একি বলছেন বিনয় কাটিয়ার
একি বলছেন বিনয় কাটিয়ার

একি বলছেন বিনয় কাটিয়ার

জি. মুনীর

ভারতের কট্টরপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি মোদি সরকারের নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসার পর থেকে থেমে থেমে মুসলিম বিরোধিতায় অবতীর্ণ হচ্ছে। প্রবল সমালোচনার মুখে কিছু দিন নীরব থাকলেও আবার ফিরে যায় মুসলিম বিরোধিতায়। জন্ম দেয় নানা বিতর্কের, যা আঘাত হানে ভারতের ধর্মরিপেক্ষতাবাদী সংবিধানের মূল নীতিতে। অনেকের কাছে বিষয়টি বিষম ঠেকলেও আসলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ, বিজেপির উগ্রবাদী হিন্দুরা একদম শুরু থেকেই ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের বিরোধিতা করে আসছিল এবং বরাবর তৎপর ভারতকে একটি হিন্দু ন্যাশন হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্র সৃষ্টির ব্যাপারে। সে কথায় পরে আসছি। তার আগে প্রসঙ্গত সাম্প্রতিক একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করছি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি দৈনিক প্রথম আলোতে নয়াদিল্লি প্রতিনিধির পাঠানো একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে- উত্তর প্রদেশ থেকে নির্বাচিত বিজেপির সংসদ সদস্য বিনয় কাটিয়ার বলেছেন, মুসলমানদের ভারতে থাকাই উচিত নয়। তাদের ভারত ছেড়ে হয় পাকিস্তানে, নয় বাংলাদেশ চলে যাওয়া উচিত, ওদের কারণেই দেশ ভাগ হয়েছিল। তিনি গত ৭ ফেব্রুয়ারির একটি সংবাদ সংস্থার কাছে এ মন্তব্য করেন।

তার এ মন্তব্য অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের নেতা আলাউদ্দিন ওয়াইসির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে করা। গত মঙ্গলবার আলাউদ্দিন ওয়াইসি দাবি করেছিলেন, ভারতীয় মুসলমানদের যারা ‘পাকিস্তানি’ আখ্যা দেয় তাদের শাস্তি দিতে একটি আইন করা প্রয়োজন। ওয়াইসির সুপারিশ, এমন লোকদের তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হওয়া উচিত।

বিনয় কাটিয়া এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘যারা বন্দে মাতরমকে শ্রদ্ধা করে না, বন্দে মাতরম বলতে চায় না, যারা জাতীয় পতাকাকে অশ্রদ্ধা করে ও পাকিস্তানের পতাকা ওড়ায়, তাদের শাস্তি দিতে একটি আইন করা দরকার।’ এ মন্তব্যের পরই তিনি ভারতীয় মুসলমানদের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ভারতীয় মুসলমানদের তো ভারত ছেড়ে চলে যাওয়াই উচিত। ধর্ম ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে এরা দেশ ভাগ করেছিল। পাকিস্তানের জন্ম ওই থেকে। ওরা পাকিস্তান বা বাংলাদেশে চলে যাক।’

আসলে বিনয় কাটিয়ার মুখে বিজেপির আশা-আকাক্সক্ষার কথাই প্রতিফলিত হয়েছে। কারণ, তাদের ধ্যান-জ্ঞান শুরু থেকেই হিন্দু জাতীয়তাভিত্তিক একটি হিন্দু রাষ্ট্র। সে জন্যই বিজেপির আরেক সংসদ সদস্য সৃব্রহ্মণ্যম স্বামীকে গত বুধবার বলতে শোনা গেছে- ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে সে দেশের মুসলমানদের এ শপথ নেয়া দরকার যে, তাদের পূর্বপুরুষেরা সবাই হিন্দু ছিলেন। আশ্চর্য হওয়ার বিষয় বিজেপি শীর্ষ নেতার এ ধরনের বক্তব্যের জন্য তাদের তিস্কার করেননি। এতে অনুমান হয়, আসলে বিজেপির সব নেতাই একই ধরনের ধারণা পোষণ করেন।

