির্যাতিত ও লাঞ্ছিত হচ্ছেন সাধারণ ছাত্রছাত্রী। শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার স্বার্থে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে। কিন্তু কে তাদের থামাবে সে প্রশ্ন রয়ে গেছে প্রশ্ন হয়েই। এভাবে ছাত্রলীগের মুরব্বি সংগঠন আওয়ামী লীগ এর দায় এড়াতে পারে না।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.