অভিমত : বাঙালি ও বাংলা ভাষার মুক্তি

মো: মকলেছুর রহমান

বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা’ দিবস চালু হয়েছে। এই ভাষা ও সাহিত্যকে আরো শক্তিশালী ও বিশ্বের বুকে অধিকতর সম্মানজনক আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। উভয় বাংলার ভাষা ও সাহিত্যের ‘কেন্দ্রীয় রাজধানী’ হবে ঢাকা। কারণ পশ্চিম বাংলা তার নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষা হারিয়ে ফেলছে। ’৪৭-এর দেশ ভাগের ফলেই আজকের বাংলাদেশ সে দিনের অখণ্ড ভারতবর্ষ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে, সে কারণেই বাংলা ভাষা আজ শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিকভাবে দৃঢ় অবস্থান লাভে সক্ষম হয়েছে। অখণ্ড ভারতের অধীনে থাকলে তা কোনো দিনই সম্ভব হতো না। উল্লেখ্য, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পশ্চিম বাংলার বাংলাভাষীদের কর্তৃত্ব নেই ভারতে।
’৪৭ সালে দেশভাগের জের ধরে বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভে সক্ষম হয়েছে। তৎকালীন পূর্ববাংলার স্বাধীনচেতা কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদদের স্বাতন্ত্র্যচেতনার কারণেই আজ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা লাভে সক্ষম হয়েছে। ইতিহাস প্রমাণ করেছে যে, ঐক্যের মূল কথাই হচ্ছে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ন্যায়বিচার। অশিক্ষা, অজ্ঞতা, দারিদ্র্য ও দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এবং অসাম্যের বহিঃপ্রকাশ থাকলে দেশ বা জাতির ঐক্য রক্ষা করা সম্ভব নয়।
বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে বিশ্বের বুকে সম্মানের সাথে এ ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যারা, তারা তদানীন্তন পূর্ববাংলার গর্বিত সোনার সন্তান। ভারতের পশ্চিম বাংলার বাংলাভাষীদের এমন গর্ব করার বিষয় নেই। এটা তাদের উপলব্ধি করার সময় এসেছে। বাস্তবতাকে সবাইকে মান্য করতে হয়। পশ্চিমবঙ্গে বাস্তবতা হলো হিন্দি ভাষা। তাদের জীবনযাত্রার মান অনেক কম। কারণ, দিল্লির সরকার পশ্চিম বাংলাকে অবহেলায় রেখেছে। পশ্চিম বাংলার বাংলাভাষীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে বঞ্চিত। সেখানে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ প্রায় সর্বক্ষেত্রে প্রধান হিন্দিভাষী অবাঙালিদের দাপট।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.