রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনার পর রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু আরাকানে ফেরত যাওয়া নিয়ে রোহিঙ্গারা এখনো শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। নিপীড়নের মুখে চলে আসা রোহিঙ্গারা সেখানে কতটা নিরাপদে থাকতে পারবেন তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ও সাহায্য সংস্থাগুলো বলছে, রোহিঙ্গারা ফিরে গিয়ে কতটা স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাশিবিরে অবস্থানরত রাখাইনের প্রায় ৪০টি গ্রামের প্রতিনিধিরা ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে বেশ কিছু শর্তের কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেÑ তাদের ফেরত নেয়ার পর মিয়ানমারের নাগরিকত্ব প্রদান, বসতবাড়ি ও চাষাবাদের জমি ফেরত দেয়া এবং সামরিক অভিযান বন্ধ করা।
শরণার্থী হয়ে আসা মিয়ানমারের নাগরিকদের রাখাইনে ফেরত যাওয়ার ক্ষেত্রে এসব দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর এসেছে, রোহিঙ্গাদের ফেরত নিয়ে মিয়ানমার সরকার তাদের বিভিন্ন ক্যাম্পে আটকে রাখবে। এখনো কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে খোলা আকাশের নিচে এমন কারাগারে রাখা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে রোহিঙ্গারা এক উদ্বাস্তুশিবির থেকে আরেক উদ্বাস্তুশিবিরে যেতে চাইবে না। রোহিঙ্গা নেতারা দাবি করছেন, জাতিসঙ্ঘের তত্ত্বাবধানে একটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তুলে তাদের ফেরত নেয়া হোক। একইভাবে তাদের বসতবাড়ি ফেরত দেয়া হোক। আসলে নাগরিক অধিকার না পেলে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে গিয়েও উদ্বাস্তুর জীবনযাপন করবে। এ ছাড়া সেনা অভিযান অব্যাহত থাকলে রোহিঙ্গারা; বিশেষ করে তরুণেরা ঝুঁকির মধ্যে পড়বেন। মিয়ানমার সেনাবাহিনী যে নিরীহ তরুণদের হত্যা করেছে তার যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। সম্প্রতি ১০ নিরীহ রোহিঙ্গা তরুণকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।
এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রাখাইনে ফেরত পাঠাতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের উচিত, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে দু’দেশের মধ্যে যে ঐকমত্য হয়েছে তার পরিসর আরো বাড়ানো। প্রায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চলবে। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, এর আগেও বেশ কিছু রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। তাদের অনেকে আবার ফিরে এসেছে। মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে সুযোগ-সুবিধা দেয়ার মাধ্যমে কেবল রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.