ঝুঁকিপূর্ণ মাতৃত্ব

ডা: এস এম নওশের

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে আমাদের দেশে প্রসবকালীন সময় প্রসূতি মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে তিনজন। প্রসবকালীন সময়ে যেসব প্রসূতি মৃত্যুবরণ করেন, তাদের অন্তত ষাট শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ মাতৃত্বের কারণে মৃত্যুবরণ করেন। অন্য এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রসবকালীন সময় যেসব মহিলাদের জটিলতার কারণে অস্ত্রোপচার বা সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে গর্ভ থেকে সন্তান বের করে আনতে হয়; তাদের পঞ্চাশ শতাংশ মহিলা হচ্ছেন ঝুঁকিপূর্ণ মা বা হাইরিস্ক মাদার। অথচ একটু সচেতন হলেই কিন্তু আমরা এসব ঝুঁকিপূর্ণ মায়েদের গর্ভকালীন জটিলতার কারণে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে পারি। এর আগে আসুন আমরা জেনে নেই ডাক্তারি মতে ঝুঁকিপূর্ণ মাতৃত্ব বলতে কী বোঝায়?
বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার সংজ্ঞানুযায়ীÑ যে গর্ভ ধারণের ফলে মা বা শিশুর রোগাক্রান্ত হওয়ার ও মৃত্যুবরণ করার সম্ভাবনা বেড়ে যায় তাকে ঝুঁকিপূর্ণ মাতৃত্ব বলে।
এবার আসুন আমরা জেনে নেই কারা ঝুঁকিপূর্ণ মাÑ
(১) প্রথম শিশু জন্মের সময় যদি মায়ের বয়স ৩০ বা ততোধিক হয়।
(২) ইতঃপূর্বে দুই বা তার বেশি এবরশন বা গর্ভপাত হয়ে গেলে।
(৩) আগে কোনো মৃত শিশু হলে।
(৪) এর আগে (বর্তমান গর্ভধারণ) বা যদি নির্দিষ্ট সময়ের আগে শিশু প্রসব করলে অথবা শিশুর ওজন যদি দুই কেজির কম কিংবা সাড়ে তিন কেজির বেশি হলে।
(৫) মায়ের আগে প্রসবকালীন সময় সিজারিয়ান অপারেশন হলে।
(৬) মা যদি ইতঃপূর্বে পাঁচ বা তার অধিক সন্তান প্রসব করে থাকেন এবং বর্তমান গর্ভধারণের সময় তার বয়স যদি চল্লিশোর্ধ্ব হয়।
(৭) মা যদি উচ্চতায় খুব বেশি খাটো হয়ে থাকেন (১৪০ সে. মি. বা তার চেয়ে কম)।
(৮) মা যদি অতিরিক্ত রক্তশূন্যতা বা সিভিয়ার অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন।
(৯) মায়ের গর্ভে যমজ সন্তান থাকলে।
(১০) মা যদি রোগাক্রান্ত থাকেন গর্ভাবস্থায়, যেমনÑ বহুমূত্র বা ডায়বেটিস, কিডনির রোগ, হৃদপিণ্ড বা হার্টের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশান, যক্ষ্মা, যকৃতের রোগ বা লিভার ডিজিজ ইত্যাদি।
(১১) মায়ের প্রি-অ্যাকলামশিয়া বা অ্যালামশিয়া (প্রসবকালীন সময়ে উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণে শরীরে পানি চলে আসার জন্য খিঁচুনি) থাকলে।
(১২) শিশুর অবস্থান যদি মায়ের গর্ভে সঠিকভাবে না থাকে।
আপনারা জেনে গেলেন ঝুঁকিপূর্ণ মাতৃত্ব কী ও কারা ঝুঁকিপূর্ণ মাতৃত্বের অন্তর্ভুক্ত। ওপরে আলোচিত ১২টি পয়েন্টের মধ্যে যেকোনো একটি বা একাধিক অসুবিধা বা উপসর্গ যে মায়ের মধ্যেই থাকবে, তিনিই হচ্ছেন ঝুঁকিপূর্ণ মা। সুতরাং তার ব্যাপারে একটু বেশি সচেতন হতে হবে, যতœ নিতে হবে এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। এটা মা ও তার গর্ভের শিশু উভয়ের জন্যই মঙ্গলের কারণ হবে। বাঁচবে অমূল্য প্রাণ।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.