জীবনের বাঁকে বাঁকে দীর্ঘশ্বাস!

কাজী সুলতানুল আরেফিন

ছোটবেলায় রঙবেরঙের বাহারি খেলনা দেখলে মন খারাপ হয়ে যেত। সব খেলনা নিজের করে পাওয়ার আশা কিন্তু করতাম না। তবুও মন যেগুলো চাইত সেগুলো আমাদের সময় পাওয়া অনেকটা অসম্ভব না হলেও কষ্টসাধ্য ছিল। আমি শিশুকাল পেরিয়ে এসেছি। এখন আমার ছেলে সেই কাল অতিক্রান্ত করছে।
খুব দামি না হলেও অনেক খেলানায় ভরে যাচ্ছে আমার ঘর। ‘এটি কি নিছকই অপচয় নয়?’ আমার কাছে এমন প্রশ্ন রাখে আমার পরিবারের বাকি সদস্যরা। আমার ছেলের নাম আহনাফ। এবার সে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। অফিসে থাকা অবস্থায় এই সুখবর আমার স্ত্রী আমাকে ফোন করে জানাল। অফিস থেকে দ্রুত বেরিয়ে পড়লাম। মার্কেটের অলিগলি পাড়ি দিয়ে খুব যতœ করে ছেলের জন্য একটা ফুটবল কিনলাম। আমি জানি এত বড় ফুটবল দেখে আমার ছেলে আনন্দে আত্মহারা হবে। খুশিতে নেচে বাড়িঘর মাথায় তুলবে। তারপর সমবয়সী সবাইকে ডেকে দেখিয়ে বলবে, ‘এই দ্যাখো আমার আব্বু আমার জন্য ফুটবল এনেছেন!’ তারপর সবাইকে নিয়ে ফুটবল খেলবে। ফুটবলটি যেহেতু তার তাই সে কর্তৃত্ব দেখাবে। আমি দূর থেকে তাকিয়ে তাকিয়ে সে দৃশ্য উপভোগ করব।
আমার স্ত্রী আবারো গলা ঝেড়ে আমাকে বলবে, ‘কী দরকার ছিল পয়সা নষ্ট করার!’ আমি চুপচাপ থাকব। কিছুই বলব না। আমার বুকের ভেতরের চাপা কষ্ট সে তো আর জানবে না। তবে আমি জানি আমাকে আরো অনেক কিছু কিনতে হবে ছেলের জন্য। অপরের ছেলেদের কাছে ছোটবেলায় ঠিক যত কিছু দেখে আমার দীর্ঘশ্বাস বেরিয়েছিল তত কিছু আমি আমার ছেলেকে কিনে দেবো। আমি আমার ছেলের কোনো দীর্ঘশ্বাস বের হতে দিতে চাই না।
পূর্ব শিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.