প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক-২০১৮ প্রদান  করছেন : পিআইডি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক-২০১৮ প্রদান করছেন : পিআইডি

আমাদের ঐতিহ্য সংস্কৃতিকে যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের গৌরবময় ইতিহাস ও কৃষ্টিকে কেউ যেন ভুলে না যায় সে জন্য তা সংরক্ষণ এবং মর্যাদা দেয়ার আহবান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা একটা জাতি, বাঙালি জাতি, আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতিÑ আমাদের গৌরবের অনেক কিছু রয়েছে, সেই সব আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে। আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিÑ সেগুলো কেউ যেন ভুলে না যায় সে জন্য এর যথাযথ মর্যাদাও আমাদের দিতে হবে।’
আগামী প্রজন্মের জন্য এগুলো যথাযথ সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা গতকাল সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।
সরকারপ্রধান বলেন, জাতির পিতার যে আন্দোলন-সংগ্রাম ছিল তা ছিল জাতি হিসেবে আমাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মুক্তির জন্য।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক অধিকার অর্জনের মধ্য দিয়েই আমরা অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করতে পারি। আর আমাদের সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্র প্রসারিত হতে পারে। কাজেই আমরা জাতির পিতার আদর্শ নিয়েই সবসময় এগিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই বিশ্ব দরবারে একটা মর্যাদাপূর্ণ দেশ হিসেবে।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ২১ জন দেশবরেণ্য ব্যক্তিকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক-২০১৮ প্রদান করেন।
পুরস্কার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী পদক বিজয়ীদের হাতে সোনার মেডেল, সম্মাননাপত্র এবং ২ লাখ টাকার চেক তুলে দেন।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো: শফিউল আলম পদক বিতরণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এবং পদক বিজয়ীদের সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত পাঠ করেন। এ ছাড়া সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: ইব্রাহিম হোসেইন খান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যগণ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, জাতীয় সংসদের সদস্যবৃন্দ, বিচারপতিগণ, পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও অধ্যাপকবৃন্দ, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, কবি-সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিকসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, যে বাংলাদেশ এক সময় ক্ষুধা ও দারিদ্র্যে জর্জরিত ছিল, আজকে আমাদের প্রচেষ্টায় আমরা তা থেকে মুক্তি পেয়েছি।
তিনি বলেন, যে জাতি রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা আনতে পারে তারা কারো কাছে ভিক্ষা করে চলবে না। বিশ্ব দরবারে সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে চলবে। সেটাই আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আর সেই চেষ্টাই আমরা করে যাচ্ছি। তিনি এ সময় আমাদের জাতীয় উৎসব পহেলা বৈশাখ উদযাপনে দেশবাসীর জন্য তার সরকারের ভাতা প্রদানের প্রসঙ্গও উল্লেখ করে বলেন, আমাদের প্রত্যেকটি অর্জনের পেছনেই কিন্তু রক্ত দিতে হয়েছে, অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। কিছুই এমনি এমনি হয় নাই।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলা ১৪ শ’ সাল উদযাপনের সময় তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উদযাপনের অনুমতি না দিয়ে পুলিশি ঘেরাও দিয়ে রাখে। অথচ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলে এই একটি দিন আমরা উদযাপন করি।
সেই ব্যারিকেড ভেঙে কবি সুফিয়া কামালকে সাথে নিয়ে ট্রাকের ওপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উৎসবের অনুষ্ঠান করার কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি পদক বিজয়ীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আজকে যারা একুশে পদক পেলেন আমি তাদেরকে আমার শ্রদ্ধা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আগামীতে আমরা এভাবে আরো অনেককে মর্যাদা দিতে চাই। যেহেতু এটা একুশে ফেব্রুয়ারি তাই আমরা বেছে ২১ জনকেই নিয়েছি। কিন্তু আমরা জানি আমাদের আরো যোগ্য অনেকেই আছেন।
প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের প্রচেষ্টায় ইউনেস্কো কর্তৃক একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের ঘটনারও বৃত্তান্ত তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর আগে রফিকুল ইসলাম, আবদুস সালামসহ কয়েকজন প্রবাসী বাঙালির উদ্যোগে এবং ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারের প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো কর্তৃক একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আমাদের একুশ এভাবে পরিণত হয় পৃথিবীজোড়া মানুষের মাতৃভাষা দিবসে।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের সহযোগিতায় সমবেতকণ্ঠে জাতীয়সঙ্গীত এবং অমর একুশের গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো পরিবেশিত হয়’।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.