শাসক দল বিজেপির যেসব নেতা ও জনপ্রতিনিধির মন্তব্য হিংসায় ইন্ধন জোগায়, তাদের একজনের বিরুদ্ধেও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। শাসক দলের বিভিন্ন নেতা প্রায়ই অযোধ্যায় রামমন্দির তৈরি নিয়ে মন্তব্য করে চলেছেন। বিতর্কিত অঞ্চলকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হচ্ছে। মুসলমানদের পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরামর্শ যিনি দিয়েছেন সেই বিনয় কাটিয়ার এর দু’দিন আগে জানিয়েছেন, তাজমহলের নাম শিগগিরই বদলে ‘তেজ মন্দির’ রাখা হবে।

অনেকেই জানেন না, হিন্দু জনজাগৃতি সমিতি’ তথা এইচজেএস গোয়ায় ২০১৩ সালে আয়োজন করেছিল ‘অল ইন্ডিয়া হিন্দু কনভেনশন ফর এস্টাবলিশমেন্ট অব হিন্দু ন্যাশন’ শীর্ষক একটি সম্মেলনে। একই সময়ে তখন সেখানে চলছিল বিজেপির নির্বাহী কমিটির বৈঠক। ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে এইচজেএস আয়োজিত এই সম্মেলন উদ্বোধন করার কথা ছিল গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র্র মোদির; কিন্তু বিজেপির নির্বাহী কমিটির কাজে ব্যস্ত থাকায় তার পক্ষে এই সম্মেলন উদ্বোধন করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী কমিটি সভায়ই নরেন্দ্র মোদিকে আরএসএস/বিজেপির পক্ষ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে এইচজেএসের এই সম্মেলন মোদি উদ্বোধন না করলেও এইচজেএসের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন। ২০১৩ সালের ৭ জুনের এই বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, ‘হিন্দু জনজাগৃতি সমিতির এই কনভেনশনের কথা জানতে পেরে আমি গর্ববোধ করছি। বিশ্বের নানা স্থান থেকে আসা অনেক মহান ব্যক্তিত্ব হিন্দুদের কল্যাণ সম্পর্কিত ও বিশ্ব সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। এ ধরনের একটি কনভেনশনে যোগদানের জন্য আমন্ত্রিত হতে পেরে আমি সুখবোধ করছি। সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তারকর এই কনভেনশনের সর্বোত্তম সাফল্য কামনা করছি।’

নরেন্দ্র মোদি সুস্পষ্টভাবে এইচজেএসের দাবির প্রতি সমর্থনের কথাও ব্যক্ত করেন এই বার্তায়। এই কনভেনশনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এই মঞ্চ থেকে গান্ধীর হত্যাকারী নথুরাম গডসের প্রশংসা করা হয়। আর একই মঞ্চ থেকে নরেন্দ্র মোদির পাঠানো অভিবাদনমূলক বার্তাটিও পড়ে শোনানো হয়। এই সম্মেলনের অন্যতম বক্তা আগাগোড়া হিন্দুত্ববাদী ক্যাডার হিসেবে পরিচিত কেভি সীতারামিয়াহ ঘোষণা করেন, গান্ধী ছিলেন ভয়ঙ্কর, দুষ্ট ও সবচেয়ে পাপী- ‘terrible, wicked and most sinful’। গান্ধীজির হত্যায় আনন্দ প্রকাশ করে তিনি ঘোষণা দেন : ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন : ‘ভালোকে রক্ষার জন্য, দুষ্টকে ধ্বংসের জন্য, সঠিকতা প্রতিষ্ঠার জন্য, আমি যুগে যুগে জন্ম নিই’- For the protection of the good, for the destruction of the wicked and for the establishment of righteousness, I am born in every age। ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারির বিকেলে শ্রীরাম এসেছিলেন নথুরামরূপে এবং অবসান ঘটান গান্ধী জীবনের।’ কেভি সীতারামিয়াহ একই কথা উল্লেখ করেছেন তার লেখা বই ‘গান্ধী ওয়াজ ধর্মদ্রোহী অ্যান্ড দেশদ্রোহী’ নামের বইয়ে। নথুরাম বিনায়ক গডসে-কে উৎসর্গ করা এই বইয়ের ব্যাক কভারে লেখা হয় : 'Dharma Drohis must be killed…Not killing the deserved to be killed is greats in' and 'where the members of Parliament seeing clearly allow to kill Dharma & truth as untruth, those members will be called dead''.
অপর দিকে ‘সনাতন সংস্থা’ হচ্ছে, ‘হিন্দু জনজাগৃতি সমিতির (এইচজেএস) একটি শাখা। কিংবা উল্টো করে এ-ও বলা যায়, এইচজেএস হচ্ছে সনাতন সংস্থার একটি শাখা। সনাতন সংস্থা খোলাখুলিভাবেই দাবি করে আসছে : ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ভারতকে রূপান্তর করতে হবে একটি হিন্দু রাষ্ট্রে এবং পালন করতে হবে ‘গান্ধী বধ’ অনুষ্ঠান।

