পঞ্চগড়ে করতোয়া নদীর শীর্ণকায় পানিপ্রবাহ। নদীর বুকে আবাদ হচ্ছে ধান : নয়া দিগন্ত
পঞ্চগড়ে করতোয়া নদীর শীর্ণকায় পানিপ্রবাহ। নদীর বুকে আবাদ হচ্ছে ধান : নয়া দিগন্ত

পানিশূন্য ২৭ নদীতে বোরো চাষ, পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চল মরুভূমি হওয়ার আশঙ্কা

আসাদুজ্জামান আসাদ পঞ্চগড়

পঞ্চগড়ে করতোয়াসহ ২৭টি নদী এখন পানিশূন্য। নদীর বুকে এখানে সেখানে নালার মতো বয়ে চলেছে শীর্ণকায় পানিপ্রবাহ। চাষিরা নদীর বুকে বালু সরিয়ে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করেছে। এখন সেই চারা নদীর জমিতে রোপণ করতে ব্যস্ত তারা। অথচ প্রায় ৩০ বছর আগে এ সব নদীতে শুকনো মওসুমে অনেক পানি থাকত। সেই পানি দিয়ে দু’পারের কৃষকেরা নানা ফসল উৎপাদন করত। নদী পানিশূন্য থাকায় উত্তরাঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পঞ্চগড় জেলার ওপর দিয়ে ছোট-বড় ২৭টি নদী প্রবাহিত। এ সব নদীর মধ্যে সবচেয়ে বড় নদী করতোয়া। অন্যান্য নদীর মধ্যে করতোয়া, চাওয়াই, তালমা, পাঙ্গা, কুরুম, ডাহুক, ভেরসা, রণচণ্ডি, তীরনই, বেরং, জোড়াপানি, ঘোড়ামারা, নাগর, সিঙ্গিয়া, ঘাগড়া, পাথরাজ, বড়ি তিস্তা, ছোট যমুনা ছাড়া বাকি নদীর দেখা মেলে শুধুই বর্ষাকালে।

পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় করতোয়া, চাওয়াই, তালমা, পাঙ্গা, কুরুম, ডাহুক, ভেরসা, রণচণ্ডি, তীরনই, বেরং, জোড়াপানি, ঘোড়ামারা, নাগর, সিঙ্গিয়া, ঘাগড়া, পাথরাজ, বুড়ি তিস্তা, ছোট যমুনাসহ অন্যান্য নদী পানি শূন্যতার কারণে কৃষকেরা পুরোদমে ইরি ও বোরো চাষ করছেন।

পঞ্চগড় জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোর উৎসমুখ প্রতিবেশী দেশ ভারত। ভারত সরকার নদী শাসন আইন অমান্য করে বেআইনিভাবে নদীর উৎস ও প্রবেশমুখে বাঁধ, জলধার ফিডার ক্যানেল ও রেগুলেটর নির্মাণ করে পানির স্বাভাবিক গতিপথ পরিবতন করে ক্যানেল তৈরি করে পানি অন্য দিক দিয়ে প্রবাহিত করেছে। যে কারণে এ নদীগুলো ধীরে ধীরে মরা খালে পরিণত হয়েছে। জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ২৭টি নদী পানিশূন্যতার কারণে পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চল ফসলহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে প্রকাশ, প্রতিবেশী দেশ ভারত পঞ্চগড়ের তেতুঁলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা সীমান্তের জিরো পয়েন্টের পশ্চিম উত্তর কোণে মহানন্দা নদীর ওপর বিশাল বাঁধ নির্মাণ করেছে। যা ফুলবাড়ী ব্যারাজ নামে খ্যাত। এ ব্যারেজ নির্মাণের পর থেকে বর্ষার পরই মহানন্দা মরা নদীতে পরিণত হয়ে পড়ে। ১৯৮৬ সালে ভারত সরকার তিস্তা-মহানন্দা নামের বাঁধটি নির্মাণ করে।

প্রতিবছর শুষ্ক মওসুমে ফিডার ক্যানেলের সাহায্যে এই নদী থেকে পানি নিয়ে তারা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ও বিহার রাজ্যের বিভিন্ন স্থানের মরু কবলিত এলাকায় সেচকাজ চালাচ্ছে। বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে দাঁড়ালেই পশ্চিম-উত্তর কোণে দেখা যাবে মহানন্দা নদীর ওপর ভারতীয় অংশের বিশাল বাঁধ। শুধু ফুলবাড়ি ব্যারাজ নয়, ভারত থেকে আসা পঞ্চগড় জেলার ওপর দিযে প্রবাহিত সব নদীর উৎসমুখে ভারত সরকার বাঁধ বা স্লুইস গেট দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করেছে।

যে কারণে নদীগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। এসব নদী পানিশূন্য হয়ে পড়ায় পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, রংপুর, গাইগান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে ইরি-বোরোসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফসল চাষে কৃষকরা অনীহা প্রকাশ করছে। সেচ দেয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই জমিতে পানি থাকে না। এতে ফসল আবাদে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। যে কারণে কৃষকেরা চাষাবাদে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বর্ষা শেষে শুকনো মওসুমে নদী পানিশূন্য থাকায় মাছসহ নদীর অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। পানিশূন্যতার কারণে অনেক দেশী মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। যেসব দেশী মাছ আছে সে সব মাছ বিলুপ্ত হওয়ার পথে।

এ ব্যাপারে জেলা পরিবেশ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বোদা পাথরাজ কলেজের সহকারী অধ্যাপক আলতাফ হোসেন বলেন, নদ-নদী পানিশূন্য হওয়ায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এ ছাড়াও সচেতন মহল মনে করে পানিশূন্য নদীর কারণে পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চল দ্রুত মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। এ ছাড়া জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.