বিটকয়েন মনিটরিং করার কোনো কর্তৃপক্ষ নেই

সম্প্রতি বিটকয়েন মুদ্রাটি আলোচনায় আসার কারণ মুদ্রাটির মূল্য হু হু করে রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে গেছে। ফলে অনেকেই এই বিটকয়েন কেনার দিকে ঝুঁকছে। তবে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের অনেকে। অনেক সময় শোনা যায় আন্তর্জাতিক হ্যাকাররা বিভিন্ন কম্পিউটার হ্যাক করে মুক্তিপণ দাবি করছে আর সে মুক্তিপণ পরিশোধ করতে বলা হয় বিটকয়েনে।
বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর বলেন, এটি ইন্টারনেট সিস্টেমে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কে প্রোগ্রামিং করা আছে, যা চাইলে কেনা যায়। প্রতি বছর এটি অল্প অল্প করে বাড়ানো হয়ে থাকে। ১০-১৫ বছর পর্যন্ত হয়তো বাড়বে, তার পর আর বাড়বে না। এটি এমন একটি কয়েন যেটি কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা কোনো দেশের জারি করা নয়। ইন্টারনেট সিস্টেমকে ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি এ সিস্টেমকে ডেভেলপ করেছে। এটিকে বলা যেতে পারে এক ধরনের জুয়াখেলা, যার ভিত্তিতে হয়তো আমার টাকা খাটিয়ে লাভজনক কিছু করে ফেলতে পারি। এ জন্য বেশির ভাগ লোক এর পেছনে এখন ছুটছে।
এ মুদ্রার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে মনিটরিং করার কোনো কর্তৃপক্ষ নেই, এর সাথে নেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কয়েক দিন আগে এর দাম ছিল এক হাজার ডলার। তারও আগে ছিল ১০০ ডলার। এক বছরের মধ্যে ১০০ থেকে এক হাজার ডলারে দাম ওঠে যায়। এরপর কয়েক মাসের মধ্যে এর দাম উঠে গেছে ১৯ হাজার ডলারে।
এটি র্যাশনাল বিহেভিয়ার নয়; এখানে অনেকেই এর পেছনে বিনিয়োগ করছেন আরো বেশি টাকার জন্য। এমন ক্ষেত্রে হঠাৎ করে এসব লোক বাজার থেকে সরে গেলে বিপদে পড়বেন অনেকেই। এই অর্থনীতিবিদ সতর্ক করে বলেন, এটিই আমাদের আশঙ্কা। যেহেতু এখানে কোনো কর্তৃপক্ষ নেই, টাকা আরো বেশি সরবরাহের কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং এটি যখন কলাপস করবে বা উপরের দিকে যাবে, এটি নিয়ন্ত্রণ করার কোনো ম্যাকানিজম নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বিটকয়েনে বিনিয়োগ না করতে। কারণ এটি কোনো অনুমোদিত কারেন্সি নয়। এটিতে বিনিয়োগ করা ঠিক হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিটকয়েনের আইনি কোনো ভিত্তি নেই বলে ঝুঁকি এড়াতে বিটকয়েন দিয়ে লেনদেন কিংবা এর প্রসারে সহায়তা কিংবা প্রচার থেকে বিরত থাকতে সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশে বিটকয়েনের লেনদেনের সঠিক কোনো তথ্য তাদের কাছে না থাকলেও বিভিন্ন মাধ্যমে তারাও লেনদেনের খবর পেয়েছেন। যেহেতু এই লেনদেন অবৈধ। এর আইনি কোনো ভিত্তি নেই। এই লেনদেন হলে মানুষের ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি। সে কারণে মানুষ যাতে এই লেনদেন কোনো অবস্থাতেই না করে, সে বিষয়ে সতর্ক করতেই এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নামবিহীন বা ছদ্মনামে প্রতিসঙ্গীর সঙ্গে অনলাইনে ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেনের দ্বারা মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ সম্পর্কিত আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.