পিআরএস-১এম রাশিয়ার সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
পিআরএস-১এম রাশিয়ার সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

পিআরএস-১এম রাশিয়ার সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

নয়া দিগন্ত অনলাইন

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সেদেশের সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষা চালিয়েছে। মস্কোকে সম্ভাব্য পরমাণু হামলা থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে এই ব্যবস্থা নির্মাণ করা হয়েছে।

সোমবার কাজাখস্তানের ‘স্যারি শাগান’ অঞ্চলে চালানো এ পরীক্ষার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে দেখা যাচ্ছে, বরফাচ্ছাদিত একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে।

নতুন এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার নাম দেয়া হয়েছে পিআরএস-১এম। পরমাণু হামলা প্রতিহত করার লক্ষ্যে এর আগে রাশিয়ার কাছে ৫৩টি৬ নামের যে স্বল্প পাল্লার এন্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল এখন থেকে সেগুলোর পরিবর্তে নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করবে মস্কো।

রাশিয়ার অ্যারোস্পেস ফোর্সের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কমান্ডের উপ প্রধান কর্নেল আন্দ্রে প্রিখোদকো এ সম্পর্কে বলেছেন, একটি নয়া আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। 

মার্কিন সরকার রাশিয়ার মোকাবিলায় নিজের পরমাণু অস্ত্রকে ‘আকারে ছোট ও আরো আধুনিক’ করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর রাশিয়া তার পরমাণু অস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থার পরীক্ষা চালানোর ফুটেজ প্রকাশ করল।

 

সন্ত্রাসীদেরকে সুযোগ দিচ্ছে আমেরিকা: রাশিয়া

রুশ প্রেসিডেন্টের দূত জামির কাবুলভ বলেছেন, আমেরিকা সন্ত্রাসীদেরকে আফগানিস্তানে প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে। সিরিয়া ও ইরাকে পরাজিত হওয়ার পর দায়েশের সন্ত্রাসীরা এখন আফগানিস্তানে এসে জড়ো হচ্ছে।

আফগানিস্তানে রুশ প্রেসিডেন্টের দূত বৃহস্পতিবার বলেছেন, এটা উল্লেখযোগ্য যে, বহু সাক্ষ্য-প্রমাণে দেখা যাচ্ছে সন্ত্রাসীরা অস্ত্রসহ হেলিকপ্টারে করে আফগানিস্তান ভূখণ্ডে প্রবেশ করছে। তাদেরকে কোনো বাধা দেয়া হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তানের আকাশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আমেরিকা ও ন্যাটোর হাতে। এটা অবিশ্বাসের কোনো কারণ নেই যে, এ ক্ষেত্রে তাদের হাত রয়েছে। অন্তত এটাতো ঠিক যে, আমেরিকা ও ন্যাটো দায়েশের হেলিকপ্টার চলাচলে বাধা দেয়নি।

গত নভেম্বরে আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই আল-জাজিরা টিভি চ্যানেলকে বলেছেন, আমেরিকা আফগানিস্তানে দায়েশের সঙ্গে গোপনে সমঝোতা করেছে। এর ভিত্তিতে তারা আফগানিস্তানে দায়েশকে অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ দিচ্ছে।

সম্প্রতি ইরানের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, আমেরিকা আফগানিস্তানে নিজেদের সেনা উপস্থিতির পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাতে সেখানে দায়েশ সন্ত্রাসীদের জড়ো করছে।

 

আফগানিস্তানে আইএসকে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র : রাশিয়া

ইরাক ও সিরিয়া থেকে চরমপন্থী আইএসের সদস্যদের আফগানিস্তানে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন অভিযোগ করেছেন আফগানিস্তানে নিযুক্ত শীর্ষ রাশিয়ান কূটনীতিক। কাবুলে নিযুক্ত ক্রেমলিনের দূত জমির কাবুলভ সংবাদ সংস্থা তাসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন কর্মকাণ্ডের অনেক আলামত প্রকাশ পেয়েছে। কাবুলভ এর আগে কাবুলে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ছিলেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘অনেক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় জানা যাচ্ছে, উগ্রপন্থীরা ও তাদের অস্ত্রশস্ত্র প্রায়ই আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে যায়। নাম পরিচয়হীন হেলিকপ্টার তাদের বহনে ব্যবহৃত হয়’।

এই রুশ কূটনীতিক আরো বলেন, ‘আফগানিস্তানের আকাশসীমা পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর দখলে। তাই এ ঘটনায় তাদের হাত থাকতে পারে বলে মনে করাই বিশ্বাসযোগ্য। কারণ তারা অন্তত এই ফ্লাইটগুলো চলতে বাধাও দেয় না। যদিও ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলস এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।’

প্রসঙ্গত ২০০১ সালে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে উৎখাতে পরিচালিত মার্কিন অভিযান এখানো শেষ হয়নি। তালেবান উৎখাত করা সম্ভব হলেও তাদের পুরোপুরি পরাজিত করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা। তারই মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে সহিংসতা শুরু করেছে আইএস।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.