রক্তপাত বন্ধে পাকিস্তানের সাথে আলোচনা করতে হবে ভারতের : কাশ্মির
রক্তপাত বন্ধে পাকিস্তানের সাথে আলোচনা করতে হবে ভারতের : কাশ্মির

রক্তপাত বন্ধে পাকিস্তানের সাথে আলোচনা করতে হবে ভারতের : কাশ্মির

এনডিটিভি

কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি বলেছেন, রক্তপাত বন্ধ করতে হলে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের আলোচনায় বসতে হবে। এছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

সোমবার এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সবগুলো যুদ্ধে ভারত জয়ী হয়েছে। কিন্তু এখন দরকার সংলাপ, যদি আমরা রক্তপাত বন্ধ করতে চাই।

তিনি বলেন, তার এই মন্তব্যকে মিডিয়া হয়তো জাতীয়তাবিরোধী বা রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে উল্লেখ করতে পারে। তিনি বলেন, আমরা যদি আলোচনা না করি তাহলে কে করবে? বিহারের লোকজন এসে করবে?

 

ভারত-পাকিস্তান গুলিবিনিময় : আতঙ্কে কাশ্মিরের মানুষ

জম্মু-কাশ্মির সীমান্তে ভারত-পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার জম্মু-কাশ্মিরের রাজৌরি জেলার নৌশেরা সেক্টরে পাকিস্তানের দিক থেকে ভারী গুলিবর্ষণ করা হলে ভারতীয় সেনারাও পাল্টা গুলি চালিয়ে জবাব দেয়।

সীমান্তে একনাগাড়ে কয়েকদিন ধরে গোলাগুলিবর্ষণের ফলে বেশকিছু মানুষজন বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া, ৭ টি স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে।

গুলিবর্ষণের আওয়াজ নৌশেরা বাজার পর্যন্ত পৌঁছায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাজৌরির জেলা প্রশাসক (ডিসি) শাহীদ চৌধুরী ভারী গুলিবর্ষণের কারণে নৌশেরার লাম এলাকায় ৭১টি স্কুল বন্ধ রাখার কথা নিশ্চিত করেছেন এবং মানুষজনের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার জম্মু-কাশ্মির সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত দু’বছরে (২০১৬/২০১৭) সীমান্ত এলাকায় ২৫ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত ও ১৬২ জন আহত হয়েছে। এরমধ্যে ২০১৭ সালে ১২ জন নিহত ও ৭৯ জন আহত হন। আর ২০১৬ সালে ১৩ জন নিহত ও ৮৩ জন আহত হয়েছিলেন।

এছাড়া, রাজ্যটিতে সীমান্ত এলাকায় শেল ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় ২২৪টি ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জম্মু, সাম্বা, কঠুয়া, রাজৌরি, পুঞ্চ, বান্দিপোরা, বারামুলা ও কুপওয়াড়া এলাকায় ওই ক্ষয়ক্ষতি হয়। ক্ষতির তালিকায় বান্দিপোরাতে দু’টি মসজিদ ও একটি স্কুলও আছে।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অন্য এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ৫৯ জন সন্ত্রাসী ও অনুপ্রবেশকারী নিহত হয়েছে। ২০১৬ সালে ওই সংখ্যা ছিল ৩৫ জন।

ভারত-পাকিস্তানের স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় বড় বাধা কাশ্মির

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা মুহাম্মাদ আসিফ বলেছেন, ভারতের নেতৃত্ব সম্প্রতি ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য হুমকি।

শুক্রবার পাকিস্তান জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ সিনেটে এক লিখিত বিবিৃতিতে খাজা আসিফ বলেন, কাশ্মিরসহ ভারতের সঙ্গে সব ইস্যুর টেকসই সমাধান চায় ইসলামাবাদ। তবে, ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কাশ্মির সঙ্কট বড় রকমের বাধা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সালে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সই হওয়া চুক্তির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল যে, সংলাপের মধ্যদিয়ে দু’ দেশ দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে বের করবে কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে যে, ভারত কখনো আমাদের আহ্বানে ভালোভাবে সাড়া দেয়নি যাতে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা যায়।

তিনি আরো বলেন, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে দিন দিন বেড়ে চলা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা মারাত্মক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি এ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, শুধু ২০১৮ সালেই সীমান্তে ১৭০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছ ভারত।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.