‘পোল্ট্রি ফিডে বিষাক্ত ট্যানারি বর্জ্য কার্যক্রম বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

জনস্বাস্থ্য বিরোধী ‘পোল্ট্রি ফিডে বিষাক্ত ট্যানারি বর্জ্য’ কার্যক্রম বন্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন দেশের পরিবেশবাদিরা। হাইকোর্টের আদেশ বলে নিষিদ্ধ বিষাক্ত ট্যানারি বর্জ্য দিয়ে তৈরি ফিড বর্জন করার জন্য তারা এ শিল্পের সাথে জড়িত ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানান। পাশাপাশি এবিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ দায়িত্ব পালনে সজাগ থাকারও আহবান জানান তারা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের উদ্যোগে আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি হল কক্ষে ‘পোল্ট্রি ফিডে বিষাক্ত ট্যানারি বর্জ্য; গভীর সংকটে জনস্বাস্থ্য! মুক্তির উপায় কী?’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাপা’র প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ফুড সেফটি নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান মহিদুল হক খানের সভাপতিত্বে এবং বাপা’র যুগ্মসম্পাদক মিহির বিশ্বাসের সঞ্চালনায় এতে মুল বক্তব্য রাখেন বাপা’র যুগ্মসম্পাদক ও নিরাপদ খাদ্য-পানীয় ও ভোক্তা অধিকার কর্মসূচির সদস্য সচিব জাহেদুর রহমান।

নির্ধারিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এম আব্দুল মমিন, পশুসম্পদ ও পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞ বিধান চন্দ্র দাস, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী ও মিডিয়া এডভোকেসী কর্মকর্তা পরিবেশকর্মী সৈয়দ সাইফুল আলম শোভন।

মহিদুল হক খান বলেন, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস’ সারাদেশে পালিত হবে। তবে শুধু দিবস পালন করলেই চলবে না, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। পোলট্রি মুরগী সাধারণ জনগণের ক্রয়সীমার মধ্যে থাকাতে ধনী গরীব নির্বিশেষে এর কদর খুবই বেশি। তাছাড়া এটি আমাদের প্রোটিন চাহিদা পুরণের প্রধান উৎস। আমরা চাই পোল্ট্রি শিল্প টিকে থাকুক। হাইকোর্টের আদেশ বলে নিষিদ্ধ বিষাক্ত ট্যানারি বর্জ্য দিয়ে তৈরি ফিড বর্জন করার জন্য তিনি এ শিল্পের সাথে জড়িত ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানান। পাশাপাশি এবিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ দায়িত্ব পালনে সজাগ থাকারও আহবান জানান।

জাহেদুর রহমান বলেন, পোল্ট্রি ও মাছের খাবারে (ফিড) পাওয়া যাচ্ছে বিষাক্ত ট্যানারির বর্জ্য। চামড়ার বর্জ্যে রয়েছে অত্যন্ত ক্ষতিকর উপাদান। এসব বর্জ্য দিয়ে মাছ ও মুরগীর খাবার তৈরি হচ্ছে, আর এই খাবার খাওয়ানোর ফলে মাছ ও মুরগীর শরীর হচ্ছে বিষাক্ত। আগে হাজারিবাগের বিভিন্ন স্থানে হত এই অপকর্ম। এখন ভাকুর্তার মোগড়াকান্দির চকে বিষাক্ত ট্যানারির বর্জ্য থেকে তৈরি হচ্ছে পোল্ট্রি ও মাছের খাবার (ফিড) তৈরির প্রাথমিক কাজ। অসাধু ব্যবসায়ীদের এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য দেশবাসীর স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে।

সৈয়দ সাইফুল আলম বলেন, উচ্চ আদালতে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কোনো অজ্ঞাত কারণে অথবা প্রশাসনের গাফিলতির কারণে আদালতের আদেশ কার্যকর হচ্ছে না।

ড. এম আব্দুল মমিন বলেন, নিরাপদ খাদ্য গ্রহণে কমিউনিটি ভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনকারীগণ উৎসাহিত হবে এবং তা প্রাপ্তি নিশ্চিত হতে পারে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

বিধান চন্দ্র দাস বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন সম্বিলিত উদ্যোগ এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার বাস্তবায়ন করা।

গাউস পিয়ারী বলেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ফিড অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। এটা না করতে পারলে ভবিষ্যত প্রজন্ম হুমকির মুখে পড়বে। এটি নিশ্চিত করতে হবে সকলে মিলে এবং যার যার অবস্থানে থেকে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.