বিদেশে বাংলাদেশী শ্রমিকের মৃত্যু

নানা কারণেই তারা নিরাপত্তাহীন

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশী শ্রমিকেরা ভালো নেই। সেখানে নানা ধরনের প্রতিকূল পরিবেশে মানসিক পীড়ন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস, কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে তাদের কাজ করতে হয়। ফলে মাঝে মধ্যেই গণমাধ্যমে বাংলাদেশী প্রবাসী শ্রমিকদের প্রাণহানির ঘটনা আমাদের শুনতে হয়। এসব বিষয়ে কোনো যৌক্তিক প্রতিকারও লক্ষ করা যাচ্ছে না। ব্যাপারটি যেন এমন, আমাদের প্রবাসী শ্রমিকদের এ ধরনের মৃত্যু ঘটাটা একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। এর প্রতিকার নিয়ে ভাবার কিছু নেই।
গতকাল একটি জাতীয় ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ২০১৭ সালে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশী শ্রমিকদের মধ্যে কমপক্ষে তিন হাজার ৪৮০ জনের মৃত্যু ঘটেছে, যাকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে ভাবা যায় না। এসব মৃত্যুর পেছনে রয়েছে প্রধানত স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক। এ তথ্য প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছর তিন হাজার ৪২৯ জন শ্রমিকের লাশ সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশে আনা হয়। অপর দিকে, ৫১ জনের লাশ স্বাগতিক দেশের মাটিতে সমাহিত করা হয়েছে। এসব স্বাগতিক দেশের মধ্যে রয়েছে প্রধানত লিবিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও আরব আমিরাত। তাদের মধ্যে ৯০০ জনের লাশ ফেরত আনা হয়েছে সৌদি আরব থেকে।
প্রবাসী অধিকার সম্পর্কিত অধিকারকর্মীরা এভাবে প্রবাসে প্রচুরসংখ্যক বাংলাদেশের তরুণ শ্রমিকের মৃত্যুর ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, এসব শ্রমিক বিপুল অঙ্কের টাকা ঋণ করে বিদেশে যান। কিন্তু সেখানে তাদের কাজ করতে হয় অপ্রত্যাশিত কম বেতনে। ফলে এরা ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে মানসিক পীড়নে পড়েন। এ জন্য তাদের অনেকেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর শিকারে পরিণত হন। উল্লেখ্য, এভাবে মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন যেসব প্রবাসী শ্রমিক তাদের বয়স ২৫-৩৫ বছর। এ ছাড়া এরা যে কর্মপরিবেশে কাজ করেন, তা অস্বাস্থ্যকর। তাদের সাথে মালিকেরাও ভালো আচরণ করেন না। অভিযোগ আছে, উপযুক্ত কর্মপরিবেশ না পাওয়ার কারণে অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। কারণ, দেশে ফিরে এলে তারা যেমন পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে পারবেন না, তেমনি ঋণের টাকা পরিশোধের কোনো উপায় খুঁজে পাবেন না। অনেক সময় তাদের যে বেতনভাতা ও সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদেশে পাঠানো হয় বা নেয়া হয়, বাস্তবে তারা তা পান না। ফলে তারা একধরনের হতাশায় ভোগেন। এটি তাদের আত্মহত্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
দেশে প্রবাসীকল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় রয়েছে। রয়েছে প্রবাসীকল্যাণ বোর্ড। এগুলোর বাইরে একই সাথে প্রবাসে বাংলাদেশী দূতাবাসগুলো রয়েছে, তাদের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দেশে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের সমস্যাগুলো দেখা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া। কিন্তু সে দায়িত্ব পালনে তারা বরাবর ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। প্রবাসী শ্রমিকদের হয়রানি কমাতে তারা কার্যকর ভূমিকা পালন করছেন বলে মনে হয় না। আমরা আশা করব, এসব প্রতিষ্ঠান প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির ব্যাপারে সমধিক সচেতনতা দেখাবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.