কিশোর মুসা রবিনের অভিযান

রকিব হাসান  

বাইশ.

‘কী করে বুঝলে?’
‘এই যে, ঝোলা থেকে সাপ বের করে রাখলেন, দেখলাম তো। সবগুলো বাক্সেই কি সাপ আছে?’
‘না। বাক্সগুলো সব ভরে গেলে প্রথমে সাপের বিষ বের করে নেব। তারপর বিষসহ সেসব সাপ শহরে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দিয়ে আসব। এটাই আমার পেশা।’
পানি গরম হলে দুটো তোবড়ানো টিনের কাপে চা বানিয়ে এনে একটা আমাকে দিলো বুড়ো, আরেকটা নিজে নিলো। কাপে চুমুক দিয়ে বলল, ‘কয়েক বছর আগের কথা। আমি আসার আগে এই কেবিনে একজন সন্ন্যাসী থাকতেন। একদিন শহর থেকে এলো সেই অহঙ্কারী লোকটা। সব ছারখার করে দিলো।’
‘অহঙ্কারী লোক?’
‘হ্যাঁ,’ বিষণœ ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকাল বুড়ো। ‘বনে শিকার করতে এসে সন্ন্যাসীর কেবিনে ঢুকেছিল। তার সাথে বেয়াদবি করেছিল। সন্ন্যাসী ওকে কী করেছিলেন, কেউ জানে না। তবে কেবিন থেকে বেরিয়ে টলতে টলতে গভীর বনের দিকে চলে যায় লোকটা।’
‘সন্ন্যাসী?’
‘হ্যাঁ, সন্ন্যাসী। কেন?’
‘না, এমনি।’ তাঁবুতে ঢুকে যে লোকটা ওকে মায়ানেকড়ের দাঁতটা দিয়েছেন, তিনিই সন্ন্যাসী কি না ভাবছে রবিন। জিজ্ঞেস করল, ‘সন্ন্যাসী এখন কোথায়?’
‘তা তো বলতে পারব না। অহঙ্কারী লোকটা মায়ানেকড়ে হয়ে যাওয়ার কয়েক দিন পর এই কেবিন ছেড়ে চলে গেছে। তবে গাঁয়ের লোকে মাঝে মাঝে দেখে ওঁকে। বনে ঢোকে। কোথা থেকে আসে, কোথায় যায়, কেউ জানে না।’
‘হুঁ!’ চিন্তিত ভঙ্গিতে মাথা দোলাল রবিন। তারপর বলল, ‘হ্যাঁ, বলুন, অহঙ্কারী লোকটার কী হলো?’ (চলবে)

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.