একুশের বইমেলা এবং আমরা

শ্রাবণী মুকুল


শুরু হয়েছে প্র্রাণের একুশে বইমেলা। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে স্বাধীনতার পর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসজুড়েই চলে একুশে বইমেলা। জানুয়ারি এলেই শুরু হয় অপেক্ষা কখন ফেব্রুয়ারি আসবে। কখন শুরু হবে অমর একুশে বইমেলা। কতগুলো নতুন বই এলো এবারের মেলায়? নানা বয়সের পাঠক আর লেখকদের মিলনমেলা এই বইমেলা। ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চিত্তরঞ্জন সাহা ৩২টি বই নিয়ে প্র্রথম মেলার আয়োজন করেন। তিনি বর্ধমান হাউজের বটতলায় এক টুকরো চটের ওপর বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসতেন। স্বাধীন বাংলা পরিষদ থেকে বইগুলো প্র্রকাশিত হতো। এই প্র্রকাশনাটি বর্তমানে মুক্তধারা নামে পরিচিত। ১৯৮৪ সালে মেলার নামকরণ হয় অমর একুশে বইমেলা। প্র্রতি বছরের মতো এবারো বাংলা একাডেমি আয়োজন করেছে অমর একুশে বইমেলার।
প্রখ্যাত দার্শনিক ও সাহিত্যিক টলস্টয় বলেছিলেন, জীবনে তিনটি বস্তু প্র্রয়োজন তা হচ্ছেÑ বই, বই আর বই। আর এই বই জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য যতটা প্র্রয়োজন, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজন আনন্দ লাভের জন্য। মানুষ আনন্দ সন্ধানী। আনন্দ মানে ভালো লাগা। আনন্দঘন জীবন স্বর্গসুষমায় ভরা। নিষ্কলুষ ও নিষ্পাপ আনন্দের জন্য সামনে নীরব হৃদয় মেলে ধরে আছে অগণিত বই। এই বই আনন্দের আধার, অমৃতের সুধাভাণ্ডার। মানুষ মানুষের শত্রু হতে পারে, তাকে প্র্রবঞ্চনা করতে পারে কিন্তু বই কখনো মানুষের সাথে প্র্রবঞ্চনা বা শত্রুতা করে না।
সুষম খাদ্য যেমন মানুষের স্বাস্থ্যের বিকাশ ঘটায়, তেমনি তার চিত্তের বিকাশ ঘটায় ভালো বই। বই আমাদের জীবনে সুন্দরের গান শোনায় শব্দহীন ভাষায়। তাই বন্ধু নির্বাচনের মতো বই নির্বাচনেও সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। সাময়িক সুখ কিংবা তাৎক্ষণিক আনন্দের জন্য মানুষ কখনো কখনো মাদকের স্বাদ নেয়। পরে সে আর সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পারে না। মাদকের নেশা তাকে নিয়ে যায় ধ্বংসের পথে। তেমনি কিছু বই আছে, যা মানুষকে ধ্বংস করতে পারে। তাই এগুলো এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
‘যে মানুষের বন্ধু নেই, তার বই আছে’, ‘প্রিয়জনকে বই উপহার দিন’, ‘বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না’, আসুন এই প্র্রবাদবাক্যগুলোকে সফল করে তুলি বই কিনে, বই দিয়ে আর বই পড়ে।
ছবি : শওকত আলী রতন

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.