কে রাঙালো কৃষ্ণচূড়া

নাজনীন নাহার


‘লেগেছে আগুন ওই, কৃষ্ণচূড়ার ডালে/কোকিল ডাকা সেই, বসন্তেরই কালে/ফুলের ঠোঁটে পরাগ মেখে, আলতো করে চুম/মধু নিয়ে মৌমাছি যে, ভাঙালো তার ঘুম/কৃষ্ণচূড়ার রঙে হলো, ফেব্রুয়ারি রাঙা/মাতৃভাষা রাখতে যে ঠিক, বাধলো ভীষণ দাঙা/’ কৃষ্ণচূড়া আমাদের খুব চেনা হলেও এর আদি নিবাস আফ্রিকার মাদাগাস্কার দ্বীপপুঞ্জে। মাত্র এক শতাব্দী আগে ব্রিটিশেরা এটিকে ভারতবর্ষে নিয়ে আসে। কৃষ্ণচূড়া গাছের ইংরেজি নাম ঋষধসব ঞৎবব, চবধপড়পশ ঞৎবব. আর বৈজ্ঞানিক নাম উবষড়হরী জবমরধ জধভ. এটি লেগুমিনোসি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।
কৃষ্ণচূড়া মাঝারি আকারের বৃক্ষ। এর শাখা-প্রশাখা দ্রুত বিস্তার লাভ করে। পাতা যৌগিক ও দ্বিপক্ষল। পাতার দৈর্ঘ্য ২.৫ থেকে চার সেন্টিমিটার। কৃষ্ণচূড়া গাছের কাণ্ড খুব দীর্ঘ হয় না, শাখা-প্রশাখাও খুব একটা ঊর্ধ্বগামী হয় না। ফলে ছড়িয়ে যাওয়া শাখা-প্রশাখায় গাছটিকে অনেকটা ছায়ার মতো মনে হয়। এর কাণ্ড বা শাখা খুব একটা মজবুত নয়। কাঠ মূলত জ্বালানি হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। শীতের শেষ দিকে কৃষ্ণচূড়া গাছে ফুল ফুটতে শুরু করে। চৈত্র-বৈশাখ মাসেই গাছে ফুল থাকে সবচেয়ে বেশি। তারপর ধীরে ধীরে ফুলের সমারোহ কমতে থাকে। মোটামুটি বর্ষার শেষ পর্যন্ত অনেক গাছেই ফুল ফুটতে দেখা যায়। ফুলের ব্যাস পাঁচ থেকে সাড়ে সাত সেন্টিমিটার। বৃত্তের বাইরের দিকটা সবুজ এবং ভেতরের দিকটা লাল। দলে পাপড়ির সংখ্যা পাঁচটি। ফুল গাঢ়-লাল, লাল, কমলা, হলুদ, হালকা হলুদ ইত্যাদি রঙের হয়ে থাকে। ফুলে ফুলে ভরে যাওয়া কৃষ্ণচূড়া গাছের সৌন্দর্য বহুদূর থেকে তখন চোখে পড়ে। এর ফল বেশ লম্বা হয়। ২৫ থেকে ৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত। কচি ফলের রঙ সবুজ, পাকা ফল গাঢ় ধূসর। একটি ফলে লম্বাকৃতির অনেকগুলো বীজ থাকে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.