খাবারে সতর্ক হোন

ডা: শুভাগত চৌধুরী

শারীরিক অসুস্থতার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প নেই। অনেকেই হাতের সামনে যা পান যত্রতত্র গলাধঃকরণ করেন।
এটা ঠিক নয়। আহারের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত। সবার উচিত কোন খাবার খাচ্ছি
কেন খাচ্ছি সেটা আগে দেখে পরে খাওয়া। লিখেছেন অধ্যাপক ডা: শুভাগত চৌধুরী

দই : দই যদি টক বা টাটকা না হয় তাহলে না খাওয়াই ভালো। তাই কোন রেস্তোরাঁর খাবার টাটকা তা নিশ্চিত না হয়ে ভোজন শেষে দই না খাওয়া ভালো। পুরনো ছাঁচে পাতা দই খেলে পেটের অসুখ হতে পারে।
ডিম : যখন ডিম খাবেন, দেখবেন যেন ডিম ভালোভাবে সিদ্ধ করে রান্না করা হয়। বিশেষ করে ডিমের সাদা অংশ। কাঁচা সাদা অংশে থাকে ‘এভিডিন’Ñ এটি ভিটামিন বি কমপ্লেক্স বায়োটিন শোষণ ব্যাহত করে। বায়োটিন ঘাটতিতে ত্বকের অসুখ হয়।
সালাদ : পেটের গোলমাল, ভাবলেন রাতে রেস্তোরাঁয় যে চিংড়ির মালাইকারি খেলেন তা থেকে হয়েছে। আবার ভাবুন। সাথে যে সবুজ সালাদ অর্ডার দিয়েছিলেন সম্ভবত এ কারণেই ঘটেছে। সবুজ সবজির সালাদ ভালোভাবে ধোয়া না হলে এবং কিছুক্ষণ বাইরে থাকলে হাত দিয়ে বেশি নাড়াচাড়া করলে ইকোলাই ও অন্যান্য ক্ষতিকর জীবাণু গজাতে পারে। তাই রেস্তোরাঁ সন্দেহ হলে কাঁচা সালাদ খাবেন না। বড় ভোজে বা বড় দাওয়াতে সালাদ না খাওয়াই উত্তম।
উষ্ণ ও শীতল খাবার : হট কফি সাথে শীতল আইসক্রিম অনেকের পছন্দের। ডেজার্ট দুই চরম তাপমাত্রা একসাথে গ্রহণে দাঁতে চিকন ভাঙন হতে পারে।
টুথপেস্ট : গবেষণায় দেখা গেছে, শুকনো ব্রাশ দিয়ে যারা দাঁত সাফ করেন এদের টারটার হয়, কম পেস্ট দিয়ে ব্রাশ করেন যারা তাদের চেয়ে। অনেক টুথপেস্টের এত আচ্ছন্নকারী গন্ধ আছে যে ব্রাশ করার সময়সীমা কমে যায়। মুখে এত ফেনা হওয়ায় কোথায় ব্রাশ করছেন তাও দেখা যায় না, তা ভালোভাবে দাঁত পরিষ্কার না করেই অনেকে কুলি করে ফেলেন। সবচেয়ে ভালো হলো ড্রাই ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজা। কুলি করা এবং এরপর অল্প পেস্ট দিয়ে দাঁত মাজা।
টুথপিক : দাঁতগুলো হাড়ের ভেতর প্রবিষ্ট কিন্তু মাড়ি দাঁতের সাথে যুক্ত লিগামেন্টের সাহায্যে। টুথপিক দিয়ে দাঁতের ফাঁকে খোঁচালে সেই সংযোজক কলা ছিঁড়ে যায়, তখন খাদ্যকণা সেখানে ঢুকে যায়, ঘটে সংক্রমণ। টুথপিক দাঁতের ফিলিংয়ে ঢুকে বসে থাকতে পারে। মাড়িতে ঢুকে যেতে পারে এর খণ্ড অংশ। এমনকি অনেকে গিলেও ফেলেন এটি। নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে একটি কেস রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল যে, একজন লোক একটি টুথপিক গিলে ফেলার পর তার গুরুতর লিভার অ্যাবসেস (যকৃতে পুঁজ জমা) হয়েছিল।
