গতবছর বন্দুকযুদ্ধে ১৪৯ জনের মৃত্যু : মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০১৭ সালে বন্দুকযুদ্ধে ১৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় ১০৭ জন, র‌্যাব কর্তৃক ৩৯ জন ও অন্যান্য বাহিনী কর্তৃক নয়জন। পুলিশ ও জেল হেফাজতে মৃত্যু হয় ৪৬ জনের। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ও অন্যান্য সহিংসতায় ঘটনায় ছয় হাজার ৬০২ জনের নিহত এবং ২৪ হাজার ৬১৬ জন আহত হয়েছে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার (বিএমবিএস) ২০১৭ সালের রিপোর্টে এ তথ্য উঠে আসে।

আজ দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে বিএমবিএসের নিজস্ব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিগমা হুদা জানান, বন্দুকযুদ্ধে টার্গেটকৃত ব্যক্তিই নিহত হচ্ছে। এটি বন্দুকযুদ্ধ নয়। এটি হত্যা। এদিকে, শিশু হত্যা ও নারী নির্যাতন ছিল পুরো বছর জুড়েই। পারিবারিক কোন্দলে নিহত ও আহত এবং ধর্ষণ ও শিশু হত্যা বাড়ছে। বাড়ছে নারী নির্যাতন, আত্মহত্যা, পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সহিংসতা। যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।

বিএমবিএস রিপোর্টে বলা হয়েছে, গেল বছর ৩৫২ জন শিশুকে হত্যা এবং ২১১ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়। এর মধ্যে পিতা-মাতার হাতে নিহত ৪২ জন শিশু। ৭৯৫ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার। যৌতুকে প্রাণ গেছে ৬০ জন নারীর এবং আহত হয় ৬২ জন নারী। পারিবারিক কলহে ৪০৭ জন নিহত ও আহত হয় ১২০ জন। সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত ৮৯৭ জন ও আহত হয় ৫৯২ জন। ৬৫৩ জনের আত্মহত্যা। সামাজিক অসন্তোষের শিকার হয়ে নিহত ১৭১ জন ও আহত পাঁচ হাজার ৭৮১ জন।

রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৩৩ জন ও আহত দুই হাজার ১৭৭ জন। এর পেছনে ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর আভ্যন্তরীণ কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার, টেন্ডার বাণিজ্য, এলাকা দখল, চাঁদাবাজী নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমতার দাপট। বেশিরভাগ ঘটনাই ক্ষমতাসিন দলের মধ্যে। ভুল চিকিৎসায় ৭৬ জনের মৃত্যু। নিখোঁজ ১১৭ জন। গনপিটুনিতে নিহত ৫১ জন ও আহত ৬৬ জন। বিরোধী রাজনৈতিক দলকে নিয়ন্ত্রনের জন্য রাজনৈতিক অজুহাতে গণগ্রেফতার হয়েছে পাঁচ হাজার ৬৩১ জনেরও বেশি।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ৩২ ধারার মাধ্যমে গণমাধ্যম ও মানুষের বাক স্বাধীনতাকে হয়রানির মুখে ফেলা হয়েছে। এই ধারায় হয়রানির শিকার হতে পারেন সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীগণ। তথ্য প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা পরিবর্তে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া সম্প্রতি মন্ত্রীসভায় অনুমোদন দেয়ায় এর ৩২ ধারা বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন অ্যাডভোকেট সিগমা হুদা।

তিনি বলেন, আইনটি পাশ হওয়ার আগে বিভিন্ন স্তরে আরোও আলোচনার দাবি রাখে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.