পঞ্চগড়ে বন বিভাগের দু’টি মামলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন শ্রমিকসহ ৩০ জন

আসাদুজ্জামান পঞ্চগড়

ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে চা বাগান ও বনায়ন করার জন্য জমি তৈরি করতে গিয়ে পাথর উত্তোলনের অভিযোগে বন বিভাগের দু’টি মিথ্যা মামলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে ৩০ জনের অধিক মানুষ। দু’টি মামলায় দু’জন আটক হলেও জামিনে মুক্তি পেয়েছেন একজন। অপরজন এখনো জেলহাজতে। বাকিরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
লিখিত অভিযোগে পঞ্চগড় পৌর এলাকার ডোকরোপাড়া গ্রামের আবু ওয়ারেছ প্রধানের ছেলে আবুল বাশার প্রধান জানান, পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউপির ভেলকুপাড়া মাঝবাড়ি মৌজার এসএ ২৭০ নম্বর খতিয়ানের ৪৪.১৭ একর জমির মধ্যে এসএ ৬০০৪ নম্বর দাগের ২৮.৩৫ একর জমির রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন মরহুমা কামেলা খাতুন। তিনি গত ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর ৪৮৫৫ নম্বর রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে কুরশিআরা বেগমের অনুকূলে ১৫.৩৮ একর জমি প্রদান করেন। এরপর গত ২০১২ সালের ৩ এপ্রিল কুরশিআরা বেগম ২১২৯ নম্বর দলিলের মাধ্যমে সমুদয় জমি তার দুুই ছেলে ও তিন মেয়ের নামে রেজিস্ট্রি দেন এবং একই দিনে জমির মূল মালিক কামেলা খাতুন ওই দাগের অবশিষ্ট ১২.৯৭ জমি আবারো কুরশিআরা বেগমের নামে ২১৩০ নম্বর দলিলমূলে রেজিস্ট্রি করে দেন। ওই জমিতে চা বাগান ও বনায়ন করার জন্য উচুঁ নিচু জমি লোকজন নিয়ে সমান করার সময় কিছু পাথর উত্তোলন করতে গেলে গত বছরের ৫ নভেম্বর পঞ্চগড় বন বিভাগের বিট অফিসার ১৫ জনকে আসামি করে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় এক নম্বর আসামি মোকসেদুল ১৫ দিন জেলহাজতে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান। মামলার পর বন বিভাগ থানা কর্তৃপক্ষকে বাদি করে গত ১৯ জানুয়ারি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩) ধারায় ১৬ জনকে আসামি করে আরো একটি মামলা করে। ওই মামলার একজন আসামি বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে এবং বাকি আসামিরা পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
অভিযোগে তিনি আরো জানান, ওই দাগের সমুদয় জমি বন বিভাগের গেজেটে জমির মালিক জনৈক আমিনুল ইসলাম, পিতা আব্দুস সামাদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যা ভুয়া। কেননা ওই নামে অত্র এলাকায় কোনো ব্যক্তি বা তার ওয়ারিশ নেই। প্রকৃতপক্ষে ওই জমির প্রকৃত মালিক ছিলেন মরহুমা কামেলা খাতুন। সরকার কর্তৃক ভূমি জরিপের পর ১৯৬২ সালের গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে প্রকৃত ভূমি মালিকদের নামীয় এস্টেট ও একুইজেশন অ্যান্ড টেনেন্সি এক্টের ৪৬ ধারায় মাঝবাড়ি মৌজা উল্লেখপূর্বক এসএ ২৭০ নম্বর খতিয়ানে কামেলা খাতুনের নামীয় ৬০০৪ নম্বর দাগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাই কামেলা খাতুনই ওই জমির প্রকৃত মালিক ছিলেন এবং বর্তমানে ওই জমির কবলা ক্রেতারা ওই জমির মালিক ও ভোগ দখলকার।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য পঞ্চগড় বন বিভাগের ফরেস্ট রেঞ্জার কবির হোসেনকে পাওয়া যায়নি। সদর বিটের বিট অফিসার আনোয়ারুল ইসলামের সাথে এ নিয়ে কথা বললে তিনি জানান, ওই জমির মূল মালিক আমিনুল ইসলামের কাছ থেকেই সরকার বন বিভাগের নামে ওই জমি অধিগ্রহণ করে। কামেলা খাতুন ওই জমির মালিক হয়ে থাকলে তারা আদালতে প্রমাণ করবে। আমরা এখানে চাকরি করি। জোরপূর্বক কারো জমি নেয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, বন বিভাগের জমি থেকে পাথর উত্তোলন করার কারণেই বন বিভাগ মামলা করেছে।
কথা বললে পঞ্চগড় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমানুল্লাহ বাচ্চু বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আমি বন বিভাগকে কাগজপত্র দেখাতে বলেছিলাম। তারা জমির সমর্থনে একটি গেজেটের কপি আমাকে দিয়েছে। সেখানে ১৯৬১ সালে প্রকাশিত গেজেটে ওই জমির মালিক আমিনুল ইসলামকে দেখানো হয়েছে। অথচ ১৯৬২ সালের রেকর্ডে ওই জমির মালিক কামেলা খাতুন। তাই কামেলা খাতুনের কাছে যিনি কবলা নিয়েছেন তারাই প্রকৃতপক্ষে এই জমির মালিক।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.