ইরানের কুস্তিগির আলীরেজা কারিমি
ইরানের কুস্তিগির আলীরেজা কারিমি

ইসরাইলি কুস্তিগিরের সাথে না লড়তে ইচ্ছে করে হার, নিষিদ্ধ ৬ মাস

নয়া দিগন্ত অনলাইন

পোলান্ডে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২৩ বিশ্ব কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে ইসরাইলের কুস্তিগিরের সাথে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য রুশ কুস্তিগিরের সাথে ইচ্ছে করে হেরে যাওয়ায় দি ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড রেসলিং ইরানের কুস্তিগির আলীরেজা কারিমিকে ছয় মাসের জন্য এবং বিধি ভঙ্গের কারণে তার কোচ হামিদরেজা জামসিদিকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে হয়েছে। আন্তর্জাতিক কুস্তি অঙ্গনে নিষিদ্ধ হলেও ইরান সরকার অবশ্য আলীরেজাকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেয়।

আন্তর্জাতিক ওই আসরে ইরানের আলীরেজা কোয়ার্টার ফাইনালে রুশ কুস্তিগির আলীখান ঝাবরাভিলভের কাছে ইচ্ছে করে হারের জন্য কোচ তাকে উদ্বুদ্ধ করেন। আলীখানের সাথে জিতলে আলীরেজাকে খেলতে হতো ইসরাইলের কুস্তিগীরের সাথে।

এটি নতুন কোনো ঘটনা নয় ইরানের জন্য। ইরানের অনেক খেলোয়াড় ইসরাইলের আগ্রাসী মনোভাব, ফিলিস্তিনিদের ওপর বর্বর নির্যাতনের কারণে দেশটির খেলোয়াড়দের সাথে খেলতে অস্বীকার করে থাকে। ২০০৪ সালে বেইজিং অলিম্পিকে ইসরাইলি সাঁতারু থাকায় একই সুইমিংপুল থেকে সরে দাঁড়ান ইরানের সাঁতারু। একই বছর এথেন্স গেমসে ইরানি জুডোকা ইসরাইলে জুডোকার সাথে খেলতে অস্বীকৃতি জানান। ১৯৮৩ সালে ইউক্রেনের কিয়েভে ইরান ও ইসরাইলের কুস্তিগিরের মধ্যে সর্বশেষ প্রতিযোগিতা হয়।

 

অনন্য এক রেকর্ড গড়ে আবারো শীর্ষে ফেদেরার

রটারডাম ওপেনের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে আবারো বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করেছেন রজার ফেদেরার। ৩৬ বছর ১৯৬ দিন বয়সে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দল করে তিনি এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক তারকা আন্দ্রে আগাসিকে পিছনে ফেলেছেন।

২০ বারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম বিজীয় ফেদেরার শেষ আটে নেদারল্যান্ডের রবিন হাসেকে ৪-৬, ৬-১, ৬-১ গেমে পরাজিত করে রটারডাম ওপেনের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেন, পাশাপাশি রাফায়েল নাদালকে হটিয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে আসীন হন।

ম্যাচ শেষে উচ্ছসিত ফেদেরার বলেছেন, ‘আমি সত্যিই অভিভূত, আবারো শীর্ষস্থানে ফেরাটা আমার কাছে অনেক কিছু। আমি সত্যিই দারুণ খুশি। কখনই ভাবিনি আবারো এক নম্বরে উঠতে পারবো। এটা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত।’

২০০৩ সালে ৩৩ বছর, ১৩১ দিন বয়সে আগাসী বিশ্বের এক নম্বর স্থানটি দখল করেছিলেন। তার থেকে আরো তিন বছর এগিয়ে ফেদেরার এখন সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন। এর আগে ২০১২ সালের অক্টোবরে প্রথমবার র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে তা ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধরে রেখেছিলেন সুইস এই সুপারস্টার।

ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় এই মুহূর্তে নিজের আবেগকে ধরে রাখতে পারেননি ফেদেরার। সমর্থকদের ভালবাসায় সিক্ত ফেদেরার আরো বলেছেন, ‘শীর্ষস্থানে ফেরাটা একজন টেনির খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ অর্জন। আর বয়স বেড়ে গেলে অন্যের তুলনায় পরিশ্রমটাও দ্বিগুন করতে হয়। বিশেষ করে নিজের ফিটনেস ধরে রাখার জন্য দারুণ কষ্ট করতে হয়। এটা সত্যিকার অর্থেই স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতই ঘটনা। এই যাত্রাটাও দারুণ ছিল, এখানে আমি ১৯৯৮ সালে প্রথম ওয়াইল্ড কার্ড পেয়েছিলাম। আবারো এখানে এই কৃতিত্ব অর্জন সত্যিই বিশেষ কিছু।’

ফেদেরারকে অভিনন্দিত করার তালিকায় স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে ছিলেন আগাসি। টুইটার বার্তায় লিখেছেন, ‘৩৬ বছর ১৯৬ দিন... রজার ফেদেরার টেনিসকে আরো অনেকদুর এগিয়ে নিয়ে যাবে। আরেকটি দারুণ অর্জনের জন্য তোমাকে অভিনন্দন।’

অথচ গত বছর হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পরে ফেদেরারের সামনে নতুন কিছু অর্জনের শঙ্কা ছিল। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৭তম স্থানে ছিলেন ফেদেরার। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শিরোপা জিতে তিনি নিজেকে আবারো লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনেন। সেই মুহূর্তগুলো মনে করে ফেদেরার বলেন, ওই সময়টা আমি দারুণ কষ্ট করেছি। গত বছর আমাকে অনেক ম্যাচ জিততে হয়েছে।

গত ১৩ মাসে তিনটি মেজর টুর্নামেন্ট জয়ই ফেদেরারকে আবারো শীর্ষে ফিরিয়ে এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে চলতি বছরের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.