বাউফলে যৌতুকের জন্য প্রবাসী গৃহবধূকে মারধর তিন দিন ঘরের বাইরে

পটুয়াখালী সংবাদদাতা

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্য্যমনি ইউনিয়নের নুরাইনপুর গ্রামে যৌতুকের দাবিতে এক প্রবাসী গৃহবধূকে মারধর করা হয়েছে। ওই গৃহবধূকে এখন ঘরে উঠতে দেয়া হচ্ছে না।
রোববার দুপুরে সরেজমিন ওই গৃহবধূকে তালাবদ্ধ ঘরের দরজার সামনে বসে থাকতে দেখা যায়।
স্বামী ও পরিবারের লোকজন তার সাথে এমন আচরণ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গৃহবধূ মনি আক্তারের (২৮) বাড়ি মাগুরা জেলা সদরের রামচন্দ্রপুর গ্রামে। বাবার নাম আমজেদ আলী মোল্লা। থাকতেন মরিশাসে।
ওই গৃহবধূ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মনি আক্তারের সাথে মরিশাসে পরিচয় হয় বাংলাদেশী যুবক সাইফুল ইসলাম খানের (২৯)। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর তারা বিয়ে করেন। সাইফুলের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্য্যমনি ইউনিয়নের নুরাইনপুর গ্রামে। তার বাবার নাম শাহজাহান খান।
মনি আক্তার বলেন, ২০১৩ সালের শুরুর দিকে তিনি মরিশাস যান। সেখানে তার মামাও থাকেন। মামার তত্ত্বাবধানে থেকে ওই দেশের গার্মেন্টে কাজ করেন। সেখানে পরিচয় হয় বাংলাদেশী যুবক সাইফুল ইসলাম খানের সাথে। সাইফুল একটি ডেকোরেটরের দোকানে চাকরি করতেন। একপর্যায়ে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এর কিছুদিন পর সাইফুলের চাকরি চলে যায়। তার (মনি আক্তারের) টাকায় চলতো তাদের সংসার। এরপরে সাইফুলের বিধবা মা শাহনাজ বেগম ও ছোট দুই ভাই মাসুম ও রাকিবের জন্যও খরচ পাঠাতেন তিনি। একপর্যায়ে সাইফুল বাড়িতে ঘর উঠানোর কথা বলে তার (মনি আক্তার) জমানো তিন লাখ টাকা নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। দেশে এসে সাইফুল তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
নিরুপায় হয়ে ২০১৭ সালের ৭ মার্চ তিনিও (মনি) বাংলাদেশে চলে আসেন এবং স্বামীর বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। আসার সময় তিনি ৭০ হাজার টাকা ও ১৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে আসেন। প্রায় পাঁচ মাস ওই বাড়িতেই থাকেন। একপর্যায়ে তার কাছে দুই লাখ টাকা চায় সাইফুল। এতে রাজি না হওয়ায় জোরপূর্বক ৫০ হাজার টাকা ও চার ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে নেয় সাইফুল।
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তারা ঢাকার সাভারে চলে যান। সেখানে গার্মেন্টে চাকরি নেন তিনি। আর সাইফুল রাজমিস্ত্রীর কাজ শুরু করেন। বাড়িতে শাশুড়ি ও দুই ভাইয়ের জন্য প্রতিমাসে পাঁচ হাজার করে টাকা পাঠাতেন। প্রায় চার মাস পরে আবারো তার কাছে মোটরসাইকেল কেনার জন্য দুই লাখ টাকা চান সাইফুল। দিতে না পারায় যোগাযোগ বন্ধ করে আত্মগোপন করে থাকেন সাইফুল। এ ঘটনায় তাকে (মনি) গুম মামলা দেয়ার ভয় দেখান শাশুড়ি। গত শুক্রবার সাইফুলের খোজে তিনি বাড়িতে আসেন এবং সাইফুলকে দেখতে পান। এতে সাইফুল ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হন। তাকে (মনি) মারধর করে ঘরে তালা লাগিয়ে সাইফুল ও তার পরিবারের সদস্যরা এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে ওঠে। শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত অন্যের দেয়া খাবার খেয়ে তিনি ওই ঘরের বারান্দাই অবস্থান করছেন। তিনি আরো জানান, তার ভিসার মেয়াদ ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ পর্যন্ত। এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য সাইফুলের দুই আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
সূর্য্যমনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বাচ্চু বলেন, বিষয়টি শুনেছি। আমি ঢাকায় আছি। গিয়ে দুইপক্ষ নিয়ে বসব। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.