ভালোবাসিয়া গেলাম ফাঁসিয়া

মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন

দোস্ত কত মেয়ের সঙ্গেই তো প্রেম করেছি, তুই একটু জেনে আসবি কোন মেয়ে আমার সাড়ে সর্বনাশটা করল?
হ মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন

পৃথিবীতে কন্যারাশির জাতকেরাই নাকি প্রেম-ভালোবাসার ফিফটি পারসেন্ট জায়গা দখল করে রেখেছে। কিন্তু আমাদের খগেশ সিংহ রাশির হলেও চিতা বাঘের মতো তার ভালোবাসার দৌড়। খগেশের কথা হলো, ‘মেয়েদের পটানো, এটা কোনো ব্যাপার হলো? এটা আমার কাছে সকালের নাশতা, দুপুরের টিফিন আর রাতের ডিনারের মতো। এই তিনটে জিনিস যেমন রেগুলার, প্রেম জিনিসটাও আমার কাছে রেগুলার। দিনে তিনটা মেয়ের সাথে ডেটিং না মারলে কি এই খগেশের প্রেস্টিস থাকবে?’
খগেশের প্রেমের বাজার দেখে আমরা বন্ধুরা কখনো লজ্জায় মাথা নোয়াতাম, আবার কখনো হিংসার চিতায় পুড়তাম। এরই মধ্যে একদিন কাজল এসে বলল, ‘দোস্ত, গরম খবর আছে।’
আমি কাজলের কথার মাথা-মুণ্ডু বুঝতে না পেরে ঝারি দিয়ে বললাম, ‘এই শীতে তুই আসছিস গরম খবর নিয়া।’
কাজল বলল, ‘না ভাই ঘটনাটা শুনবেন তো!’।
কাজল যা বর্ণনা দিলো তা এরকমÑ কোন মেয়ে নাকি খগেশের বাবার কাছে অভিযোগ করেছে যে, খগেশ তার সঙ্গে দীর্ঘ দিন প্রেম করেছে। এখন খগেশ তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করছে না। অথচ সে মেয়ে নাকি এখন সন্তানসম্ভবা। এ কথা শুনে খগেশের বাবা ভীষণ রেগে আছে। খগেশের বাবা ওই মেয়ের বাবাকে কথা দিয়েছেন, ‘ছেলে যেহেতু একটা খারাপ কাজ করে ফেলেছে, মানসম্মান পাংচার হওয়ার আগেই বিয়ের আয়োজন করা হবে।’
রাতে খগেশ তার শোয়ার রুমে গেলে বাবা বাহির হতে রুমে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, বিয়ের আগে তার জামিন নেই। খগেশ এখন গৃহবন্দী। ঘটনা শুনে আমি এক্কেবারে নিশ্চুপ।
পরদিন ভোর বেলা গেলাম খগেশের সঙ্গে দেখা করতে। খগেশের মুখটা ঘন মেঘের মতো কালো বর্ণ ধারণ করেছে। জানালার কপাট খোলে খগেশকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘খগেশ তুই একাজ করলি ক্যান রে?’
খগেশ দু’হাতে দু’কান ধরে বলল, ‘সত্যি বলছি অনেক মেয়ের সঙ্গেই তো প্রেম করেছি কিন্তু বিশ্বাস কর প্রেম বাদে টেম জাতীয় কোনো কিছু করিনি।’
খগেশ তার হাতে থাকা মোবাইল আমার হাতে দিয়ে বলল, ‘নে দোস্ত, এই অভিশাপের বাক্স নে। প্রেমের খেতাপুরি। আজ থেকে মোবাইলই চালাব না।’
আমি বললাম, ‘তোর প্রেম করার আর বেইল আছে? আজ থেকে তুই হাফ মেরিড। যেকোনো সময় তোর বিয়ের সানাই বেজে উঠবে।’
বরযাত্রী রওনা হওয়ার আগে খগেশ বলল, ‘দোস্ত কত মেয়ের সঙ্গেই তো প্রেম করেছি, তুই একটু জেনে আসবি কোন মেয়ে আমার সাড়ে সর্বনাশটা করল?’
বিয়ে বাড়িতে খাওয়া পর্ব শেষে কাজী এলেন। আমি কৌতূহল মিটাতে কাজলকে নিয়ে অন্দর মহলে কনে দেখতে গেলাম। কনে দেখে আমরা গলদা চিংড়ির মতো লাফিয়ে উঠলাম। একি! এ যে কাজলা অর্পিতা। সুতরাং অন্দর মহল হতে ফিরতে কয়েক সেকেন্ডের বেশি দেরি হলো না। যে অর্পিতা আমাদের ইন্টারমিডিয়েটের কাসমেট ছিল। এই অর্পিতাকে দিয়েই খগেশ তার প্রেমের বাজার শুরু করেছিল। দীর্ঘ দিন প্রেম করার পর যখন খগেশের প্রেমের বাজার চাঙ্গা হয়ে ওঠে তখনই খগেশ পিছুটান দেয়। যে অর্পিতাকে কালো বলে কখনো কাজলা আবার কর্কশ বলে কখনো লাউডস্পিকার বলে ডাকতাম। সেই অর্পিতা আজ বধূবেশে। কাজল খগেশের কাছে অর্পিতার নাম উচ্চারণ করার সঙ্গে সঙ্গে সে ডানে-বামে মিটমিট করে তাকিয়ে বলল, ‘আমার পেটটা হঠাৎ মোচর দিয়ে উঠল ক্যান?’
আমি মুখ টিপে হাসলাম, ‘চান্দু এবার সামলাও’।
নতুন বর টয়লেটে যাবে। শ্যালিকারা দৌড়ে গিয়ে নতুন একখান বদনা এনে দিলো। সবাই জানল নতুন জামাই টয়লেটে গেছে আমি জানতাম সে টয়লেটে যায়নি, কোনো এক অজানা উদ্দেশে সে পাড়ি দিয়েছে। কিছুক্ষণ পর হট্টগোল। নতুন জামাইকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কাজল চোখ টিপে আমাকে বলল, ‘চল ভাইয়া কেটে পড়ি’।
মাসখানেক পর এই বিশ্বপ্রেমিক খগেশকে আবিষ্কার করা গেল শহরে তার কোনো এক বন্ধুর বাসায়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.