বিদ্যুতের পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্কের সংস্কার হচ্ছে
বিদ্যুতের পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্কের সংস্কার হচ্ছে

বিদ্যুতের পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্কের সংস্কার হচ্ছে

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

দেশের বিদ্যুত খাতের সংস্কার করা হচ্ছে। আর পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্কের পরিবর্ধন ও ক্ষমতাবর্ধন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ৯ জেলার ৩৫ উপজেলায় বিদ্যুতের এই সংস্কার। বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ৮০৩ কোটি ৯৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। এয়াড়া সরকার পটুয়াখালীতে সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট করতে যাচ্ছে। যার জন্য ৯৩১ একর জমি অধিগ্রহণ করতে প্রকল্প নেয়া হয়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, যে পরিমাণ বিদ্যুৎ আমাদের জাতীয় গ্রিডে রয়েছে, সঞ্চালন ব্যবস্থার ত্রুটির জন্য তার সবটুকু গ্রাহক পর্যন্ত পৌঁছানো যাচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় বিদ্যুতের দুটি প্রকল্পসহ মোট ১৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংএ প্রকল্পগুলো অনুমোদনের বিষয়ে বিস্তারিত জানান। তিনি জানান, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৯৮৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১১ হাজার ৯৪০ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৫ হাজার ৫২৩ কোটি ২২ লাখ টাকা। সংস্থার অর্থায়ন ৫২৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্কেও প্রকল্পটি মুন্সিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজার এই ৯টি জেলার ৩৫টি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন কেভির সঞ্চালন লাইন নির্মাণ ও সাব-ষ্টেশন স্থাপন করা হবে। প্রকল্পের জন্য বিশ্বব্যাংক থেকে প্রথম ৪৬ কোটি ৫৫ লাখ ডলার ঋণ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন বিশ্বব্যাংক সেটা কমিয়ে ৪৫ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার দেবে।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো, পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট সুপার থার্মাল পাওয়ার প্লান্টের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন ও সংরক্ষণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৮১৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা, উপজেলা পর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য কৃষক প্রশিক্ষণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩১৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা, বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৯৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা, রংপুর অঞ্চলে ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন ও সেচ দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৪০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৮৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা, ৩২টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন নবসংযুক্ত নাসিরাবাদ, দক্ষিণগাঁও, ডেমরা ও মান্ডা এলাকার সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৪৭৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা, কালুখালী ভাটিয়াপাড়া সেকশন পুনর্বাসন এবং কাশিয়ানী-গোপালগঞ্জ-টুঙ্গিপাড়া নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২ হাজার ১১০ কোটি ২৭ লাখ টাকা, পার্বতীপুর হতে কাউনিয়া পর্যন্ত মিটারগেজ রেলওয়ে লাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৮৩ কোটি ২১ লাখ টাকা, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর জন্য বিভিন্ন বিওপির পরিসীমা বরাবর কাটাঁতারের বেড়া নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৫৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (বরিশাল জোন) প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬৬৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, জামালপুর-চেচুয়া-মুক্তাগাছা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৪৬০ কোটি ৮ লাখ টাকা, শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, গাজীপুর , প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯২৪ কোটি ৬ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ বীমা খাত প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬৩২ কোটি টাকা।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বিদ্যুত আমাদের লাইফলাইন। ছোট-বড়-মাঝারি যে কোন ধরনের শিল্পায়নের জন্য বিদ্যুৎ দরকার। আবাসিক খাতেও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুত দেয়া যাচ্ছে না। কিন্তু যে পরিমাণ বিদ্যুৎ আমাদের জাতীয় গ্রিডে রয়েছে, সঞ্চালন ব্যবস্থার ত্রুটির জন্য তার সবটুকু গ্রাহক পর্যন্ত পৌঁছানো যাচ্ছে না। মন্ত্রী বলেন, আমরা বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়িয়েছি তিনগুণ। আর বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা বেড়েছে দুই গুণ। এখন বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সঞ্চালন ব্যবস্থার সক্ষমতাও বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, শিল্পায়নের দিকে এগুলেও কৃষিকে বাদ দেয়া যাবে না। কৃষিতে সনাতন কর্মকৌশলের জায়গায় আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এটি করতে পারলে উৎপাদন বাড়ানো, সময় ও ব্যয় কমানোর পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকেও কৃষিতে আগ্রহী কওে তোলা যাবে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.