ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে সঙ্ঘাত

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে

ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ ও শাখা সংগঠনগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাতের নতুন মাত্রা শুরু হয়েছে। রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নিজেদের মধ্যে কোন্দল সহিংস হয়ে ওঠার আলামত দেখা যাচ্ছে। সহযোগী একটি দৈনিকের খবরে জানা যায়, জেলা পর্যায়ের দলীয় নেতা, সংসদ সদস্য, পৌরসভার মেয়র এবং ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মেম্বারেরা এ দ্বন্দ্বে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন। মূলত চলতি বছরে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন এ ধরনের সঙ্ঘাতের মূল কারণ। মাঠ দখলে স্থানীয়পর্যায়ে এই সঙ্ঘাত দেখা দিয়েছে। সাধারণ কর্মীরা এ ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেও এর পেছনে বড় নেতারা রয়েছেন। তারা নিজেদের পক্ষে মাঠকে সাজাতে চান। এ ধরনের গোলযোগে সাধারণ মানুষ আক্রান্ত এবং জনগণের সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে। অথচ এ ব্যাপারে আগের মতোই সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব।
শুক্রবার রাতে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝেরদিয়ায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও মাঝেরদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের সাথে একই দলের স্থানীয় এক নেতা সেলিম মাতব্বরের সাথে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ বাধে। এ সংঘর্ষের যে ছবি সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তা দেখে রীতিমতো যুদ্ধ বলে প্রতীয়মান হয়। উভয়পক্ষ টেঁটা বল্লম ও অন্যান্য মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। উভয় দলের রণপ্রস্তুতি দেখলে মধ্যযুগের দুই রাজার যুদ্ধের কথা মনে পড়বে। এই ঘটনায় ২৫ জন আহত হয়েছেন এবং ৩০টি বাড়ি ও ১৫টি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। কয়েক মাস ধরে একই ধরনের সংঘর্ষে বিবদমান পক্ষ ছাড়াও অনেকে আহত হয়েছেন। ঘটেছে সম্পদহানির ঘটনা। এ ধরনের সন্ত্রাস সারা দেশে কম-বেশি ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তাদের প্রতিকার পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। সারা দেশে কার্যত একটিমাত্র রাজনৈতিক দল তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে ক্ষমতার জোরে। প্রধান বিরোধী দলসহ বাকিদের পুলিশি অভিযানের মাধ্যমে প্রায় নিষ্ক্রিয় করে দেয়া হয়েছে। এমনকি তারা যখন কোনো শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামে তখনো তাদের কঠোরভাবে দমিয়ে দেয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে হামলা মামলার ঘটনা ঘটে। এ অবস্থায় ফাঁকা মাঠে আওয়ামী লীগ নিজেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজেরা নিজেদের রক্ত ঝরাচ্ছে। সম্পদ ও প্রাণহানির সাথে জড়িতরা ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত এবং চিহ্নিত অপরাধী। প্রকাশ্যে তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। এদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় প্রকাশ্যে যারা অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এটা নতুন নয়। এ ধরনের অজস্র ঘটনা ঘটে চলেছে। ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা যখন প্রকাশ্যে অপরাধ করছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। অন্য দিকে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিনা অপরাধে মামলা হামলার মাধ্যমে দমিয়ে দেয়া হচ্ছে। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়ার যে প্রবণতা চলছে, তা আইনশৃঙ্খলার অবনতিকে আরো ত্বরান্বিত করবে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে ক্ষমতাসীন সরকারের আন্তরিকতা দরকার। এখনো সরকারের মধ্যে এটা দেখা যাচ্ছে না।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.