লম্বা নাকের সাইগা

আবদুস সালিম

তোমরা কি কখনো সাইগার নাম শুনেছ? এটি এমন এক ধরনের অবাক করা প্রাণী, যা দেখতে হরিণের মতো। আবার কিছুটা ছাগলের মতোও দেখায়। দূর থেকে সাইগা দেখলে অনেকে এদের ছাগল বা হরিণ ভাবে। এতেই বোঝা যায় সাইগার সাথে হরিণ এবং ছাগলের কত বেশি মিল রয়েছে। তবে সাইগা দেখতে কোনো বড়সড় ছাগলের মতো। এক ধরনের অ্যান্টিলোপও এরা।
সাইগাকে ছাগল, ভেড়া, হরিণ প্রভৃতি প্রাণীর মতো দেখা যাওয়ার কারণও আছে। সাইগা ছাগল-ভেড়া জাতীয় প্রাণী। হরিণের মতো বুনো অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায় এদের। সাইগাকে সাইগা আন্টিলোপও বলা হয়ে থাকে। তবে খুব একটা পার্থক্য নেই এদের চেহারায়। সাইগার নাকের অংশ যথেষ্ট বড়। শিং যথেষ্ট লম্বা। আর চোখ দুটো যেন চেহারা থেকে সামান্য উপরের দিকে চলে গেছে।
পুরুষ সাইগা স্ত্রী সাইগার তুলনায় বড় হয়। মরুভ‚মিতেও এদের দেখতে পাওয়া যায়। এরা বেশি পছন্দ করে ঘাস কিংবা গুল্মজাতীয় ঝোপঝাড়ের জায়গা। উজবেকিস্তান ও রাশিয়ায় এ প্রাণী বেশি দেখা যায়। মঙ্গোলিয়া ও কাজাখস্তানেও দেখা যায়। এদের নাক বেশি লম্বা হলেও তা উপকারী। লম্বা নাকের কারণে ধুলাবালি সহজে ফুসফুসে যেতে পারে না। আবার শীতের সময় শীতল বাতাসও ফুসফুসে পৌঁছাতে পারে না বেশি দূরত্বের কারণে। এর আগেই তা গরম হয়ে যায়।
এদের শরীরে থাকে ঘন লোম। এ কারণেও ঠাণ্ডার সময় শীত কম লাগে। লোমগুলো যথেষ্ট পুরু হয়ে যায় শীতের সময়। ফলে শীতে কষ্ট কম হয়। শীতকালে এদের দেখতে অন্যান্য সময়ের তুলনায় একটু বেশিই সুন্দর লাগে। এদের শিং গুঁড়ো করে ওষুধ বানানোর রেওয়াজ আছে অনেক দেশে। এদের গোশতের প্রতিও লোভ রয়েছে ভোজনরসিকদের। এ কারণে বিশ্বে দ্রæত কমছে সাইগা। তবে অনেক দেশে এদের বংশবিস্তার ঘটানোর প্রক্রিয়া চলছে। সাইগারা মাম্মালিয়া শ্রেণীর। আর বোভিডা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.