‘বেশি বেশি ভালো বই কিনুন’

সাক্ষাৎকার ঃ আলাউদ্দিন আদর

কেমন আছেন?
-বেশ ভালো আছি
এবার বইমেলায় কয়টা বই আসছে আপনার?
-দুটো তো বেরিয়ে গেছে। আরো দুটো আসবে। আশা করছি শিগগিরই আসবে...
কী কী বই আসছে?
একটার নাম ‘জীবন খাতার ফুট নোট’। আরেকটা হলো ঢাকামি। একটি গল্পগ্রন্থ অন্যটি শেষের দিকে বের হওয়ার কথা।
বইগুলো নিয়ে কিছু বলুন।
-জীবন খাতার ফুট নোট হলো বিভিন্ন ঘটনার সমাহার। একসময় পত্রপত্রিকায় বেরিয়েছে। এখন বই হচ্ছে। ঢাকামিটা হচ্ছে ঢাকার নানা স্মৃতি-ঘটনা নিয়ে লেখা পত্রিকায় প্রকাশিত আর্টিক্যালগুলোর সঙ্কলন। আর গল্পের বইটি হচ্ছে মিতুর গল্প। আর সর্বশেষ বইটির নাম হচ্ছে ‘এসো নীপবনে’।
আপনি তো বেশ ব্যস্ত থাকেন। বইমেলায় আসবেন কি।
হ্যাঁ, শুটিং এবং অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকি। তবু একদিন আসব।
বইমেলা নিয়ে আপনার অনুভূতি এবং প্রত্যাশা জানতে চাই।
-বইমেলা তো আমি খুব পছন্দ করি। এখানে অনেক মানুষের সমাগম ঘটে। অনেক বই হয়। তরুণদের লেখা, প্রবীণদের লেখা অনেক বই আমি কালেকশন করি। বইমেলায় কিনতে না পারলে পরে দোকান থেকে সংগ্রহ করি। আশায় থাকি ভালো কিছু বই হোক।
প্রত্যেক লেখকদের পাঠকেরা অপো করে মেলায় প্রিয় লেখকের বই অটোগ্রাফসহ সংগ্রহ করার। আপনি তো মেলায় খুব একটা যেতে পারেন না। আপনার পাঠকেরা কি আশাহত হয় না?
-হ্যাঁ, তা ঠিক। ইচ্ছে থাকলেও যেতে পারি না। শুটিং থাকে। কাজ থাকে। চাইলে সব সম্ভব হয় না।
আপনি তো বর্ণিল জীবনের অধিকারী। আত্মজীবনী কি লিখছেন?
-হ্যাঁ, একটু একটু লিখছি। জানি না কবে শেষ হবে। এ পর্যন্ত যে লেখাগুলো লেখা হয়েছে সেগুলোতেও আমার জীবনের অনেক ঘটনা জানা যাবে।
আপনি অভিনেতা, ঔপন্যাসিক, গল্পকার এবং প্রকৌশলী। সব কিছুর সমন্বয় করেন কিভাবে?
-প্রকৌশল পেশা হলেও আমার পছন্দের জায়গা অভিনয়। আমি তো অনেক পড়ি। অবসর সময় পড়ে ও লেখালেখি করে কাটাই। ভালো লাগে লিখতে। লেখা কেমন হয় তা পাঠকই ভালো বলতে পারবে।
বইমেলায় আগত পাঠকদের উদ্দেশে কিছু বলুন।
-যারা বইমেলায় আসে তাদের আন্তরিক অভিনন্দন। বইমেলায় আসাও একটা বিরাট ব্যাপার। তাদের আমি বলব, বেশি বেশি ভালো বই নিন। দেশের কবি-সাহিত্যিকদের উৎসাহ দিতে দেশের বই বেশি কিনুন। ভালো সৃজনশীল বই কিনুন।
আমাদের সময় দেয়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।
-আপনাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ।

