বসন্ত বাতাসের ঘ্রাণ

কাজী সুলতানুল আরেফিন

ফাল্গুন মাস এলো। চারদিকে ফাল্গুনের ঝিরি ঝিরি বাতাস বইতে লাগল। ‘বসন্ত বাতাসে সইগো বসন্ত বাতাসে... তোমার বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে’ এর মতো আমার জীবনে এক ঘ্রাণ এসেছিল এই ফাল্গুনে। কিশোরের স্মৃতি ভুলা বড়ই মুশকিল। বিশেষ করে খেলার সাথীদের। তখন চট্টগ্রামের পূর্ব মাদারবাড়ি এলাকায় থাকতাম। তান্নি, নিলা, রিপন, রিনা, আর আলতাফসহ বেশ কয়জন খুব করে লুকোচুরি খেলতাম। সময়ের স্রোতে সবাই হারিয়ে গেলাম। কেটে গেল ১০-১২টি বছর। কিন্তু মনকে হারাতে পারলাম না। ঘুমের মধ্যে স্বপ্নেরা জট লাগায়। সেই লুকোচুরি খেলা এখনো স্বপ্নের মধ্যে চলে। এখন দূরবর্তী আরেক জেলায় থেকেও পূর্বের সেই এলাকায় বছরে একবার বা দু’বার গিয়ে আশেপাশে ঘোরাঘুরি করি। যদি কারো দেখা পাই! তারাও কি আমায় মনে রেখেছে! খোঁজ নিই। কেউ আর থাকে না সেই এলাকায়। জীবনের ছুটার তাগিদে যার যার গন্তব্যের দিকে চলে গেছে। বুক থেকে দীর্ঘশ্বাস ঝরে পড়ে। ফিরে আসি। মনকে মানাতে পারি না। কয়েক মাস পর আবারো যাই। আবারো হতাশ হয়ে ফিরে আসি। বন্ধুদের চেহারা প্র্রায় ভুলতে বসেছি। ঝাপসা ঝাপসা মনে পড়ে। তবে একটা ঘ্রাণ আজ অবধি ভুলতে পারিনি। যাই হোক, নাড়ির টানে আবারো ছুটে গেলাম চট্টগ্রামে। এবার প্রায় দু’বছর পরে গেলাম। অনেক কিছু বদলে গেছে। নতুন নতুন ভবন দেখা যাচ্ছে। কদমতলিতে ফ্লাইওভার হচ্ছে। রেলস্টেশন আর কদমতলির সংযোগ স্থলে খুব যানজট লেগে থাকে। শহর মানেই এখন দুর্বিষহ যানজট। যানজট মানেই বিরক্তি। এখন আবার যানজট মানে মূল্যবান সময় নষ্ট। আগের দিন অনেকক্ষণ আটকে ছিলাম যে জায়গায়, আজ আবারো সেই একই স্থানে যানজট লেগে আছে। যদিও প্রচণ্ড যানজট, তবুও আমার বিরক্তি লাগছে না। কারণ আমি কাল চলে যাবো। যানজটে বসে থেকেও যত পারি শহরটাকে দেখি। মনকে সান্ত্বনা দেই। আচমকা বসন্তের হাল্কা বাতাস এসে ছুঁয়ে গেল নাক-মুখ। কিছু একটা অনুভব করলাম। কিছুক্ষণ পর আবারো বাতাস এসে ছুঁয়ে গেল। পরিচিত একটা ঘ্রাণ আবারো অনুভব করলাম। সামনের রিকশায় বসা মেয়েটির দিকে লক্ষ করতে লাগলাম। ভালো করে দেখতে লাগলাম। চুলগুলো হাওয়ায় উড়ছে। মুখের একপাশ দেখা যাচ্ছে শুধু। তাও ভালো করে নয়। চেনা চেনা মনে হলো। নীলার মতো মনে হলো। ভাবলাম, নীলা বলে ডাক দেবো। কিন্তু যানজটের এই ভারী পরিবেশ টুঁটি চেপে ধরল। একবার ভাবলাম রিকশা থেকে নেমে সামনে গিয়ে দেখব। তা-ও হলো না। এটা-ওটা ভাবতে ভাবতে যানজট শেষে রিকশা চলতে লাগল। কিছুক্ষণের মধ্যেই হারিয়ে গেল কৈশোরের খেলার সাথী। হারিয়ে গেল চিরচেনা সেই ঘ্রাণ। ভারাক্রান্ত মন ফিরে এলাম। তবে নিয়ে এলাম ফাল্গুনের দীর্ঘশ্বাসসহ বসন্তের এক বেদনাবিধুর স্মৃতি।
প্রিয়জন ১৬২৪

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.