মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে তলব

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

সীমান্তে অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত লইন উ’কে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব খোরশেদ আলম রাষ্ট্রদূতকে তলব করেন।

সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ব্যাপারে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়।

রাষ্ট্রদূতকে জানানো হয়, ‘এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য ভালো নয়।’ এরপর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি নোট ভারবাল (আনুষ্ঠানিক পত্র) রাষ্ট্রদূতকে দেয়া হয়।

গত মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমারকে আহবান জানানো হয়।

এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমার সীমান্তেই আছে, তারা জিরো লাইনে নেই। তবে আজ মিয়ানমারের বাহিনী মনে করেছিল সীমান্তে থাকা রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ঢুকবে। এজন্য তারা সেখানে শক্তি প্রদর্শন করেছিল। আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের সাথে যোগাযোগ করেছে।

বান্দরবনের তামব্রু সীমান্তের দেড়শ’ গজের মধ্যে ভারী অস্ত্রসহ মিয়ানমারের অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স অ্যান্ড ট্রেনিং) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুজিবুর রহমান। বিষয়টি গভীর পর্যবেক্ষণে রেখে বিজিবির শক্তি বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আজ বিজিবির সদর দফতর পিলখানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুজিবুর রহমান হক জানান, জরুরি পতাকা বৈঠক আহ্বানের পাশাপাশি মিয়ানমারের অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েনের ঘটনায় বিজিবি প্রতিবাদ পাঠিয়েছে। তামব্রু সীমান্তের জিরো লাইনের কাছে বেশ কিছু রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। এলাকাটি মিয়ানমার অংশে। কিছুদিন ধরে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ ও সেনাবাহিনী তামব্রু সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও উন্নত প্রযুক্তির নজরদারীর যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ করছে। মাইক ব্যবহার করে সেখানকার রোহিঙ্গাদের অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য তারা বারবার তাগাদা দিচ্ছে। এটি গত এক মাস ধরে চলছে।

তামব্রু সীমান্তের জিরো লাইনের কাছে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ছয় হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের সাথে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশ অনুরোধ করেছিল, সাড়ে ছয় হাজার উদ্বাস্তু যেহেতু জিরো লাইনের কাছে মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরেই অবস্থান করছে, তাই তাদের পরিচয় যাচাই ছাড়াই ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক। কিন্তু মিয়ানমার তাতে সম্মতি জানায়নি।

এর পর মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব (পার্মানেন্ট সেক্রেটারি) মিন্ট থো নেইপিডোতে স্থানীয় সাংবাদিকদের আলাপকালে জানান, রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। সীমান্তের জিরো লাইনের অবস্থান নেয়া সাড়ে ছয় হাজার রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাইয়ের কাজ করবে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ। এতে অন্য কোনো পক্ষকে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ দেয়া হবে না।

অন্য দিকে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র উ জেও বলেছেন, সীমান্তের জিরো লাইনের কাছে আশ্রয় নেয়া উদ্বাস্তুদের মধ্যে গত আগস্টে মিয়ানমার নিরাপত্তা চৌকিগুলোর ওপর সমন্বিত হামলাকারী চরমপন্থীরা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। মিয়ানমার যে এক হাজার ৩০০ জনকে চরমপন্থী হিসাবে ঘোষণা করেছে - উদ্বাস্তুদের মধ্যে তাদের কেউ রয়েছে কিনা তা যাচাই করা হবে।

মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির লক্ষে জিরো লাইনে অবস্থান নেয়া উদ্বাস্তুদের ব্যবহার করা হচ্ছে উল্লেখ করে মুখপাত্র বলেন, কিছু গ্রুপ ও সংস্থার কাছ থেকে খাদ্য এবং ওষুধ সরবরাহ পাওয়ার কারণে উদ্বাস্তুরা সেখানে অবস্থান করছে। এসব উদ্বাস্তুকে ত্রাণ সরবরাহ দেয়া থেকে এনজিওদের বিরত রাখতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.