শঙ্খচিলের ভালোবাসা!

কাজী সুলতানুল আরেফিন

১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। সেই দিবসে লোক দেখানো অনেক ভালোবাসা প্রকাশ করতে দেখা যাবে। আকাশপানে শঙ্খচিলের উড়ে যাওয়া দেখে ভাবতে থাকি হায়রে! বর্তমান কালের ভালোবাসা এভাবেই শঙ্খচিলের মতো উড়ে চলে যাচ্ছে। আগে এসব দিবস তেমন পালন না হলেও ভালোবাসা ছিল খাঁটি। স্মৃতির ঘর হাতড়ে কিছু ভালোবাসার খোঁজ করার চেষ্টা করি প্রতি নিয়ত। দিন দিন ভালোবাসা নামক বিষয়টি বিলীন হওয়ার পথে। বন্ধুর ভালোবাসা এখন স্বার্থের মালায় গাঁথা থাকে। একটু জোরে টান দিলে ছিঁড়ে যায়। ভাই বোনের ভালোবাসা হয়ে গেছে আবদার পুরনের কোটায় বন্দী। সম্পত্তি ভাগের সাথে সাথে এই ভালোবাসা এখন ভাগ হয়ে যায়। স্ত্রীর ভালোবাসা কেনাকাটা আর চাহিদা পূরণের রশিতে শক্ত গিঁট মারা থাকে। স্বামীর আপনজনদের দূরে সরিয়ে দেয়ার মধ্যেই স্ত্রীর ভালোবাসা নিহিত থাকে। স্বামীর ভালোবাসা যতটুকু বান্ধবী বা পরের স্ত্রীর জন্য উতলে উঠে তার সিকি ভাগও যদি নিজ স্ত্রীকে দেয়া হতো সংসার অনেক সুখের হতো! মামার ভালোবাসা শত ব্যস্ততা আর দামি ফ্ল্যাটে বন্দী আজ। মামা দরকার হলে টাকা পাঠিয়ে দেবেন তবুও মামার দেখা পাওয়া আজ মুশকিল। কাকাদের ভালোবাসা বাবার সম্পত্তি ভাগের আগেই ভাগ হয়ে যায়। খালা আর ফুফুরা নিজেদের নাতিপুতি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেছেন। আত্মীয়স্বজনের ভালোবাসা কমে গেছে সেটা নামাজে জানাজায় তাড়াহুড়ো দেখলেই বোঝা যায়। অনেকের আবার এই শেষবিদায়েও যাওয়ার সময় হয় না। আগে মানুষ খুব বই পড়তে ভালোবাসত। এখন বইয়ের জায়গা দখল করে আছে ফেসবুক। আগে মানুষ একজন আরেকজনকে আগলে ধরে ভালোবাসা প্রকাশ করত। আর এখন ভালোবাসা প্রকাশ করে লাইক কমেন্ট করে। আগে আপনজনদের বিপদে-আপদে সবাই ছুটে যেত। এখন বাঁচার জন্য নানা টালবাহানা বানায়। কী হলো আজ ভুবনজুড়ে মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে যায়! শঙ্খচিল যেন থাবা মেরে ভালোবাসা নিয়ে চলে যাচ্ছে...।
পূর্ব শিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.