পড়ন্ত যৌবনে বুক ধুকপুক

অধ্যাপক ডা: শুভাগত চৌধুরী

বলছিলেন সেই মহিলা। হৃৎপিণ্ড ধুকধুকানি। অকারণেই হৃৎপিণ্ড স্পন্দিত হতে থাকে দ্রুত। প্রশ্ন তার মনেÑ রজঃনিবৃত্তির দুয়ারে এসে কী এমন হলো? নাকি হৃৎপিণ্ডে অসুখ? অনেক মহিলাই এমন অভিযোগ করেন, হৃদকম্প হচ্ছেÑ হৃৎপিণ্ড খুব দ্রুত চলছেÑ বজঃনিবৃত্তির আগে এমন হয়। হৃদকম্পের অনুভূতি হয় অনেক রকম। হৃদস্পন্দনের ছন্দচ্যুতি ঘটল। নয়তো বুকের ভেতর প্রজাপতি ওড়ার অনভূতি অথবা খুব জোরে চলছে, হৃৎপিণ্ড। নিউহ্যাভেন ইয়েল ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনে মেডিসিন ও শিশুস্বাস্থ্যের সহযোগী অধ্যাপক ডা: লিন্ডা ই রোজেনফিল্ড যিনি ‘ওম্যান ও হার্ট ডিজিজ’ নামে একটি সুন্দর গ্রন্থও লিখেছেন, তার ভাষ্য হৃদছন্দ ও হরমোনের মধ্যে একটি সম্পর্ক রয়েছে অবশ্য সহজ বা সরাসরি। তবে এও ঠিক রজঃনিবৃত্তির ক্ষণে গুরুতর হৃদরোগের ঝুঁকি খুব বেড়ে যায়। সে জন্য হৃদছন্দের চ্যুতি বা আরো গুরুতর সমস্যা যেমন রক্ত সরবরাহ কম হওয়ায় হৃৎপেশিতে অক্সিজেন কম যাওয়ার জন্য কী হচ্ছে এ সমস্যা? হৃৎকম্পের সাথে যদি এমন হয় মাথা পাতলা লাগে, শ্বাসকষ্ট তখন এই সমস্যাকে হরমোনজনিত বলার আগে ডাক্তার অবশ্যই এটি সত্যিকারের হৃদরোগ সমস্যা কি না সেটি খতিয়ে দেখবেন। হলটার মনিটর নামে একটি পোর্টেবল মেশিন হয়তো পরে থাকতে হবে ২৪ ঘণ্টা। অথবা ইভেন্ট মনিটর, যা পরবেন মাঝে মধ্যে এক মাস ধরে। হৃদকম্পের এ অনুভূতি হৃদছন্দের অনিয়মের জন্য হচ্ছে কি না এটি রেকর্ড হবে সেই মনিটরে। ডাক্তার তা জেনে নেবেন।
মহিলাদের হৃদরোগ নির্ণয়ে নতুন ইমেজিং কৌশল হলো স্ট্রেস ইকোকার্ডিগ্রাম। এতে রয়েছে ট্রেডমিল স্ট্রেস টেস্ট ও কার্ডিয়াক আলট্রাসউন্ডের সমন্বয়, যা হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে রক্তপ্রবাহ চিহ্নিত করে। হৃদকম্প ঋতুবন্ধের কারণে হয়ে থাকলে ইস্ট্রোজেন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বা বিটারব্লকার ওষুধ উপশম করে উপসর্গের। আরো সহজ উপায় আছে। চা ও কফি পান কমানো। ঘুমাবেন ঠিকমতো। ডিকনজেস্টেন্ট যেমন সিওডোইফ্লিডিন ব্যবহারে হৃৎপিণ্ড দৌড়ায়। মদও বেশ উদ্দীপক হৃৎপিণ্ডের জন্য।
লেখক : অধ্যাপক ও ডিরেক্টর, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস, বারডেম, ঢাকা।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.