ফলের রস : পথের ধারে রস বিক্রেতার কাছ থেকে ফলের রস পান করা বিপজ্জনক। এ থেকে পানিবাহিত রোগ টাইফয়েড, কলেরা, আমাশয় হওয়া বিচিত্র নয়।
অনাহার : কোনো বেলা না খেয়ে থাকা ভালো নয়। পেটে গ্যাস জমে, তা থেকে বুক জ্বলা, মাথাধরা, বমি ভাব ও মুখের দুর্গন্ধও হয়। এ ছাড়া ক্ষুধার্ত হলে জৈবিক তাগিদের তাড়নায় সামনে যা থাকে তা-ই খেতে ইচ্ছা হয়। তখন অখাদ্য-কুখাদ্য খাওয়াও বিচিত্র নয়। এ ছাড়া মগজের কাজকর্মের জন্য গ্লুকোজের অটল সরবরাহ চাই।
মাছ ভাজা : মাছ ভালো স্বাস্থ্যের জন্য। তবে বেশি তেল-চর্বিতে ভাজা হলে সে ভাজা মাছ বাড়তি চর্বি ও ক্যালোরি হৃৎপিণ্ডের জন্য ভালো নয়।
পানি : পানি আছে সর্বত্র, কিন্তু পানের জন্য নিরাপদ পানি পাওয়া দুষ্কর। এমনকি সুদৃশ্য জারে সিল করা মিনারেল ওয়াটারও নয়। যাত্রায় পানি ঘরে ফুটিয়ে বোতলে করে নেবেন। পানিবাহিত রোগের সংখ্যা কম নয়Ñ টাইফয়েড, কলেরা, আমাশয়, জন্ডিস, হেপাটাইটিস, পেটের অসুখ প্রভৃতি।
অংশত হাইড্রোজেনেটেড ভেজিটেবল তেল : মার্জারিন, ক্র্যাকার্স, সেঁকা খাবার, পিনাট বাটার ও শস্যখাদ্যের সেলফ লাইফ বাড়ানোর জন্য এসব তেল ব্যবহার করা হয়। এটি প্রকৃতিগত তেল নয়, ভেজিট্যাবল তেল হাইড্রোজেন যোগ করলে এর সৃষ্টি। সৃষ্টি হয় ট্রান্স-ফ্যাট (ঞৎধহং ভধঃ), যা স্যাচুরেটেড ফ্যাটের চেয়ে বেশি বিধ্বংসী। এটি হিতকর কোলেস্টেরল এইচডিএল হ্রাস করে, বাড়ায় ট্রাইস্পিসারাইড ও এলডিএল, ক্ষতিকর কোলেস্টেরল।
পিন ও লোহা : ড্রেসের হেমলাইন স্টিচ দিচ্ছেন এদিকে মুখভর্তি পিন... অথবা দেয়ালে ফটো টাঙাচ্ছেন, মুখের লোহা চিবিয়ে (ঘধরষং) সিঁড়ি বেয়ে উঠেছেনÑ হঠাৎ করে শিশু ধেয়ে এলো আপনার দিকে, সতর্কবাণী উচ্চারণ করলেন এবং বুঝে ওঠা বা জানার আগেই লোহা বা পিন গিলে ফেললেন কয়েকটা। ডাক্তাররা বলেন, চিবুক, খাদ্যনালীÑ এমনকি ফুসফুস ফুটো হয়ে যাওয়ার সচরাচর কারণ হলো এটি।
পেন্সিল : অন্যমনস্ক হয়ে পেন্সিল চিবুলে দাঁতে অতিক্ষুদ্র ফ্র্যাকচার হতে পারে। এ ছাড়া পেন্সিলের সিসা দীর্ঘক্ষণ চুষলে বিষক্রিয়া হতে পারে।
শুকনো ফল : খুব ভালো তবে সতর্ক থাকবেন, চিবিয়ে খাচ্ছেন ভালো করে। তা না হলে ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে হবে গন্তব্য। ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালের এক রিপোর্টে জানা যায়, একজন মহিলা শুকনো আখরোট গিলে অন্ত্রে অবরোধ হয়েছিল।
বরফ : হিমায়িত পানির এই টুকরো স্ফটিকমাত্র, দাঁতের এনামেলের ক্ষতির জন্য যথেষ্ট। দাঁতে ফ্র্যাকচারও হতে পারে।

লেখক : অধ্যাপক ও ডিরেক্টর, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস, বারডেম, ঢাকা।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.