রোহিঙ্গা শরণার্থী সঙ্কট আরো বাড়বে

বিশ্বব্যাংকের উদ্বেগ আমলে নিন

মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি দৃশ্যতা চূড়ান্ত করেছে। সে অনুযায়ী রোহিঙ্গারা ফিরে যাবে ‘কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পগুলোতে’। তাদের ফেলে আসা বাড়িঘরে পুনর্বাসন করা হবে না। এর ফলে রোহিঙ্গা শরণার্থী সঙ্কট আরো দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। এ ধরনের প্রত্যাবাসনের প্রতিবাদে গত শনিবার কক্সবাজারের নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। বিক্ষোভকারীরা পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ অনুসারে তাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দেয়ার দাবিটি। তা ছাড়াও দাবি তোলা হয়েছে, মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিক্ষোভ প্রদর্শন করে রোহিঙ্গারা দাবি উপস্থাপন করে এসব শরণার্থীশিবির সফররত জাতিসঙ্ঘের স্পেশাল র্যাপর্টিয়ার ইয়াংজি লির কাছে।
বিশ্বব্যাংক সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছে, রোহিঙ্গা শরণার্থী সঙ্কট দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে। বিশ্বব্যাংক মনে করে, ‘হোস্ট কমিউনিটিগুলোকে’ জরুরিভিত্তিতে আরো সহায়তা দেয়া প্রয়োজন যাতে এই শরণার্থী সমস্যা মোকাবেলা করতে পারে। সহায়তা দিতে হবে সেইসব শরণার্থীকে যারা এখন অনেকটা ভঙ্গুর পর্যায়ে রয়েছে।
কয়েকটি রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির পরিদর্শন করে বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানোট ডিক্সন বাংলাদেশ সরকারের ও জনগণের প্রশংসা করেন রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও যতœ নেয়ার জন্য, যারা মিয়ানমার থেকে সন্ত্রাসের হাত থেকে বাঁচার জন্য পালিয়ে এ দেশে আশ্রয় নিয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ সরকারের সাথে এবং এ দেশের জনগণের সাথে এ ব্যাপারে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘অগুণতি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। শুধু সারির পর সারি শরণার্থীশিবির। বাঁশ আর প্লাস্টিক শিট দিয়ে এগুলো তৈরি। এগুলো বন উজাড় করে পাহাড়জুড়ে বিস্তৃত। এটি প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে অবকাঠামো ও পরিষেবা, একই সাথে পানিসম্পদ ও পরিবেশের ওপর। যখন বর্ষাকাল আসবে তখন রোগশোক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার চ্যালেঞ্জ বেড়ে যাবে।’
এমনি অবস্থায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটি প্রথম ব্যাচের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে এ প্রস্তুতি সম্পর্কে শরণার্থী ও জাতিসঙ্ঘ কর্মকর্তাদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। যেখানে এই সমস্যার মূল কারণ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব না দেয়া। সেখানে এ ব্যাপারে কোনো মীমাংসা না করেই তাদের কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। তা ছাড়া তাদের নিজেদের বাড়িঘরে ফিরে যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। এ অবস্থায় রোহিঙ্গারা স্বাভাবিকভাবেই মিয়ানমারে ফিরে যেতে অনীহা প্রকাশ করেছে।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আমরা মনে করি, সবার আগে রোহিঙ্গাদের পূর্ণাঙ্গ নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে হবে। সেই সাথে তাদের নিজ নিজ বাড়িঘরে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে নয়। তদুপরি আন্তর্জাতিক মহলকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সহায়তা কর্মসূচি জোরদার করতে হবে। মনে রাখতে হবে, বর্ষা মওসুমে তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.