ঝিনাইদহের নবগঙ্গা নদীতে মাছ ধরার উৎসব

আলাউদ্দীন আজাদ ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহের নবগঙ্গা নদীর পানি কমার সাথে সাথে শুরু হয়েছে দেশী প্রজাতির মাছ ধরার উৎসব। পাশের গ্রামাঞ্চলের সব বয়সের মানুষ নদীতে মাছ ধরতে নামছেন। সৃষ্টি হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশের।
ঐতিহ্যবাহী এই নবগঙ্গা নদী এলাকার গ্রামগঞ্জের মানুষ একসময় দেশী প্রজাতির মাছের ওপর নির্ভর করত। ইলিশ ছাড়া অন্যান্য মাছ যেমন রুই, কাতলা, মৃগেল, শোল, বোয়াল, গজার, ফলই, পাবদা মাগুর, শিং, কৈ, পুঁটি, টেংরা, চেলা, মায়া, ঝিয়া, বেলে, কেকলে, পাকাল, ভেদা, চিংড়ি, গরগোতে, বাইম, সরপুঁটিসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরে খেত। কিন্তু ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবসহ বিভিন্ন কারণে কালের আবর্তে খাল-বিল, নদনদী শুকিয়ে গেছে। সেই সাথে দেশী জাতের মাছও প্রায় বিলুপ্ত হয়েছে। তাই এখন নদনদী, খাল-বিলে দল বেঁধে মাছ ধরার দৃশ্য চোখে পড়ে না।
জানা গেছে, দুই বছর ধরে নবগঙ্গা নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ মারা নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাঁধগুলো ভেঙে দেয়া হয়েছে। এতে মা জাতের মাছ বংশবিস্তার করার সুযোগ পাওয়ায় এ বছর নবগঙ্গা নদীতে মাছ ভরে গেছে। গত বুধবার নদীতে গেলে চোখে পড়ে মাছ ধরার মহোৎসবের। গোবরাপাড়া গ্রামের জালাল জানান, এলাকার মানুষ নবগঙ্গা নদীতে মাসব্যাপী এভাবেই মাছ ধরছে। এমন কেউ নেই যে প্রতিদিন ২ থেকে ৫ কেজি মাছ ধরছেন না। পোতাহাটি গ্রামের ইমরান জানান, তিনি প্রতিদিন ৪-৫ কেজি পুঁটি, টেংরা, পাকাল, ভেদা, চিংড়ি, সরপুঁটিসহ বিভিন্ন জাতের মাছ ধরে থাকেন।
একই গ্রামের জিল্লু জানান, বছর ধরেই এ নদীতে মাছ ধরছেন এলাকার মানুষ। কারো মতে এ বছর নদীতে প্রচুর মাছ আছে। রিশখালীর আইয়ুব আলী জানান, মাছের অভাব দূর হয়েছে নদীতে মাছ থাকায়। প্রতিদিন তিনি ২-৩ কেজি মাছ ধরেন খেপলা জাল ফেলে। সাধুহাটির আকাশ জানান, মাছ ধরতে আনন্দ লাগে তাই নদীতে মাছ ধরেন।
সাধুহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী নাজীর উদ্দীন জানান, প্রশাসন বর্ষা মওসুমে নদীতে বাঁধ না দিতে দেওয়ার কারণে মাছের বংশবৃদ্ধি পেয়েছে। এ জন্য এবার নদীতে মাছ বেশি হয়েছে।
এ দিকে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, নবগঙ্গা নদীতে এবার দেশী জাতের মাছ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, একশ্রেণীর জেলে মওসুমের সময় নদীতে বাঁধ দিয়ে মা জাতের মাছ নিধন করত, আমরা প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নিয়ে তা বন্ধ করেছি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাঁধগুলো সরিয়ে দিয়েছি ও জরিমানা করেছি। ফলে ভরা মওসুমে মা মাছ রক্ষা পাওয়ায় নদীতে দেশী জাতের মাছ বেড়েছে। এ অভিযান প্রতি বছর অব্যাহত থাকবে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.