‘শিশুপার্কে ডিএসসিসির কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের সিদ্ধান্ত সংবিধান পরিপন্থী’

নিজস্ব প্রতিবেদক

সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের দায়িত্ব বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা। রাষ্ট্রের একটি সংস্থা ডিএসসিসির নবাবগঞ্জ শিশুপার্কে কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের সিদ্ধান্ত সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)সহ মোট ১৯টি পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধনে পরিবেশবাদীরা এসব কথা বলেন।

‘পার্ক-মাঠে কমিউনিটি সেন্টার বা কোনো স্থাপনা নয়; নবাবগঞ্জ শিশুপার্কে বহুতল ভবনের নামে কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ বন্ধ কর’- দাবিতে এ মানববন্ধনে তারা আরো বলেন, মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ দেশের সকল পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ আইন অনুযায়ী পার্ক হিসাবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণী পরিবর্তন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সরকারী, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জায়গার ক্ষেত্রেও এই বিধান প্রযোজ্য। স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ মোতাবেক কর্পোরেশনের কাজ হচ্ছে নগরীতে সর্বসাধারণের সুবিধা ও চিত্ত-বিনোদনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যান নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা, উদ্যান উন্নয়নের জন্য প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা। যেখানে কর্পোরেশনের কাজ হচ্ছে পার্ক নির্মাণ করা, সেখানে তারা বিদ্যমান পার্ক, খেলার মাঠ প্রতিনিয়ত ধ্বংস করে চলেছে। যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

পরিবেশবাদীরা বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-এর ২৩ নং ওয়ার্ডস্থ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার একমাত্র পার্ক নবাবগঞ্জ পার্ক। পার্কটি দখল করে কমিউনিটি সেন্টারের নামে বহুতল ভবন স্থাপন করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন ও মিডিয়ায় প্রচার অব্যাহত থাকলেও আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র বহুতল ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে যাচ্ছেন। সেবামূলক স্থাপনাগুলোর মধ্যে ব্যায়ামাগার, কমিউনিটি সেন্টার, পাঠাগার ইত্যাদির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কিন্তু ঢাকায় যেখানে খোলা জায়গার সংকট সেখানে কখনোই পার্ক-মাঠের জায়গা দখল করে এধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। ব্যায়ামাগার, কমিউনিটি সেন্টার, পাঠাগার ইত্যাদি সেবামূলক স্থাপন করতে হলে সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন বাণিজ্যিক বিভিন্ন ভবনে কিংবা অন্যত্র বিকল্প পদ্ধতিতে তৈরি করতে পারে। কমিউনিটি সেন্টার যদি করতেই হয় তবে পার্ক, মাঠ ও জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫ ও রাজউকের মাস্টারপ্ল্যান ও ইমারাত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ করে করতে হবে। প্রকল্পটি জনসম্মুখে প্রকাশ ও যথাযথভাবে গণশুনানি, এছাড়া পার্কটিকে সংরক্ষণ করে পরিবেশ অধিদপ্তরের ও রাজউকের অনুমোদন নিয়ে প্রকল্পটিকে বাস্তবায়ন করতে হবে।

পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পবা’র সাধারণ সম্পাদক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান, নাসফ-এর সাধারণ সম্পাদক তৈয়ব আলী, পুরান ঢাকা নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সুবন্ধন সমাজ কল্যাণ সংগঠনের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, পবা’র সদস্য মো. সেলিম, মো: আকবর, ডাব্লিউবিবি-ট্রাস্ট এর কর্মসূচী ব্যবস্থাপক সৈয়দা অনন্যা রহমান, প্রকল্প কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, নোঙর-এর সভাপতি সুমন শামস, বানিপা’র সভাপতি ইঞ্জি. আনোয়ার হোসেন, মার্শাল আর্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সুমন মাহমুদ, ঐবাঁক-এর আহ্বায়ক নূরিতা নুসরাত খন্দকার প্রমুখ।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.