ক’দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এখন কেমন বোধ করছেন?
Ñ হ্যাঁ, এখন কিছুটা সুস্থ। নিয়ম মেনে চলতে হয় আর কি। খুব প্রয়োজন না হলে বাইরে যাই না।
বইমেলায় যাচ্ছেন?
Ñ যাচ্ছি এবং যাবো। বইমেলায় যেতেই হয়। আমার একটা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ছিল। পরে আরো ১১টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচনে ছিলাম।
আপনার বইটির নাম এবং বইটি সম্পর্কে বলুন
Ñ নওয়াব পরিবারের ডায়েরি (১৭৩০-১৯০৩)। এটাও গবেষণাধর্মী বই।
অভিযোগ আছে, মেলায় গবেষণাধর্মী বই কম হয়। গবেষক হিসেবে আপনার মন্তব্য কী?
Ñ না। সৃজনশীল সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি গবেষণাকর্মও হচ্ছে। এবারো দেখলাম অনেক বই হচ্ছে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনেক কাজ হয়েছে। অন্যান্য বিষয়েও কাজ হয়েছে। গবেষণার নামে বেশ কিছু অগবেষণাও হচ্ছে। তবে কাজ হচ্ছে...।
আপনি তো চলচ্চিত্র গবেষক হিসেবেই বেশ পরিচিত। কিভাবে শুরু করলেন, সে গল্পটি জানতে চাই।
Ñ চলচ্চিত্রবিষয়ক লেখা প্রথম প্রকাশিত হয় ধ্রুপদীতে। ১৯৬৯ সালে আলমগীর কবির রচিত ও সন্ধানী পাবলিকেশন কর্তৃক প্রকাশিত চলচ্চিত্রবিষয়ক প্রথম গ্রন্থ হলো The Cinema in Pakistan। এরপর সাংবাদিক ফরিদ উদ্দিন এটাকে অনুসরণ করে বাংলাদেশ হওয়ার পর একটি বই লেখেনÑ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নামে। আমি মূলত গল্পকার ছিলাম। পরে দেখলাম এই ফিল্ডে কাজ কম হয়েছে। আমি কাজ শুরু করলাম। ১৯৮৩ সালের একুশে বইমেলায় ‘চলচ্চিত্রের খোলা জানালায়’ নামে আমার একটি বই বেরোলো।
বইটি কোন প্রকাশনী মেলায় নিয়ে এলো? বইটি নিয়ে কিছু বলুন।
Ñ বইটি প্রকাশ করেছেন রুমা প্রকাশনীর প্রকাশক রুহুল আমীন বাবু (লেখক, গবেষক)। এটিই একুশে বইমেলার প্রথম চলচ্চিত্রবিষয়ক বই। চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা ও বিশ্লেষণ ছিল বইটিতে।
যে বইটি আপনাকে তারকা গবেষক বানিয়ে দেয়। সেটি সম্পর্কে বলুন।
Ñ হা হা হা। বইটি অনেক কষ্টের ফসল। বইটির জন্য খ্যাতির পাশাপাশি অনেক টাকাও পেয়েছিলাম। বইটির নামÑ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন, ঢাকা, ১৯৮৭, পৃ: ১৬১।
বইমেলার পরিবেশ কেমন দেখলেন?
Ñ মোটামুটি সন্তোষজনক। এখন পরিসর বেড়েছে। অনেক বই হয়। ভালো লাগে।
তরুণ গবেষকদের উদ্দেশে কিছু বলুন।
Ñ তরুণ ও প্রবীণ গবেষকদের জন্য একটাই কথাÑ গবেষণা হোক সৃজনকর্ম নিয়ে। গবেষণার নামে কারো চরিত্রহনন কাম্য নয়। মনে রাখা উচিত, কারো বীর্জ ও বজ্র নিয়ে নাড়ানাড়ি করা গবেষকের কাজ নয়।
আমাদের সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।
Ñ ধন্যবাদ আপনাকেও। ভালো থাকবেন।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.