প্রি য় জ ন পঙ্ ক্তি মা লা  

নিরন্তর প্রতীক্ষা
সুমন আহমেদ

এখন তুমিহীন জীবনের প্রতিটি সূর্য উদয়
হয় কত না বিষাদের যন্ত্রণা বুকে নিয়ে;
সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত অবধি একেকটা দিন যেন
এক শতাব্দী বছরের চেয়েও দীর্ঘ মনে হয়;
বেঁচে থেকেও মৃত্যুর সাধ, বেলা অবেলায় প্রতিমুহূর্তে।
তবুও নিরাশার বালুচরে রোদের পশরা সাজিয়ে
নিরন্তর প্রতীক্ষা তুমি আসবে বলে।

দিনশেষে রাতের কালো আঁধারের চাদর
যখন জড়িয়ে যায় পৃথিবীর সমস্ত অবয়ব জুড়ে
ঠিক তখনই তুমি নামের সুখ পাখিটা
অবিরাম কড়া নাড়ে আমার মন মন্দিরে।

তুমি দিয়ে শুরু হওয়া রাত্রিটা বড়ই
প্রাণবন্ত হয় শূন্য হৃদয়ে,
বিষাদের যন্ত্রণা হারিয়ে যায়,
তোমার আলাপনের পূর্ণতা পেয়ে।
যখন রাত্রি হয়ে যায় বৃদ্ধ;
সময়ের বার্তা জানিয়ে দেয় বিদায়
রাতের আঁধার সরিয়ে ভোরের সূর্য দেয় উকি,
ঠিক তখনই,
বেদনার রঙে নীল হয়ে যায়-
এই দেহ নামের নীলাভ আকাশ।
নবীনগর প্রিয়জন

সাঁতারু
হাসান নাজমুল

অভাবের সমুদ্রে আমার
অনবদ্য সাঁতার, জন্মের পর থেকে
কেউ ছেড়ে দিছে আমায় এখানে,
একটিবারও পরাজিত হইনি এখনো,
আমার সাঁতার কাটা চলছে স্ফূর্তিতে
আর প্রচণ্ড গতিতে;
ডাঙায় ওঠার প্রচেষ্টা করিনি কখনোই
এখান থেকেই বিপ্লব ঘটাবো আমি,
শান্তি ও সান্তনাদাতা হতে চাই
সেই সব যুবকের,
যারা অভাবের ঘোরে পড়ে মরে যেতে চায়
যারা অভিশাপ দেয় অভাবকে,
এখান থেকেই তাদেরকে দীক্ষা দেবো
যাতে তারা সহজেই বোঝে
অভাবের সমুদ্রেও বেঁচে থাকে মানুষ,
আমৃত্যু খুঁজে বেড়ায় কেবল সত্য আর সুখ।
প্রিয়জন-১৬১৬

ইচ্ছে করে
লুৎফর রহমান ঝিনুক

ইচ্ছে করে তোমায় নিয়ে দীঘির জলে সাঁতার কাটি,
ইচ্ছে করে তোমার সাথে লক্ষ ক্রোশ রাস্তা হাঁটি।
ইচ্ছে করে তোমার হাতে গুঁজে দিতে রক্ত গোলাপ,
ইচ্ছে করে তোমার জন্য করতে হাজার লক্ষ পাপ।
ইচ্ছে করে ইচ্ছেগুলো তোমার ইচ্ছের মতো,
ইচ্ছে করে তোমার জন্য দুঃখ পেতে শত।
ইচ্ছে করে আকাশ থেকে চাঁদটা এনে তোমায় দিতে,
ইচ্ছে করে তোমার আঁধার আমার বুকের বামে নিতে।
ইচ্ছে করে তোমার চোখে তাকিয়ে থেকে কাটাই জীবন,
ইচ্ছে করে তোমার জন্য পেতাম যদি হাজার জনম।
ঢাকা

কোন সকালে
মুহাম্মাদ আলী মজুমদার

কোন সকালে শিশির ঝরে
রোদের আলো মিষ্টি খুব?
কোন সকালে হল্লা করে
পুকুর-জলে দিই না ডুব?

কোন সকালে ঘরে ঘরে
পিঠাপুলির উৎসব হয়?
কোন সকালে সারা-বাগান
সূর্যমুখী-গোলাপময়?

কোন সকালে লেপের তলে
মিষ্টি-মধুর আরাম পাই?
কোন সকালে আগুন পোহাই
একটুখানি গরম চাই?

কোন সকালে প্রকৃতিতে
ঠাণ্ডা-শীতল বাতাস বয়?
কোন সকালে পাখপাখালি
আপন নীড়ে চুপটি রয়?

প্রিয়জন-১৬৭২

শীতের বাড়ির আঙিনা
রাজু ইসলাম

শীতের সন্ধ্যা মাঘের চাঁদ একেবারে পূর্ণ চন্দ্রবতী
আলগোছে এসে উঠোনে দাঁড়ালেন কবি
যেন রাজ্যের জড়া ও ভারিক্কি এসে ভর করেছে
তার দেহে। গোফের ফাঁক গলিয়ে বের করলেনÑ
কতক কংক্রিটের মতো নিষ্ঠুর কবিতা;
শ্রোতা দর্শক একে অন্যের পানে চোখাচোখি
যেন প্রত্যাশিত উত্তাপ ঝরেনি তার কবিতায়।

কিছুটা আঁচ করতে পেরে কবি এবার শিশির ভেজা
পৌষে খানিকক্ষণ চুবিয়ে নিলেন কবিতার গা খানি।
অতঃপর অত্যন্ত মনোরমভাবে মার্বেলের মতো
গড়িয়ে গড়িয়ে ছুড়তে লাগলেন শিশিরভেজা
অনবদ্য পঙ্ক্তিমালা। আর অমনি মুহুর্মুহু করতালিতে
মুখরিত হলোÑ শীতের বাড়ির আঙিনা।
দোহার প্রিয়জন

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.