খালেদা জিয়ার গাড়িবহর থেকেই পুলিশের ওপর হামলা : সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংসদ প্রতিবেদক

সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের প্রশ্ন- প্রধানমন্ত্রীর পুলিশ, সেনাবাহিনী ও প্রশাসন যদি খালেদা জিয়ার অধীনে হয়ে থাকে তাহলে দেশ চলছে কিভাবে? আজ রোববার ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য আ.খ.ম জাহাঙ্গীর হোসাইন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এক সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ প্রশাসন তাদের সাথে রয়েছে। তাহলে আমাদের সাথে কারা রয়েছেন? এ প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্নকর্তাকেই এমন পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পুলিশ, সেনাবাহিনী যদি খালেদা জিয়ার অধীনে হয়ে থাকে তাহলে দেশ চলছে কিভাবে? এটা আপনার কাছে আমার প্রশ্ন।

খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে করা এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার মামলাটি বিচারাধীন। সেখানে বিচারক কি রায় দেবেন সেটা বিচারক জানেন, আমাদের করণীয় কিছু নেই। কেউ যদি আইন শৃঙ্খলা নিজের হাতে তুলে নেন কিংবা অস্থতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন কিংবা ভাঙচুর করেন তাহলে আইনানুযায়ী তার ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেদিনের ভিডিও ফুটেজ দেখে আমরা সনাক্ত করছি। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এটাই স্বাভাবিক।

আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরার এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ৩০ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরের সামনে থেকেই পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়েছে। সেদিন তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে পুলিশের প্রিজন ভ্যান ভাঙচুর করে। সেদিনের ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেদিন তারা পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে পুলিশের দুটি রাইফেল ভেঙেছে, পুলিশের প্রিজন ভ্যান ভাঙচুর করেছে। তিনি বলেন, যখন ঘটনাটি ঘটে ঠিক তখনই বিএনপি চেয়ারপারসন সেই রাস্তায় দিয়ে যাচ্ছিলেন। তার সামনের বহর থেকেই ঘটনাটি ঘটে। আমাদের পুলিশ অত্যন্ত ধৈয্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। ভিডিও দেখে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। শনাক্ত করে তাদের সবাইকে আইনের মুখোমুখি করা হবে।

হেফাজতের আল্লামা শফি আহমদের সাথে সাক্ষাত প্রসঙ্গে জাসদের নাজমুল হক প্রধানের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সারা বাংলাদেশের আলেম সমাজের অত্যন্ত সম্মানীয় ব্যক্তি হচ্ছেন আল্লামা শফি আহমেদ। সবাই তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখেন। চট্টগ্রামে সরকারি কাজে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে অসুস্থ্যতার খবর জানতে পেরেই তার সাথে দেখা করতে যাই। এখানে অন্য কিছু নেই।

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া
সরকারী দল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণের (নোয়াখালী-৩) তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, রোহিঙ্গাদের ধারাবাহিক অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় পর্যায়ক্রমে কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, মাদকদ্রব্যসহ অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধ, বিভিন্ন প্রকার সীমান্ত অপরাধ দমন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার প্রাথমিক পর্যায়ে মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকায় শাহপরীর দ্বীপ থেকে ২৭১ কিলোমিটার রিং রোডসহ কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে- যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হবে।

আওয়ামী লীগের আরেক সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছেন তারা যাতে টেকনাফের শরণার্থী ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যেতে না পারেন সেজন্য একটা নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম শহরসহ দেশের অন্য কোনো শহরে প্রবেশে রোধে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাস/নৌরুটের মালিকদের এনআইডি কার্ড ছাড়া কাউকে টিকিট না দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গারা যাতে অন্য এলাকায় ছড়িয়ে যেতে না পারে সেজন্য ১১টি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। এসব চেকপোস্টে আটককৃত রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে পুনরায় ফেরত পাঠানো হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় আটক রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী রোহিঙ্গাদের দৈনন্দিন চলাচল মনিটরিং করছে। এছাড়াও রোহিঙ্গারা যাতে জেলেদের সাথে মিশে মাছ ধরতে না পারেন সেজন্যও নজর রাখা হচ্ছে।