এ দিকে ২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর ভারত পালন করল এর গণতান্ত্রিক-ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের ৬৮তম বার্ষিকী। ভারতের কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলি (সিএ) এই সংবিধান প্রণয়ন করে ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর। সন্দেহ নেই নানা ধরনের কিছু দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও এ পর্যন্ত ভারতের গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ নীতির সংবিধান একটি ভালো সাংবিধানিক দলিল হিসেবে দেশে-বিদেশে বিবেচিত। এই সংবিধানে জোর দেয়া হয়েছে সবার রাজনৈতিক অধিকারের ওপর। নিশ্চিত করা হয়েছে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ন্যায্যতা। আসলে এই সংবিধান হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লেগাসি অব্যাহত রাখার এক সংবিধান। কিন্তু আজকের এই সময়ে ভারতের সংবিধান এর অস্তিত্ব প্রশ্নে জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

এটি সত্য, ২০১৪ সালে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার আগের সরকারি দলগুলো সংবিধানে বিবৃত জনগণের অনুকূলের লক্ষ্যগুলোর ব্যাপারে শুধু ফাঁকা বুলি আওড়িয়ে চলেছে; কিন্তু কোনো দলই ভারতের গণতান্ত্রিক-ধর্মনিরপেক্ষ নীতির সংবিধান পাল্টে দেয়ার খোলাখুলি ঘোষণা করার সাহস দেখায়নি। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেকে অভিহিত করেন ‘হিন্দু ন্যাশনালিস্ট’ হিসেবে। একই সাথে তিনি ঘোষণা করেন, তিনি আরএসএস ক্যাডার এবং রাজনৈতিক নেতা হয়ে উঠেছেন গুরু গুলওয়ালকারের মাধ্যমে। উল্লেখ, প্রয়োজন আরএসএসের খোলাখুলি প্রতিশ্রুতি হচ্ছে, ভারতের বর্তমান সংবিধান প্রতিস্থাপন করা হবে মনুস্মৃতি দিয়ে। উল্লেখ্য, মনুস্মৃতি হচ্ছে ব্রাহ্মণিক্যাল স্ক্রিপচার বা ধর্মগ্রন্থ। যাতে বলা আছে নারী ও শূদ্রদের মর্যাদা হচ্ছে সাব-হিউম্যান বা মানবেতর।

কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলি ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর ভারতের বর্তমান সংবিধান পাস করে। এর ৪ দিন পর ৩০ নভেম্বর আরএসএসের ইংরেজি মুখপত্র ‘অরগ্যানাইজার’ এর এক সম্পাদকীয়তে এই সংবিধান প্রত্যাখ্যান করে মনুস্মৃতিকে সংবিধান হিসেবে ঘোষণা করার দাবি করে। এই সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয় : 'But in our constitution, there is no mention of the unique constitutional development in ancient Bharat. Manu's laws were written long before Lycurgus of Sparta or Solon of Persia. To this day his laws as enunciated in the Monusmriti excite the admiration of the world and elicit spontaneous obedience and conformity. But to our constitutional pundits that means nothing. (কিন্তু আমাদের সংবিধানে প্রাচীন ভারতে গড়ে ওঠা অনন্য সংবিধান সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ নেই। মনুর আইনগুলো লেখা হয়েছিল স্পার্টার লাইকারগাস ও পার্সিয়ার সলোনের অনেক আগে। আজকের দিনে মনুস্মৃতিতে উল্লিখিত তার আইনগুলো বিশ্বে প্রশান্তিবোধকে আন্দোলিত করে এবং তাৎক্ষাণিকভাবে শ্রদ্ধাবোধ ও স্বাভাবিকতা জাগায়। কিন্তু আমাদের সংবিধান পণ্ডিতদের কাছে এর কোনো মূল্য নেই।)

এমনকি ভারতের স্বাধীনতা লাভের পরও আরএসএস ভারতীয় সংবিধানের ওপর কালিমা লেপন অব্যাহত রাখে। এমএস গুলওয়ালকার বেশির ভাগ হিন্দুত্ববাদীদের এখন একমাত্র গুরু। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও। সার্বিকভাবে তিনি আরএসএসের বিখ্যাত আইডোলগ। তিনি ভারতীয় কনস্টিটিউশন সম্পর্কে বলেছেন : 'Our constitution too is just a cumbersome and heterogeneous piecing together of various articles from various constitutions of the western countries. It has absolutely nothing which can be called our own. Is there a single word of reference in its guiding principles as to what our national missions and what our keynote in lfe is' (আমাদের সংবিধানও একটি দুর্বহ সংবিধানমাত্র এবং টুকরো টুকরো বিভিন্ন অংশের সমাহার। আর তা নেয়া হয়েছে পশ্চিমা দেশগুলোর সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ থেকে। এটিকে কোনো মতেই আমাদের নিজস্ব সংবিধান বলা যাবে না। আমাদের জাতীয় নির্দেশক পরিকল্প ও জীবনের মুখ্য উদ্দেশ্যের কোনো গাইডিং প্রিন্সিপল কি এতে আছে?)

আরএসএস ক্যাডারেরা এদের প্রতিদিনের প্রার্থনায় হিন্দু ভারত রাষ্ট্র কামনা করে, গণতান্ত্রিক-ধর্মনিরপেক্ষ ভারত নয়। এরা এ-ও প্রার্থনায় যত্নসহকারে পাঠ করে : 'Affectionate motherland, I eternally bow to you/O land of Hindus, you have reared me in comfort/O sacred land, the great creator of good, may this body of mine be dedicated to you, O God almighty, we the integral part of the Hindu Rashtra salute you in reverence/For your cause have we girded up our lions/Give us your blessings fog its accomplishment.' (স্নেহময়ী মাতৃভূমি, আমি অন্তহীনভাবে শ্রদ্ধাবনত তোমার প্রতি/ওহে হিন্দুদের ভূমি, তুমি আমাকে আরামে লালন-পালন করেছে/হে পবিত্র ভূমি, ভালোর মহানস্রষ্টা, আমার এই দেহ তোমার জন্য যেন উৎসর্গ করতে পারি/আমি শ্রদ্ধায় বারবার মাথানত করি তোমার কাছে/হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর। আমরা হিন্দু রাষ্ট্রের অবিচ্ছিন্ন অংশ হিসেবে গভীর শ্রদ্ধার সাথে তোমাকে জানাই প্রণাম/তোমার জন্য লড়াই করতে আমরা প্রস্তুত রেখেছি আমাদের সিংহগুলো/তা সম্পাদনের জন্য চাই তোমার আশীর্বাদ)।

