ভালোবাসা দিবস : রঙের ফিচার

রফিকুল আমীন

সৃষ্টির শুরু থেকে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, চার পাশের পরিবেশ-প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা আগেও যে রকম ছিল এখনো সে রকমই আছে। শুধু ধরণটাই যা পরিবর্তন হয়েছে।
একসময় ভালোবাসার জানান দেয়া হতো পায়রা কিংবা ডাক হরকরার সহায়তায় চিঠিপত্র পাঠিয়ে। এখন চিঠি আদান-প্রদান সেকেলে হয়ে গেছে। এসএমএস, এমএমএস, ই-মেইল তার জায়গা দখল করে নিয়েছে। ছেলে-বুড়ো সবার কাছেই আজ প্রিয়জনকে ভালোবাসা জানানোর এ পদ্ধতি বেশ পছন্দ। কয়েক জনের সাথে কথা হয় ভালোবাসা দিবস নিয়ে। তাদের মুখেই শুনি, ভালোবাসা দিবস নিয়ে কে কী ভাবছেন।
ইজাজ রহমান মাঝবয়সী চাকুরীজীবী, তার মতে আমাদের দেশের মানুষ সকাল থেকে বিকেল অবধি পরস্পরের মাঝে মায়ার বন্ধন জড়িত। ইন্টার অ্যাকশন খুবই মজবুত। তা সত্ত্বেও দিবসটি পালনের রীতি আমাদের দেশে শুরু হয়েছে। আজ থেকে ১০ বছর আগেও মানুষ জানত না ভালোবাসা দিবস কী। এখন মিডিয়ার চমকপ্রদ আইডিয়ার কল্যাণে অনেকেই দিবসটি পালনের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে। বিশেষ করে তরুণদের মাঝে এ দিন এলেই উৎসবের আমেজ দেখা যায়। এটা আমাদের সমাজের রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না। পারিবারিক প্রথা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাই এতে বেশি। আমার মনে হয় মিডিয়াগুলোর এ ব্যাপারে সোচ্চার হওয়া দরকার। যেটা আমাদের সমাজ-সংস্কৃতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন জিনিস প্রচার-প্রচারণার আগে একটু ভাবা উচিত।
ইকবাল আহমেদ একটা প্রাইভেট ফার্মে কর্মরত। তার মতে, ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালোবাসা দিবস আসলে আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে দারুণ এক বিষয়। তাদেরকেই বেশি পালন করতে দেখা যায়। বিশেষ করে শহরের আধুনিকমনস্ক ছেলেমেয়েরাই এ দিবস পালন করে। অনেক সময় ভালোবাসা দিবস উদযাপনের নামে তাদের মাঝে উচ্ছৃঙ্খলতাও দেখা যায়। তাদের ব্যস্ততা দেখে মনে হয় ভালোবাসা কথাটার প্রচলনই যেন প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য। আসলে পরিবার, বন্ধু, পরিচিত সব প্রিয়জনের প্রতিও এই দিনটিতে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা যায়। স্কুলশিক্ষিকা নাসরীন বকুল বলেন, আমরা উৎসবপ্রিয় জাতি। যেকোনো উৎসব এলেই আমরা বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে হেসেখেলে কাটিয়ে দিতে চাই। ভালোবাসা দিবসের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। ভালোবাসা একটা ব্যাপক বিষয়। মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসা, সন্তানের প্রতি মা-বাবার, আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীর প্রতি ভালোবাসা সবই চিরন্তন। এটা খেয়াল রেখে ভালোবাসা দিবস উদযাপন করা যেতেই পারে। নিজ সংস্কৃতিটা ঠিক রাখলেই হলো। আমাদের মনে রাখতে হবে ভিন্ন দেশীয় সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়ার মাঝে কোনো দোষ নেই। দোষ হলো নিজ সংস্কৃতি ভুলে অন্য সংস্কৃতি গ্রহণ করা।
সাইফুল ইসলাম মানারাত ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী। তার মতে, ভালোবাসা দিবসটি আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী। তিনি বলেন, পশ্চিমা ঘরানার কিছু মিডিয়ার কল্যাণেই আমরা এ দিবসটির সাথে পরিচিত হয়েছি। ভালোবাসার বিস্তৃতি কি দু’জনের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে? কখনো পারে না। ভালোবাসা তো সবসময় সবার জন্যই থাকে। তবে একটা বিশেষ দিনে যদি সবাই নিজেদের প্রিয়জনদের নিয়ে ভাবে তাদের সাথে আনন্দে দিনটি কাটায় তাহলে ক্ষতি কী?
পারস্পরিক মমত্ব, আন্তরিকতা ছাড়া মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না। ভ্যালেন্টাইন ডে আমাদের জীবনে সেই মমত্ব, ভালোবাসার সুবাস ছড়িয়ে দিক। ভালোবাসা হোক সবার জন্য এটাই প্রত্যাশা।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.