ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে বোরো ধানের চারা লাগাচ্ছেন কৃষকেরা : নয়া দিগন্ত
ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে বোরো ধানের চারা লাগাচ্ছেন কৃষকেরা : নয়া দিগন্ত

নাব্যতা হারিয়ে ব্রহ্মপুত্র মরা খাল চলছে ইরি-বোরো চাষ

সাজ্জাতুল ইসলাম সাজ্জাত গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)

এক সময়ের খরস্রোতা ব্রহ্মপুত্র নদ এখন নাব্যতা হারিয়ে মরাখালে পরিণত হয়েছে। নদের বুকে জেগে উঠছে চরের পর চর। সেখানে চলছে ইরি-বোরো ধান আবাদ। নদের বুকে জেগে ওঠা চরে হালচাষ ছাড়াই কৃষকেরা বোরো ধান, পিঁয়াজ, মিষ্টি আলুসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করছেন। অতিরিক্ত পলিজমে থাকার কারণে সেচ ও সার ছাড়াই অধিক ফসল উৎপাদিত হচ্ছে। নদটি দীর্ঘ দিন ধরে খনন না করায় পলিমাটি জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। বর্ষা মওসুমে ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে বসবাসকারী গৌরীপুর উপজেলার ২৮টি গ্রাম বন্যার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগেও ব্রহ্মপুত্র নদ ছিল প্রমত্তা ও খরস্রোতা। নদের বুক দিয়ে চলাচল করত যাত্রীবাহী লঞ্চ, মালবাহী ট্রলার, কার্গো। বর্তমানে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে প্রবাহমান ব্রহ্মপুত্র নদটি নাব্যতা হারিয়েছে মরাখালে পরিণত হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে লঞ্চ, ট্রলার, কার্গো ও নৌকা চলাচল। বেশির ভাগ লোকই হেঁটে ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিচ্ছেন। চরভাংনামারী, বারুয়ামারী, পুর্ববারুয়ামারীসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন ব্রহ্মপুত্র নদে ইরি-বোরো চাষের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। নদে চর জেগে উঠায় বন্ধ হয়ে গেছে দুইশতাধিক পরিবারের মাছধরা ও নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহের পথ। বিশাল নদটি চর জেগে পরিণত হয়েছে ছোট্ট একটি খালে।
নদী পারাপারের নৌকার মাঝি মতি মিয়া জানান, শুকনো নদী হেঁটেই মানুষ নদী পাড়ি দেয়। নৌকায় পারাপারের যাত্রী নেই। ইঞ্জিনচালিত প্রায় সব যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তাই খুবই কষ্টে দিনযাপন করছেন। গ্রীষ্ম মওসুমে নদী শুকিয়ে জেগে উঠছে চর। আর বর্ষা মওসুমে এই ব্রহ্মপুত্র নদের গভীরতা হ্রাস পাওয়ায় সামান্য পানিতেই ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হচ্ছে। কৃষক মোসলেম উদ্দিন জানান, চরাঞ্চলের মানুষকে বাঁচাতে হলে আগে ব্রহ্মপুত্রকে বাঁচাতে হবে। স্কুল শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নদীর উপরও পড়ছে। তাই গ্রীষ্ম মওসুমে শুকিয়ে যাচ্ছে আর বর্ষা মওসুমে বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের সৃষ্টি হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদ খনন করা না হলে গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়ন ও পাশের ইউনিয়নের ২৮টি গ্রামে বর্ষা মওসুমে বন্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র নদ শুকিয়ে যাওয়ায় এসব গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন হচ্ছে। বেড়ে যাচ্ছে তাপমাত্রা। বেশির ভাগ মানুষই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদে পানি না থাকায় গাছপালা ও কৃষি উৎপাদনের ওপর প্রভাব পড়ছে। উপজেলার সবজি আবাদের ভাণ্ডারখ্যাত ভাংনামারীতে কমে যাচ্ছে উৎপাদন। কৃষক আব্দুস সালাম জানান, সিম গাছের লতাপাতা ব্যাপক বাড়লেও সিম ধরছে না। টমেটো, মরিচ, বেগুন, ডাটা, আলু ক্ষেতেও আশানুরূপ উৎপাদন হচ্ছে না। ব্রহ্মপুত্র নদের সংস্কার না হলে বর্ষা মওসুমে ভাঙ্গনের শিকার হবে উপজেলার ২৮টি গ্রাম। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বেকার হয়ে যাবে নদীর দু’কূলের প্রায় দুই হাজার পরিবার।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.