ভারতের স্বাধীনতার আগের দিন ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট আরএসএসের মুখপাত্র ‘অরগ্যানাইজার’-এর ডযরঃযবৎ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে ভারতের কম্পোজিট রাষ্ট্রের পুরো ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। ওই সম্পাদকীয়তে অরগ্যানাইজার লেখে : 'Let us no longer allow ourselves to be influenced by the false nations of nationhood. Much of the mental confusion and the present and future troubles can be removed by the ready recognition of the simple fact that in Hindustan only the Hindus form the nation and the national structure must be built on that safe and sound foundation. The nation itself must be built upon the Hindus, on Hindu traditions.'(আমরা জাতীয়তার ভুল ধারণায় প্রভাবিত হবো না। মানসিক দ্বন্দ্বের বেশির ভাগ এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সমস্যাগুলো দূর করা যাবে একটি তৈরি বিষয়ের প্রতি স্বীকৃতি জানানো যে, হিন্দুস্থানে শুধু হিন্দুরাই জাতি গঠন করবে। আর জাতীয় কাঠামো গড়ে উঠবে নিরাপদ ও সুষ্ঠু ভিত্তির ওপর হিন্দু ঐতিহ্যের ভিত্তিতে।)

ভারতবাসীর জন্য সবচেয়ে বেশি শঙ্কার বিষয় হচ্ছে, আরএসএসের মাধ্যমে ত্রিরঙ্গা বা ভারতীয় পতাকার ওপর কালিমালেপন বা অবমাননা করা। ভারতের স্বাধীনতার প্রাক্কালে যখন ভারতের কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলি ত্রিরঙ্গাকে ভারতের জাতীয় পতাকা হিসেব গ্রহণ করে, তখন অরগ্যানাইজার এর নিন্দা জানায় এই ভাষায় : 'The people who have come to power by the kick of the fate may give in our hands the tricolour but it will never be respected and owned by Hindus. The word 'three' is in itself an evil and a flag having three colours will certainly produce a very bad psychological effect and injurious to a contry.' (যারা ভাগ্যের জোরে ক্ষমতায় এসছেন, তারা আমাদের হাতে ত্রিরঙ্গা তুলে দিতে পারেন; কিন্তু এর প্রতি হিন্দুরা কখনোই সম্মান জানাবে না। এর মধ্যকার ‘ত্রি’ শব্দটি নিজেই দুষ্ট। আর তিন রঙের পতাকা নিশ্চিতভাবে সৃষ্টি করবে একটি খারাপ মনঃস্তাত্ত্বিক প্রভাব। আর এটি দেশের জন্য একটি আঘাত।)

প্রশ্ন হচ্ছে, আরএসএস যদি ভারতের গণতান্ত্রিক-ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান এবং এর সাথে সম্পর্কিত প্রতীকের পুরোপুরি বিরোধিতাই করে, তবে আরএসএস ক্যাডার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার সহযোগীরা ঘটা করে গত ২৬ নভেম্বর ভারতীয় সংবিধানের ৬৮তম বার্ষিকীই বা পালন করলেন কেন? আসলে এরা অপেক্ষায় আছে ঝোপ বুঝে কোপ মারার জন্য। মোদি সরকার গত চার বছরে ভারতের অনেক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে চলেছে। আর এখন তাদের অপেক্ষা গণতান্ত্রিক-ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিকে ভারত থেকে মুসলমান তাড়ানোর জন্য। এ পরিকল্পনা গুলওয়ালকার তৈরি করেছিলেন ১৯৪০ সালে, যখন রেশামবাগে আরএসএস সদর দফতরে তিনি আরএসএসের ১৩৫০ জন প্রথম সারির ক্যাডারের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন : 'RSS inspired by one flag, one leader and one ideology is lighting the flame of Hindutva in each and every corner of this great land'.

ভারতবাসীর অনেকেই মনে করছেন, যারা ভারতের দীর্ঘ দিনের গণতান্ত্রিক-ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক ঐতিহ্যের সমর্থন ও লালন-পালন করে আসছেন তাদের উচিত আরএসএসের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সচেতন ভূমিকা পালন করা।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.