সোনাইমুড়ী পৌরসভা নামেই ‘ক’ শ্রেণী : আয়তনে ‘গ’ শ্রেণী থেকেও ছোট

মুহাম্মদ হানিফ ভূঁইয়া নোয়াখালী

নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী পৌরসভা নামেই ‘ক’ শ্রেণী আয়তনে এটি ‘গ’ শ্রেণী থেকেও ছোট। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ পৌরসভার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশে ২০০৩ সালের ৩০ জুলাই সোনাইমুড়ী এলাকাকে পৌরসভা করা হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সোনাইমুড়ী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম, বজরা ইউনিয়নের একটি গ্রামের কিছু অংশ ও নদনা ইউনিয়নের দু’টি গ্রাম নিয়ে সোনাইমুড়ী পৌরসভা গঠন করা হয়েছিল। বিএনপি নেতা গোলাম মহি উদ্দিন মিলনকে পৌর প্রশাসক করে শুরু হয় পৌর সভার কার্যক্রম। প্রায় ৩ বছর পর ২০০৬ সালে প্রথম নির্বাচন হয়। ২০০৮ সালে পৌরসভাটিকে ‘খ’ শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়। ২০১৩ সালে পৌরসভার দ্বিতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর রাজস্ব আয় ও হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় হার সন্তোষজনক হওয়ায় ওই বছরেই সোনাইমুড়ী পৌরসভাকে ‘ক’ শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়।
২০০৭ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতর উপজেলা শহর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১১-২০৩১ সাল একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। বাস্তবায়নের নিমিত্তে কালুয়াই, বগাবাড়িয়া, বগাদিয়া, বাট্রা, মকিল্যা, আটিয়াবাড়ি, ভাবৈয়াপাড়া, কৈয়া, পদুয়া মৌজাকে পৌরসভার সীমানা সম্প্র্রসারণ করে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ওই পরিকল্পনা গ্রহণের ৭ বছর পরও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্তি পৌরসভার সম্প্রসারণ প্রক্রিয়াই সম্পন্ন করা হয়নি। জানা যায়, এ বিষয়ে উল্লিখিত মৌজাগুলো এবং পৌরসভাসংলগ্ন আরো কিছু মৌজার জনসাধারণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। নোয়াখালী অন্যান্য পৌরসভার দিকে তাকালে দেখা যায় ‘খ’ শ্রেণীর পৌরসভা সেনবাগের সীমানা ১৮.১১ বর্গ কিলোমিটার, চৌমুহনী পৌরসভার (‘ক’ শ্রেণী) প্রায় ৩৫ বর্গকিলোমিটার, চাটখিল পৌরসভার (‘ক’ শ্রেণী) ২১ বর্গকিলোমিটার, ‘গ’ শ্রেণীর হাতিয়া পৌরসভার সীমানা যেখানে ২৬ বর্গকিলোমিটার সেখানে সোনাইমুড়ী পৌরসভার সীমানা মাত্র ১৩.১৩ বর্গকিলোমিটার। মাস্টার প্ল্যানে উল্লিখিত মৌজাগুলো কোনোটিই সোনাইমুড়ী পৌরশহর থেকে তিন-চার কিলোমিটার আবার কোনোটি এক-দেড় কিলোমিটারের বেশি নয়। অথচ ওই এলাকার মানুষ আধুনিক পৌর সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সোনাইমুড়ী পৌরমেয়র মোতাহের হোসেন মানিক বলেন, ২০ বছর মেয়াদি মাস্টার প্ল্যানটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর থেকে পাওয়ার পর পৌর পরিষদের সিদ্ধান্ত ক্রমে ২০১৬ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে সীমানা সম্প্রসারণের পত্র পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত পৌরসভাকে অবহিত করা হয়নি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.