৩৫ কোটি মানুষের ভাষা পরাস্ত হতে পারে না

ফেসবুক থেকে সরকারি দফতর সব জায়গায় বাংলা চর্চার প্রতি জোর দিচ্ছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। ইংরেজির আধিপত্য ও করপোরেট প্রভাবের এই সময়ে তিনি এক রকম লড়াই করে যাচ্ছেন। তার মতে, ৩৫ কোটি মানুষের ভাষা পরাস্ত হতে পারে না। মানুষ যেমন মাকে ভোলে না, মাতৃভূমিকে ভোলে না, তেমনি মাতৃভাষাকেও ভুলতে পারে না। এখন আমাদের বাড়তি একটি শক্তি রয়েছে বাংলা ভাষার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা। আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যদি না থাকত, তাহলে আমাদের হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ হয়তো থাকত। পৃথিবীতে যে ক’টি ভাষা ও লিপি হারিয়েছে তার অন্যতম কারণ ওরা প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি।
পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে পটপরিবর্তনে আমাদের মধ্যে ধীরে ধীরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে যে, ইংরেজি হচ্ছে আন্তর্জাতিক ভাষা। ইংরেজি না জানলে পৃথিবীতে টিকে থাকতে পারবেন না। এটি অমূলক ধারণা, যা আমাদের ঔপনিবেশিকভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এখনো বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সাধারণভাবে যেসব ব্যবস্থা নেয়া উচিত, তার অনেকই ঘাটতি আছে। আমরা যখন রাষ্ট্রব্যবস্থায় ডিজিটাল হতে শুরু করলাম, তখন কোথাও কোথাও ডিজিটালের নামে বাংলা ভাষাকে নেয়া হচ্ছিল না। যেমন বাংলা হরফে বাংলাদেশে কোনো কোম্পানির নাম নিবন্ধন করা যায় না। জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে অটোমেশন হয়েছে। কিন্তু সেখানে বাংলা হরফ লেখার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। আমাদের ই-টেন্ডার আছে, সেখানে বাংলা হরফ প্রবেশ করানোর কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এমনকি যেসব ব্যাংক একসময় বাংলায় গ্রাহককে স্টেটমেন্ট দিত অথবা বাংলায় সব লেনদেন করত, সেখানেও দিন দিন রোমান হরফ প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। আমরা বাংলা লেখা শুরু করছি রোমান হরফ দিয়ে, রোমান হরফে ভুলভাবে বাংলা লেখার প্রক্রিয়ার মধ্যে যাচ্ছি।
পৃথিবীর অনেক দেশ রয়েছে, যারা ইংরেজি ব্যবহার করে না, ইংরেজি জানলেও কথা বলে না। জার্মানি, ফরাসি, জাপান, কোরীয়রা এমন অনেক দেশই আছে। এসব দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গেলে তাদের ভাষা শিখে তারপর যেতে হয়। তারা কিন্তু পিছিয়ে পড়েনি! বরং বৈশ্বিক শিল্পবিপ্লবে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। ভাষা যোগ্যতায় বাংলা সব দিক থেকে উত্তীর্ণ, সেরা। আসলে আমাদের মানসিকতা বদলাতে হবে, সত্যিকারভাবে বাংলাকে ভালোবাসতে হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.