দেশে কর্মরত সাড়ে ৮৫ হাজার বিদেশী
বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য এ কে এম মাঈদুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, বিভিন্ন পেশায় ৮৫ হাজার ৪৮৬ জন বিদেশী নাগরিক বাংলাদেশে কর্মরত রয়েছেন। পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের তথ্য অনুযায়ী তালিকায় সবচেয়ে বেশি রয়েছেন ভারতীয় নাগরিক। প্রায় দুই লাখ বিদেশী নাগরিক বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ৪০ হাজার কোটি টাকা নিজ দেশে নিয়ে যাচ্ছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদেশী নাগরিকরা বিশেষজ্ঞ, কান্ট্রি ম্যানেজার, কনসালট্যান্ট, কোয়ালিটি কন্ট্রোলার, মার্চেন্ডাইজার, টেকনেশিয়ান, সুপারভাইজার, চিকিৎসক, নার্স, ম্যানেজার, প্রকৌশলী, প্রডাকশন ম্যানেজার, ডিরেক্টর, কুক, ফ্যাশন ডিজাইনার ও শিক্ষক ক্যাটাগরিতে কাজ করেন।

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, কাজের ধরন অনুযায়ী পরিসংখ্যানে দেখা যায় ব্যবসায় মালিক রয়েছেন ৬৭ হাজার ৮৫৩ জন, এক্সপোর্টার আট হাজার ৩০০ জন, অফিসার তিন হাজার ৬৮২ জন, খেলোয়াড়/স্পোর্টস সংগঠক দুই হাজার ১০৫ জন, ক্যাপিটাল বিনিয়োগকারী ৯২২ জন, পার্সোনাল স্টাফ ৮০৪ জন, ইকুপমেন্ট টেকনিক্যাল পার্সোনাল ৭২৭ জন, এনজিও কর্মী ৫৬১জন, রিসার্স/ট্রেনিং ৪০০ জন এবং গৃহকর্মী ১৩২ জন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তালিকা অনুযায়ী ৪৪টি দেশের মধ্যে সর্বাধিক ভারতের ৩৫ হাজার ৩৮৬ জন এবং সর্বনিম্ন উজবেকিস্তানের ১০৩ জন নাগরিক বাংলাদেশে কাজ করছেন।

ভারতের পরেই রয়েছে চীনের ১৩ হাজার ২৬৮ জন, জাপানের চার হাজার ৯৩ জন, দক্ষিণ কোরিয়ার তিন হাজার ৩৯৫ জন, মালয়েশিয়ার তিন হাজার ৮০ জন, শ্রীলংকার তিন হাজার ৭৭ জন, থাইল্যান্ডের দুই হাজার ২৮৪ জন, যুক্তরাজ্যের এক হাজার ৮০৪ জন, যুক্তরাষ্ট্রের এক হাজার ৪৪৮ জন, জার্মানির এক হাজার ৪৪৭ জন, সিঙ্গাপুরের এক হাজার ৩২০ জন, তুরস্কের এক হাজার ১৩৪ জন। এছাড়া এক হাজারের নিচে আছে বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিক।

মাদকের কারণে এক লাখ ৩২ হাজার ৮৮৩ জন আসামি
সরকারি দলের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের (জামালপুর-১) তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযানে এক লাখ ৬ হাজার ৫৩৬টি মামলার বিপরীতে এক লাখ ৩২ হাজার ৮৮৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। তার নির্দেশ অনুযায়ী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক মাদক অপরাধ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাদবদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর কর্তৃক জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে পাঁচ হাজার ৯৯১টি মামলায় ছয় হাজার ৪৪ জন মাদক ব্যবসায়ীকে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়।

তিনি বলেন, ইয়াবা পাচার রোধে টেকনাফ অঞ্চলের জন্য সব বাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। টেকনাফে একটি স্পেশাল জোন করার প্রস্তাব সরকারের বিবেচনাধীন আছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.